ক্রিকেটের আইন বলবে ধোনি অন্যায় কিছু করেননি। তিনি তাঁর পথ ধরেই বলটা ঠেলেই সিঙ্গেল নেওয়ার জন্য ছুটেছেন। বরং মুস্তাফিজই ধোনির দৌড়ের পথের ওপর এসে পড়েন। কিন্তু আইনের ভাষায় সব লেখা থাকে না। আইনের ভাষাই শেষ কথা নয়। ধোনি চাইলে মুস্তাফিজের সঙ্গে ধাক্কাটা এড়িয়েও যেতে পারতেন। বরং রিপ্লে দেখে মনে হয়েছে, ভারতীয় অধিনায়ক যেন ক্ষণিকের জন্য মেজাজ হারিয়ে ইচ্ছে করেই ধাক্কাটা মেরেছেন।
পলকা শরীর। এখনো বয়স ২০ বছরও হয়নি। ওয়ানডে খেলতে নেমেছেন আজই প্রথম। সেই মুস্তাফিজ ধোনির মতো পেটানো শরীরের ধাক্কা সামলে উঠতে পারবেন কেন? এর আগে আন্তর্জাতিক ম্যাচই খেলেছেন একটি। সেটিও টি-টোয়েন্টি। ১১ বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা ভারতীয় অধিনায়ক কি পারতে না সংঘর্ষটা এড়াতে?
বলের দিকে চোখ ছিল মুস্তাফিজের। ধোনিরও। কিন্তু বলটা মিড অফের দিকে গিয়েছিল বলে মুস্তাফিজ ঘুরে গিয়েছিলেন। পেছন থেকে কে আসছে দেখার উপায় ছিল না তাঁর। কিন্তু ধোনি স্ট্রাইকিং প্রান্ত থেকে আসছিলেন। প্রথম দিকে চোখে না পড়লেও শেষ মুহূর্তে ঠিকই মুস্তাফিজকে দেখতে পান। আর সেই সময়ই সরে যাওয়ার বদলে যেন ইচ্ছে করেই ধাক্কা মেরে মুস্তাফিজকে সরিয়ে দেন। এর পর আম্পায়ারের কাছে অভিযোগও করেন।
আইনত ধোনি ঠিক আছেন। কিন্তু ভারতীয় অধিনায়কের যে ভাবমূর্তি, এর সঙ্গে এটি যেন বড্ড বেমানান। এমনিতে ২০ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে ভারত ধুঁকছিল। ভীষণ চাপের মুখে পড়ে গিয়েছিল। হয়তো সেই চাপেরই বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু আজ থেকে বহু দিন পরও যদি এই ঘটনার ফুটেজ দেখেন, ধোনি নিশ্চয়ই অনুতপ্ত হবেন।
ক্রীড়া প্রতিবেদক, মিরপুর থেকে
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


