বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

কাঁচামালের নামে গুঁড়োদুধ আমদানি, আবুল খায়েরের পণ্য খালাস বন্ধ

abul-khairগুঁড়ো দুধের কাঁচামাল আমদানি করলে অগ্রিম মূল্য সংযোজন কর (এটিভি) না দেওয়ার সুযোগ নিতে কাঁচামালের নামে টিনজাত গুঁড়োদুধ আমদানি করে সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে দেশের অন্যতম প্রধান ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আবুল খায়ের গ্রুপ। গ্রুপটির আমদানি করা একটি চালানে এ ধরনের অনিয়ম ধরা পড়ার পর গত দেড় মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে আসা আবুল খায়ের গ্রুপের সবক’টি চালানের খালাস কার্যক্রম স্থগিত করে রাখা হয়েছে। একই প্রক্রিয়ায় আগের বছরগুলোয় রাজস্ব ফাঁকি হয়েছে কিনা, তাও তদন্ত করে দেখছে শুল্ক কর্তৃপক্ষ। বন্দরের একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আবুল খায়ের গ্রুপের আমদানি করা প্রস্তুতকৃত গুঁড়ো দুধের খালাস কার্যক্রম স্থগিত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের অতিরিক্ত কমিশনার মো. আজিজুর রহমান।

উৎপাদকরা গুঁড়ো দুধের কাঁচামাল আমদানি করলে অগ্রিম মূসক (এটিভি) প্রদানের প্রয়োজন নেই। তবে প্রস্তুতকৃত গুঁড়ো দুধ আমদানির ক্ষেত্রে নির্ধারিত কাস্টম প্রসিডিউর কোড (সিপিসি) প্রদর্শন করে ৪ শতাংশ অগ্রিম মূসক প্রদানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আবুল খায়ের গ্রুপ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রস্তুতকৃত টিনজাত গুঁড়ো দুধ আমদানি করলেও প্রকৃত সিপিসি প্রদর্শন না করে অগ্রিম মূসক ফাঁকি দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, খালাস কার্যক্রম স্থগিত রাখা চালানের একটিতে (সি-৪৮৮৭৯৯) রয়েছে অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা ৪৮ লাখ টাকা মূল্যের ২০ হাজার কেজি মার্কস ইনস্ট্যান্ট হোল মিল্ক পাউডার। চালানটিতে প্রস্তুতকৃত গুঁড়ো দুধ আমদানি করা হলেও বিল অব এন্ট্রিতে ৪০০০-২০৬ সিপিসি প্রদর্শন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ সিপিসি ব্যবহার করে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ রয়েছে, যাতে অগ্রিম মূসক মওকুফ করা হয়েছে। অথচ প্রস্তুতকৃত গুঁড়ো দুধ আমদানি করায় আবুল খায়ের গ্রুপের সিপিসি প্রদর্শন করার কথা ৪০০০-২০২, যেখানে ৪ শতাংশ অগ্রিম মূসক দেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। একইভাবে আমদানি করা প্রতিষ্ঠানটির আরো দুটি চালান বন্দরে খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে।

গত দেড় মাসে এসব চালান খালাস না পাওয়ায় খুচরা বাজারে কোম্পানিটির প্যাকেটজাত গুঁড়ো দুধ সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের অতিরিক্ত কমিশনার মো. আজিজুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আবুল খায়ের গ্রুপের প্রস্তুতকৃত গুঁড়ো দুধের চালানের খালাস কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। কারণ এতে অগ্রিম মূসক প্রযোজ্য। এছাড়া উৎপাদনকারী ও আমদানিকারক হিসেবে নিবন্ধিত হলেও তাদের কার্যক্রম বাণিজ্যিক আমদানিকারক হিসেবে গণ্য হয়েছে।’

সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে আটকে দেয়া গুঁড়ো দুধের চালানে অগ্রিম মূসক আদায়যোগ্য হওয়ায় সিপিসি-৪০০০-২০৬-এর পরিবর্তে ৪০০০-২০২ নির্ধারণ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

সি-৪৮৮৭৯৯ চালানটির আমদানি কার্যক্রম পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা চালানটি খালাস করে নিতে গত ৯ মে কাস্টম হাউজে আগাম পত্র দাখিল করে আগ্রাবাদ এলাকার চৌমুহনী ঠিকানার সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কবির এন্টারপ্রাইজ। এজন্য ঋণপত্র (নং-০৪৩৯১৫০১০০৯২) খোলা হয়েছে উত্তরা ব্যাংক লিমিটেডে। চালানটিতে প্রায় ৪৮ লাখ টাকা মূল্যের ২০ হাজার কেজি মার্কস ইনস্ট্যান্ট হোল মিল্ক পাউডার রয়েছে।

এ বিষয়ে আবুল খায়ের গ্রুপের সাপ্লাই চেইন ইনচার্জ মো. শাহনেওয়াজ বলেন, ‘কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্যের চালান আটকে দিলেও আমাদের সরবরাহ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে না। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে গুঁড়ো দুধের চালান শিগগিরই ছাড়িয়ে নেয়া হবে।’

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন