বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ছিটমহলে নাগরিকত্ব চূড়ান্ত ৩০ নভেম্বরের মধ্যে

enclaves-india-blog427-v2ডিম্পল বরা, নয়াদিল্লি থেকে॥

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ছিটমহল বিনিময় শুরু হবে আগামী ৩১ জুলাই মধ্যরাত থেকে শুরু হলেও ছিটমহলের মানুষকের নাগরিকত্ব সমাধান হবে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সীমান্ত সমস্যা নিয়ে এর আগে গঠিত যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যরা এই মাসের মধ্যে সীমান্ত ও ছিট মহল পরিদর্শন করে এ সংক্রান্ত কাগজপত্র তৈরি করবেন। ছিটমহল ও জমি বিনিময়ের পর আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এসব নিয়ে কোনও বিভ্রান্তি দেখা দিলে আলোচনায় বসে তারও সমাধান করবে যৌথ ওয়ার্কিং গ্র“প। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

১৯৭৪ সালের চুক্তি, ২০১১ সালের প্রটোকল কার্যকর করতে দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিবের মধ্যে বিনিময় করা চিঠির বাস্তব প্রয়োগ করতে দুই দেশের ওয়ার্কিং কমিটি সীমান্ত এলাকায় যাবে। ৩১ জুলাই মধ্যরাতে ছিটমহল বিনিময় শুরুর চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরুর আগে ছিটমহলগুলোর চূড়ান্ত কাগজপত্র তারা তৈরি করবেন।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের ১১১টি ছিটমহল রয়েছে, এতে রয়েছে ৩৭ হাজার মানুষ। অন্যদিকে ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলের বাসিন্দা ১৪ হাজার। ২০১১ সালে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে শুমারিতে এই তথ্য পাওয়া যায়। ভারতের ভেতরে থাকা বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলের আয়তন ৭ হাজার ১১০ একর; অন্যদিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের ১১১টি ছিটমহলের আয়তন ১৭ হাজার ১৬০ একর।

চুক্তি কার্যকর হলে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল (৭১১০ একর জমি) ভারতের অংশ হয়ে যাবে। আর ভারতের ১১১টি ছিটমহল (১৭১৬০ একর জমি) বাংলাদেশের অংশ হয়ে যাবে। এগুলোর মধ্যে লালমনিরহাট জেলায় ৫৯টি, পঞ্চগড় জেলায় ৩৬টি, কুড়িগ্রাম জেলায় ১২টি, নীলফামারী জেলায় ৪টি ভারতীয় ছিটমহল রয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী ছিটমহলবাসী তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী নাগরিকত্ব বেছে নিতে পারবেন। ছিটমহল বিনিময়ের ফলে ভারত যে প্রায় ১০ হাজার একর জমি বেশি হারাবে, সেজন্য কোনো ক্ষতিপূরণ পাবে না বলে প্রটোকলে উল্লেখ রয়েছে। প্রটোকলের আওতায় অপদখলীয় ভূমি নিয়ে বিরোধের অবসানও ঘটবে। এতে ভারত অপদখলীয় ২৭৭৭ একর জমির মালিকানা পাবে। আর ২২৬৭ একর জমির উপর বাংলাদেশের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হবে।

তবে ছিটমহলের বাইরেও বেশ কিছু জমি হস্তান্তর করবে দুই দেশ। একে ‘অ্যাডভার্স পজেশন’ (অপদখলীয় জমি) বলা হচ্ছে। দু’দেশের জমির দলিল ঘেঁটে দেখা গেছে, ছিটমহল ছাড়াও ভারতের ভূখণ্ডের ভিতরে বাংলাদেশের বেশ কিছু জমি রয়েছে। সীমান্ত লাগোয়া এই সব জমির বেশির ভাগেই চাষবাস হয়। একই ভাবে বাংলাদেশের মধ্যেও অনেক জমির মালিক ভারত। ছিটমহল হাত বদলের পাশাপাশি ওই জমিও হস্তান্তর হবে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে। বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাবে ২৩৯৮ একর জমি। আর ভারত থেকে বাংলাদেশে আসবে ১৯৫৮ একর জমি।

প্রাথমিক সমীক্ষায় জানা যায়, ভারতে যে ৫১টি বাংলাদেশি ছিটমহল যুক্ত হচ্ছে, তার প্রায় সব বাসিন্দাই ভারতীয় নাগরিক হিসেবে থাকতে চান। অন্য দিকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডের মধ্যে যে ১১১টি ভারতীয় ছিটমহল মিশছে, তার বাসিন্দাদের একটা ছোট অংশ ভারতের মূল ভূখণ্ডে যাওয়ার অপশন দিতে পারেন। এসব ছিটমহল থেকে যারা ভারতে ফিরে যেতে চান তাদের জন্য জন্য কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ, হলদিবাড়ি ও ফুলবাড়ি সীমান্তের তিনটি জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে।

নয়াদিল্লি প্রতিনিধি
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *