বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

বিশ্বে শরণার্থীদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আশ্রয়স্থল পাকিস্তান

images (2)জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক কমিশন ইউএনএইচসিআর জানাচ্ছে, পাকিস্তানে বর্তমানে শরণার্থী সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। ফলে সিরিয়ার ১৫ লাখ ৯০ হাজার শরণার্থী নিয়ে সংখ্যার দিক দিয়ে শীর্ষে থাকা তুরস্কের পরেই অর্থাত্ দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পাকিস্তান। খবর দ্য ডন।

আগামী ২০ জুন বিশ্ব শরণার্থী দিবসকে সামনে রেখে পাকিস্তানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আফগানিস্তানের কনসুল জেনারেল শাহ আহমেদ সাইদ বলেন, ‘সহিংসতা ও নিত্যনতুন সংঘাতের উত্থান এখন বেশ উদ্বেগজনক পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। ফলে বিপুল জনগোষ্ঠী বাস্তুভিটা হারিয়ে পরদেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছে। এটি এমন এক আন্তর্জাতিক সংকট, যাতে বৈশ্বিকভাবে নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে।’

ইউএনএইচসিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়, সিরিয়ায় চলমান সংঘর্ষের কারণে বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শরণার্থীর সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে সংখ্যার দিক দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আফগান শরণার্থীরা। এদের ৯৫ শতাংশই প্রতিবেশী পাকিস্তান ও ইরানে আশ্রয় নিয়েছে। এর আগে ৩ মার্চ ডনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার আফগান শরণার্থী পাকিস্তানের পেশোয়ারে নথিভুক্ত করা হয়েছে।

আহমেদ সাইদ জানান, আফগান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ছিল— এসব শরণার্থীকে দেশে এনে তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা। তবে এ দায়িত্ব তাদের একার পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘শরণার্থীদের পুনর্বাসনে তাদের মনোযোগ বৃদ্ধির জন্য আমরা দাতাগোষ্ঠীর কাছে আহ্বান করে আসছি।’

সত্তরের দশকে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন আফগানিস্তান আক্রমণ করলে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানে আফগান শরণার্থী আসতে শুরু করে। ইউএনএইচসিআরের হিসাবে, বর্তমানে পাকিস্তানে নথিভুক্ত আফগান শরণার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৬ লাখ। তবে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা দাবি করেন, বৈধ ও অবৈধভাবে কমপক্ষে ২ ৭ লাখ আফগান বর্তমানে পাকিস্তানে আশ্রয় নিয়েছে।

নথিভুক্ত শরণার্থীদের সাধারণত একটি প্রুফ অব রেজিস্ট্রেশন (পিওআর) কার্ড দেয়া হয়, যার মাধ্যমে তারা খাদ্য ও আবাসনের মতো প্রয়োজনীয় অধিকার পেয়ে থাকে। তবে সবাইকে এ কার্ড দেয়া হয় না। যাদের কার্ড নেই বা কার্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, পাকিস্তানের পুলিশ তাদের সাধারণত আবারো আফগানিস্তান পাঠিয়ে দেয়।

ওই অনুষ্ঠানে আফগান শরণার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পিওআর কার্ডের প্রতি বেশি জোর দেন আহমেদ সাইদ। শরণার্থীদের কষ্ট লাঘবে এ কার্ড আরো বেশি বিতরণের জন্য তিনি পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

শরণার্থীদের পুনর্বাসন আরো জোরদারের লক্ষ্যে পাকিস্তানের সঙ্গে আফগান সরকার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘শরণার্থীরা আফগানিস্তানে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানের সহায়তা আমাদের প্রয়োজন।’

ওয়েব ডেস্ক
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন