দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্যামসাংয়ের তৈরি গ্যালাক্সি সিরিজের ৬০ কোটি স্মার্টফোন হ্যাকিংয়ের ঝুঁকিতে রয়েছে। গ্যালাক্সি স্মার্টফোনের জন্য উন্নয়নকৃত কিবোর্ড অ্যাপের প্রোগ্রামিং ত্রুটির সুযোগ হ্যাকাররা নিতে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান নাউসিকিউর। হ্যাকাররা চাইলে দূর থেকেই এসব গ্যালাক্সি স্মার্টফোনের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে। খবর এনডিটিভি ও রয়টার্স।
নাউসিকিউর জানায়, হ্যাকিংয়ের ঝুঁকিতে রয়েছে গ্যালাক্সি সিরিজের ৬০ কোটিরও বেশি স্মার্টফোন। এ ফোনগুলোয় স্যামসাং আইএমই কিবোর্ড প্রিইনস্টল করা থাকে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সুইফটকি স্যামসাংয়ের জন্য এ কিবোর্ড অ্যাপ তৈরি করেছে। ব্যবহারকারী চাইলেও এ কিবোর্ড অ্যাপ নিষ্ক্রিয় বা মুছে ফেলতে পারেন না। স্যামসাংয়ের ঝুঁকিপূর্ণ কিছু মডেলের নামও প্রকাশ করেছে নাউসিকিউর। এসব স্মার্টফোনের মধ্যে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইস গ্যালাক্সি এসসিক্স, গ্যালাক্সি এসফাইভ, গ্যালাক্সি এসফোর ও গ্যালাক্সি এসফোর মিনি প্রভৃতি। ডিভাইস ব্যবহারকারীরা অন্য কোনো কিবোর্ড অ্যাপ ব্যবহার করলেও হ্যাকিং ঝুঁকির বাইরে নন। কেননা স্যামসাং ডিভাইসগুলোয় সুইফটকি প্রিইনস্টল করা থাকছে।
সুইফটকি কিবোর্ডের এ ত্রুটি কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা চাইলে ব্যবহারকারীর ডিভাইসের বিভিন্ন সেন্সরের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবেন। এর মধ্যে রয়েছে জিপিএস, ক্যামেরা ও মাইক্রোফোনের মতো সংবেদশনশীল সেন্সর। এছাড়া একজন হ্যাকার আইএমই কিবোর্ডবিশিষ্ট স্মার্টফোনে ব্যবহারকারীর অজান্তেই ক্ষতিকর অ্যাপ ইনস্টল করিয়ে দিতে পারেন। সবচেয়ে আশঙ্কার কথা হ্যাকাররা ব্যবহারকারীর আদান-প্রদান করা কল, মেসেজেও নজরদারি করতে পারেন। এছাড়া চুরি হয়ে যেতে পারে ডিভাইসে তথা ব্যক্তিগত স্পর্শকাতর তথ্য।
গ্যালাক্সি সিরিজের এ ত্রুটি শনাক্ত করেছেন নাউসিকিউর মোবাইল নিরাপত্তা গবেষক রায়ান ওয়েলটন। এ বিষয়ে গত ডিসেম্বরেই স্যামসাং কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়। নাউসিকিউর আরো দাবি করে, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপনস টিমকে (সিইআরটি) অবহিত করা হয়। বিষয়টি জানার পর স্যামসাং চলতি বছরের শুরুতে গ্যালাক্সি ডিভাইসগুলো মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরদের সহায়তায় প্যাচের মাধ্যমে হালনাগাদ করিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু সব অপারেটর ঠিকভাবে এ কাজ করেছে কিনা, তা নিয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি স্যামসাং।
ব্যবহারকারীর নিরাপত্তাহীনতার মাত্রা নির্দেশ করে নাউসিকিউরের পক্ষ থেকে বলা হয়, আপস্ট্রিম ট্রাফিক মোডিফাই করতে পারেন, এমন যে কোনো হ্যাকার এসব ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হবেন। যখন আইএমই কিবোর্ড আপডেট হয় কিংবা ডিভাইস রিবুট হয়, তখন এর নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেন হ্যাকাররা। অনিরাপদ ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকা ডিভাইসগুলো এ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে জানান নাউসিকিউরের গবেষকরা। ব্যবহারকারীদের এ ঝুঁকি এড়াতে পরীক্ষিত ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক কিংবা অন্য মোবাইল ডিভাইস ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। স্যামসাংয়ের পাঠানো প্যাচ ডাউনলোডের জন্য সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক অপারেটরদের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারেন ব্যবহারকারী।
প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদ মাধ্যম অ্যান্ড্রয়েড পুলিশের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে অ্যাপটির উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠান সুইফটকি দাবি করে গুগল প্লে ও অ্যাপস্টোরে যে সংস্করণ রয়েছে, তাতে নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে সুইফটকির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘আমরা স্যামসাং ডিভাইসে ত্রুটির বিষয়ে বেশকিছু প্রতিবেদন গণমাধ্যমে দেখেছি। কিন্তু আমরা নিশ্চিত গুগল প্লে কিংবা অ্যাপলের অ্যাপ স্টোরে সুইফটকির যে সংস্করণ রয়েছে, তাতে এ ঝুঁকি নেই। আমরা এ ধরনের খবরে যথেষ্ট গুরুত্ব দেই। এখনো এ বিষয়ে আরো অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।’
টেকনোলজি ডেস্ক
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply