বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ভারত-বাংলাদেশ যুদ্ধ মিরপুরে

imagesবিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো এখনও বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের পোড়ায়। দুই অধিনায়ক অবশ্য পুরনো লড়াইয়ে কী হয়েছে, তা সামনে নিয়ে আসতে রাজি নন। ফতুল্লায় ক’দিন আগে হয়ে যাওয়া একমাত্র বৃষ্টিবিঘ্নিত টেস্ট ম্যাচে বাংলাদেশ ভালো করতে পারেনি। ওয়ানডেতে বাংলাদেশ একদম অন্যরকম। এদিকে মাশরাফিদের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার হিসাব-নিকাশও করতে হচ্ছে। আবার ওয়ানডে সিরিজেও চোখ রাঙাচ্ছে বৃষ্টি। ১৮ জুন বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে বিকেল ৩টায় তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে মাঠে নামবে বাংলাদেশ ও ভারত।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে আজ বৃষ্টি হতে পারে। আবার সুখবরও রয়েছে, বৃষ্টির পরিমাণ হবে কম। রিজার্ভ ডে থাকার কারণে দু’দলের অধিনায়ক স্বস্তি পাচ্ছেন। সর্বনিু ২০ ওভার করে যদি খেলা না হয়, তাহলে ম্যাচের বাকি অংশ হবে তিন ম্যাচের রিজার্ভ ডে’তে। সিরিজের শেষ দুটি ওয়ানডে ২১ ও ২৪ জুন। তিনটি ম্যাচই ডে-নাইট।

গত বছর বাংলাদেশের মোটেও ভালো যায়নি। তবে বছরের শেষদিকে জিম্বাবুয়েকে ৫-০তে হারিয়ে জয়যাত্রা শুরু। এরপর বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা, পাকিস্তানকে ঘরের মাঠে ৩-০তে হোয়াইটওয়াশ করা। ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশ যে ধারাবাহিক, তা এবার প্রমাণ করতে হবে তাদের। মিরপুরে অনুশীলন শেষে বাংলাদেশ অধিনায়ক, কোচ ও নির্বাচকরা মিলে উইকেট বোঝার চেষ্টা করলেন। উইকেটে কিছুটা ঘাস আছে। তবে ব্যাটসম্যানরা সুবিধা পাবেন। ম্যাচটা হতে পারে পেসারদেরও। গত বছর এ জুনেই ভারতের ‘বি’ দলের কাছে সিরিজ ২-০তে হেরেছিল বাংলাদেশ। এবার পূর্ণশক্তির ভারতকে পাচ্ছেন মাশরাফিরা।

ব্যাটিংয়ে ছন্দে রয়েছেন ওপেনার তামিম ইকবাল। বিশ্বকাপে দারুণ পারফরম্যান্সের পর পাাকিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে বড় স্কোর করার আÍবিশ্বাস জুগিয়েছেন আরেক ওপেনার সৌম্য সরকার। তবে ফর্মে থাকা মাহমুদউল্লাহকে ইনজুরির দরুন এই সিরিজে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। মাহমুদউল্লাহর জায়গায় আজ অভিষেক হতে পারে উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান লিটন কুমার দাসের। এর আগে ভারতের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে অভিষেক হওয়া এই ব্যাটসম্যান ৪৫ বলে করেন ৪৪। সাকিব ও মুশফিকের পর ব্যাটিং-অর্ডারে ম্যাচ ফিনিশার হিসেবে সাব্বির রহমান ও নাসির হোসেনের ওপরই আস্থা বাংলাদেশ দলের। সর্বশেষ ম্যাচগুলোতে জয়ে বড় ভূমিকা ছিল পেসারদের। মাশরাফি-রুবেল-তাসকিন ত্রয়ীর সঙ্গে এবার যোগ দিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান।

ভারতের বিপক্ষে তাসকিনের ভালো পারফরম্যান্সের স্মৃতি ও রুবেল-কোহলি লড়াইও ম্যাচে বাড়তি বিনোদন জোগাতে পারে। টেস্টে চার উইকেট নিয়ে সাকিব ছন্দ ফিরে পেয়েছেন। এছাড়া আরাফাত সানি ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সেরা স্পিনার হিসেবে খেলছেন। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে মাশরাফি বাংলাদেশকে বিশ্বের সেরা দলগুলোর একটি মনে করেন। টাইগার অধিনায়কের কথায়, ‘সর্বশেষ ম্যাচগুলোর ফলের নিরিখে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, নিউজিল্যান্ডের জয়ের সমান আমাদের জয়। আমরা এখন সেরা দলগুলোর মতো লড়াই করছি। তবে তা শুধু মুখে বললে হবে না। মাঠে প্রমাণ করতে হবে।’

এদিকে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেয়া এমএস ধোনি ওয়ানডেতে যথারীতি ভারত অধিনায়ক। বিশ্বের সেরা ব্যাটিং লাইনআপ নিয়ে ধোনির লক্ষ্য সিরিজ জয়। ধোনি ফেরায় বিরাট কোহলি কিছুটা ভারমুক্ত হয়েছেন। টেস্টের মতো ভারত ওয়ানডেতেও ছয় ব্যাটসম্যান ও পাঁচ বোলার নিয়ে মাঠে নামতে পারে। ধোনি বলেন, ‘সিরিজ জয়ই আমাদের লক্ষ্য। প্রথম ম্যাচ জিততে পারলে কাজটা আমাদের জন্য সহজ হয়ে যাবে।’ ভারতীয় দলে রয়েছেন ওয়ানডেতে দুটি ডাবল সেঞ্চুরি করা রোহিত শর্মা। ভারতের ব্যাটসম্যানদের স্ট্রাইক রেট ও গড় বাংলাদেশের বিপক্ষে সবচেয়ে বেশি। এর আগে বাংলাদেশে সর্বশেষ তিনটি সিরিজেই জিতেছে ভারত। নতুন সিরিজে, নতুন কিছুর অপেক্ষায় দু’দল।

বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে সর্বশেষ দু’দলের মুখোমুখিতে কিছু বিতর্কিত ঘটনার পর বাংলাদেশের কাছে এই সিরিজ আলাদাভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে মেলবোর্নের লড়াইয়ের ধারাবাহিকতাকে মিরপুরে নিয়ে আসতে রাজি নন টাইগার অধিনায়ক। মাঠের যুদ্ধে জয়ী হতে চান মাশরাফি মুর্তজা। বাংলাদেশ অধিনায়কের সঙ্গে কথা বলার পর একজন ভারতীয় সাংবাদিকদের মন্তব্য, এই না হলে অধিনায়ক! মাশরাফির সবকিছুই পছন্দ তাদের। দু’দিন আগে ব্যাট ধরতে পারছিলেন না তিনি। কাল লম্বা লম্বা সব শটে বল পাঠালেন গ্যালারিতে। নিজের ব্যাটিং ঝালিয়ে নিলেন। মাশরাফি বলেন, ‘আমরা মাঠে অবশ্যই যুদ্ধ করি। কিন্তু এটা এমন না যে, সেটা সত্যিকারের যুদ্ধ। মাঠে খেলার যুদ্ধ থাকেই, আবার পরে হাত মেলাই। তিন-চার মাস আগে যা হয়েছে, কোনো ক্রিকেটার তা মনে রাখেনি। দুর্ঘটনাবশত অনেক কিছু হতে পারে। এখন আমরা নতুন সিরিজের সামনে দাঁড়িয়ে। দর্শকরা হয়তো সেই ম্যাচের কথা মনে করবেন। ক্রিকেটার হিসেবে আমাদের এসব মনে রাখা উচিত নয়। মনে রাখিও না। মানুষের আবেগ তো রুদ্ধ করা যায় না। আমি তারপরও অনুরোধ করব, খেলার জায়গাটাকে খেলা হিসেবেই দেখতে।’

বাংলাদেশের ওয়ানডে দল নিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন বিশ্বে যারা ওয়ানডেতে ভালো খেলছে বাংলাদেশও তাদের মধ্যে পড়ে। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ভারত ভালো খেলছে। আমরাও এখন ভালো ক্রিকেট খেলছি। দলের সবাইকে বলেছি, পরিসংখ্যানের দিক দিয়ে আমরা এখন সবার চেয়ে এগিয়ে। আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে। তবে সেটা মাঠে দেখাতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আর আট-দশটা সিরিজের মতোই এই সিরিজটা। আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ। ভারতের সঙ্গে খেলা সব সময় চ্যালেঞ্জিং। আমাদের ক্রিকেটাররাও তাদের বিপক্ষে পারফর্ম করতে চায়।’

মাশরাফির হাতে ইনজুরি থাকলেও জানালেন তার খেলা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। পেছনের কথা মনে করে চাপ নিতে রাজি নন মাশরাফি। পাকিস্তানের বিপক্ষে ফেভারিট ছিল বাংলাদেশ। এবার ভারতকে ফেভারিট হিসেবে দেখছেন মাশরাফি। তিনি বলেন, ‘কে ফেভারিট বলা মুশকিল। তবে ভারত ফেভারিট। ২০০৭ বিশ্বকাপের পর আমরা যে কোনো দলকে হারাতে পারি। এরপর আমরা অনেক ম্যাচ হারলেও মনোবল হারাইনি।’ সামনে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া। তাদের মতো বড় দলগুলোর বিপক্ষে খেলা রয়েছে। মাশরাফির বিশ্বাস, ভারতের বিপক্ষে ভালো করতে পারলে আত্মবিশ্বাস আরও বাড়বে।

ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজে দুটি ম্যাচ জিততে পারলেই বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন ট্রফিতে খেলা নিশ্চিত হয়ে যাবে। এমন পরিসংখ্যানের সামনে দাঁড়িয়ে কী পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ? মাশরাফ বলেন, ‘এ রকম পরিসংখ্যানের সামনে দাঁড়িয়ে ক্রিকেটারদের মাথায় চিন্তা আসাটা স্বাভাবিক। কিন্তু এটা নিয়ে ভাবলে চলবে না। এই চাপটা সামলে নিতে শিখতে হবে। আমরা উন্নতি করছি। এর থেকেও বড় চাপ আমাদের সামনে আসবে, সেই চাপ সামলে নিতে হবে।’

বাংলাদেশের পেস আক্রমণ নিয়ে মাশরাফি বলেন, ‘যে কোনো সিরিজের শুরুটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ম্যাচ যারা জেতে তাদের জন্য সিরিজ সহজ হয়ে যায়। সবাইকে বলেছি পুরো সিরিজ নিয়ে না ভেবে কালকের (আজ) ম্যাচ নিয়ে ভাবতে।’ বৃষ্টি হলে বাংলাদেশের জন্য খেলা কঠিন হয়ে যাবে বলে এই পেসারের ধারণা। বৃষ্টি যেন না হয় এ কামনাই করছেন তিনি। মাশরাফি বলেন, ‘ছেলেরা এখন অনেক আত্মবিশ্বাসী। ওরা এ মুহূর্তে যে কাউকে চমকে দিতে পারে। দলে কিছু তরুণ প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে। ওরাও সেরাটা দিতে উন্মুখ। আশা করি, ওরা পারবে। আমাদের ব্যাটিং শক্তিশালী, বোলিংও খারাপ নয়।’

ক্রীড়া প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন