মুসলিমদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের মাস রমজানে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বরাবরের মতোই অতিরিক্ত মুনাফা ও মানুষকে ঠকাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। রাজধানী ঢাকাতে প্রথমদিনেই যেকোনো পণ্যের দাম হঠাৎ করেই বাড়ানো হয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নিউমার্কেট, হাতিরপুল, ফকিরেরপুল, গোপীবাগ ও মুগদাবাজার ঘুরে ইফতারি পণ্যের বাজারের এই চিত্র পাওয়া গেছে। এদিকে ঢাকায় প্রশাসনের কোনো নড়াচড়া না থাকলেও অবশ্য চট্টগ্রামে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানের কারণে পণ্যমূল্য কিছুটা নিয়ন্ত্রণের দিকে যাচ্ছে।
রোজা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ইফতারি তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে গেছে প্রায় দ্বিগুণ। এই বৃদ্ধির হার কেজিতে ৫ টাকা থেকে ৫০ টাকা। এরমধ্যে পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচামরিচ, আলু, বেগুন, টমেটো, শসা, ধনেপাতা, লেবু ও আদার দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি।
আলুর দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে। আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি। যেটা গত সপ্তাহে ১৬ থেকে ১৮ টাকায় পাওয়া গেছে। আলুর তৈরি চপ ইফতারিতে জনপ্রিয় খাবার। বেগুন বিক্রি হচ্ছে মান ও জাতভেদে ৬০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে। গত সপ্তাহে এসব বেগুন ৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। বেশি বেড়েছে লম্বা বেগুনের দাম। লম্বা বেগুন মান ভেদে ৭০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আর গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে।
লেবুর দাম বেড়েছে হালি প্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত। প্রতি হালি বড় সাইজের লেবু ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ১৫ থেকে ২০ টাকা ছিল।
শসার দাম বেড়েছে কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা। বর্তমানে শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কোন কোন বাজারে অবশ্যই ৪০ টাকায়ও মিলছে শসা।
মুড়িকে বাংলাদেশিদের ইফতারির প্রধান উপকরণ বলা যায়। ইফতারিতে যে আয়োজনই হোক না কেন মুড়ি অবশ্যই থাকে। ইফতারির এই প্রধান আকর্ষণের দাম বেড়েছে কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা। মেশিনে ভাজা মুড়ি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। আর হাতে ভাজা মুড়ি বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে।
পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। রসুনের দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ টাকা। বর্তমানে আমদানি করা রসুন ১০০ থেকে ১১০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
কাঁচা মরিচের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এক সপ্তাহে কাঁচা মরিচের কেজি ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। শুক্রবার কাঁচা মরিচের মান ও বাজার ভেদে সেটি বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে।
টমোটে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে। এক সপ্তাহ আগে টমোটোর দাম ছিল প্রতি কেজি ২০ থেকে ৩০ টাকা।
বেড়েছে ধনে পাতার দামও। আগে যতটা ধনে পাতা ৫ টাকায় পাওয়া যেতো সেই পরিমাণ ধনে পাতা এখন কিনতে হচ্ছে ১০ টাকায়।
এছাড়া পাম অয়েলের দাম বেড়েছে। ইফতারি তৈরিতে এই তেলের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। হোটেল, রেস্তোরাঁয় সব তেলেভাজাই খাবার ভাজা হয় পাম অয়েলে।এই তেলের দাম প্রতি লিটারে ২ টাকা বেড়ে ৬০ থেকে ৬২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এসব ইফতারি পণ্যের চড়া দামের সুযোগে অন্যান্য সবজিরও দাম বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
মিস্টি কুমড়া, ঝিংগা, কাঁচাপেপে, বরবটি, কচুরলতি, ধুন্দল, চিচিংগা, পটল, চালকুমড়া, ঢেঁড়স, করলা, উচ্ছে, লাল-পুই শাকের দাম কেজিতে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


