মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬

ভারতের পরাজয়ে বাংলাদেশি হিন্দুদের মন খারাপ!

darpan-kabirদর্পণ কবীর, নিউইয়র্ক॥

হিন্দু সম্প্রদায়ের দেশপ্রেম বটে!
বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ভারতকে পরাজিত করার পর নিউইয়র্কে বসবাসকারী কিছু পাসপোর্টধারী বাংলাদেশির মন ভীষণ খারাপ। পাসপোর্টধারী বললাম,কারণ-তারা বাংলাদেশি হলেও তাদের সব বিনিয়োগ ভারতে-মানে পশ্চিমবঙ্গে। বাংলাদেশে তাদের পূর্ব-পুরুষরাও জমি ক্রয় বা সম্পদ বা সম্পত্তি করতেন না। তারাও করেন না। সঙ্গত কারণও আছে-নিরাপত্তাহীনতা। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হিন্দু সম্প্রদায় নির্যাতিত-নিপীড়িত হয়না-এ কথা আমি বিশ্বাস করি না। তবে তাদেরও দেশপ্রেম নিয়ে সন্দেহ আছে। তারা ভারতকে নিজের দেশ ভাবতে পছন্দ করেন। এটটাও ধর্মীয় সংকীর্ণতা। মানসিক হীনমন্যতা। সম্প্রতি পাকিস্তানকে বাংলা ধোলাই করার পর আমার একজন শ্রদ্ধেয় দাদা উল্লাসে নাস্তা খাওয়ালেন। সেদিন তাকে যখন বললাম- বাংলাদেশ ভারতকে হারাবে এবং বিশ্বকাপে ভারত নোংরা কাজ করেছে- তখন দাদা উল্টো প্রসঙ্গ টেনে বললেন- ভারত আছে বলে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আছে। এ সব নিয়ে তর্ক এবং মৃদু মন-মালিন্য হলো। যাই হোক-ভারতের পরাজয়ের পর ঐ দাদা আমাকে ফোন করে উল্লাস প্রকাশ করেননি এবং নাস্তা খাওয়ার প্রস্তাবও দেননি। তিনি চুপসে গেছেন।

এখানে (নিউইয়র্কে) যারা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ করেন-তাদের অধিকাংশ জনই ধমীর্য় চেতনায় কট্টরপন্থী। যেমন কট্টরপন্ধী মুসলমানদের আমরা ‘জঙ্গি’ বলি তেমনি। কিন্তু তাদের ‘জঙ্গি’ বলা এখনো শুরু হয়নি। নিজেদের প্রগতিশীল দাবি করে আসছেন। এই জঙ্গি গোষ্ঠীর একজন শীতাংশু গুহ, সম্প্রতি ঢাকার দুটি দৈনিকে এক প্রতিবেদনে লিখেছেন স্বাধীনতার আগ এবং পর থেকে শতকরা কতজন হিন্দু দেশান্তরী হয়েছেন। সকলেই নির্যাতিত ছিলেন। তার প্রতিবেদনটি হিন্দ্র সম্প্রদায়ের পক্ষে-একপেশে মনে হয়েছে। তিনি পরিশেষে লিখেছেন-এর রোধ করা সম্ভব, যদি সব হিন্দু ঐক্যবদ্ধ হতে পারি। তার এই কথাটা আমার ভাল লেগেছে। নির্যাতিত হলেও কেন তারা দেশ ছাড়বেন? আমরা যারা জন্মসূত্রে মুসলমান, তারা কি নানাভাবে দেশে-সমাজে নিপীড়িত-নির্যাতিত হচ্ছি না? দুর্বলের ওপর সবলের নিষ্পেষণ কোথায় হচ্ছে না? কোনও রাষ্ট্রে বা কোন সমাজ-জনপদে হচ্ছে না? সব সময়, কালে কালে এ ঘটনা ঘটছে।

ইহুদীরা চরমভাবে নির্যাতিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেও তাদের দেশপ্রেম ফুরিয়ে যায়নি। অনেক পরে হলেও তারা ইসরাইল নামক রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা করেছে। অনেক ইহুদী যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে ইসরাইলে বাস করছে। এমন উদাহরণ, একটিও নেই যে, দেশান্তরী হওয়া কোন হিন্দু পরিবার, পশ্চিম বাংলা থেকে নিজ দেশের ভুমিতে ফিরে এসেছে। কারণ, দেশপ্রেমের অভাব।

নিউইয়র্কে প্রায় দেড় বছর আগে আমার দেশ পত্রিকার একজন সহ-সম্পাদক (হিন্দু সম্প্রদায়) এবং নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক জন্মভূমির সম্পাদকের আয়োজনে একটি সেমিনার হয়েছিল জ্যাকসন হাইটসের পালকী পার্টি সেন্টারে। সেদিন বিভিন্ন মিডিয়ার সম্পাদক-সাংবাদিকরা বক্তব্য রেখেছিলেন। ঐ সভায় বাংলাদেশের হিন্দু নির্যাতনের নানা কথা বলা হয়েছিল। আমি শুধু বলেছিলম-হিন্দু সম্প্রদায় কেন দেশ ছাড়বেন? কেন তারা বাংলাদেশে সম্পদ করেন না। কেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত হিন্দুরা ভারতে রেমিট্যান্স পাঠান? উদাহরণও দিয়েছিলাম কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে। কেউ এ নিয়ে কথা বলেননি। আমার দিকে তারা বাঁকা চোখে চেয়েছিলেন।

আরেকটি কথা বলতে চাই- পশ্চিম বাাংলার হিন্দ্র সম্প্রদায় কি উদার? না। তারা আমাদের দিকে শ্লেষের চোখে তাকান। অবজ্ঞা প্রকাশ করেন। তারা কট্টর মনভাবাপন্ন। আমাদের লেখা কলকাতার ম্যাগাজিন-পত্রিকায় ছাপতে চায় না। দেশ পত্রিকায় নন্দিত লেখক হুমুয়ুন আহমেদের উপন্যাস ছাপা হলেও তা কখনও পাঠকপ্রিয়তা পায়নি। অথচ তাঁর চেয়ে কম গুণী লেখকের উপন্যাস ভাল চলে কলকাতায়। খোদ সমরেশ মজুমদার, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় বিভিন্ন সময়ে বলেছেন-পশ্চিম বাংলা’র পাঠকরা ভীষণ কট্টরপন্থী। তারা বাংলাদেশের লেখকদের বই পড়তে চান না। প্রয়াত লেখক সুনীলও এ কথা বলেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে ‘বঙ্গ সম্মেলন’ হয় প্রতিবছর। তারা বলেন-এটি পশ্চিম বাংলা ও বাংলাদেশীদের সাংস্কৃতিক উৎসব। আসলে কি তাই? তারা তো পশ্চিম বাংলা কেন্দ্রিক অনুষ্ঠান করেন। ঐ দাদারা প্রতি বছর কতিপয় ও কয়েকজন বাংলাদেশিকে নামে মাত্র সম্পৃক্ত করেন বটে, আমাদের কমিউনিটি সম্পর্কে কোনও ধারণা রাখেন না। বরং উপেক্ষা ও অবজ্ঞার শিকার হচ্ছি আমরা। কলকাতার বাসিন্দা এমন কয়েকজন প্রবাসী দাদা একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে বঙ্গ সম্মেলনের নামে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। তবে তাদের অনুষ্ঠানের মান অনেক ভাল। তাই বলে আমাদের প্রতি বৈষম্য প্রকাশ কি মেনে নিতে হবে? এই দাদাদের উন্নাসিকতা ও দম্ভের জবাব দিতেই ফোবানা সম্মেলন শুরু হয়েছিল। যা এখন বিভক্তির কাটায় রক্তাক্ত!

কথাগুলো বললাম.মনে মধ্যে এর বুদবুদ অনেকদিন ধরেই চলছিল। আজ ঢেলে দিলাম। তবে ধর্মীয়ভাবে কোনো গোষ্ঠীকে বা ব্যক্তিগতভাকে কাউকে আঘাত দেয়ার জন্য এই লেখা লিখিনি।

(নিউইয়র্ক প্রবাসী সাংবাদিক দর্পণ কবীরে ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে নেওয়া)

নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

ঢাকায় ১৮ জুনের খেলা নিয়ে আরও পড়ুন:

১। ভারত বিধ্বস্ত ঢাকায়, বিশ্বকাপের প্রতিশোধ বাংলাদেশের

২। ধোনি ইচ্ছা করেই মুস্তাফিজকে ধাক্কা দেন: ম্যাচ রেফারি

৩। ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের নয়া রেকর্ড 

৪। ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশের দৃষ্টিকটূ উল্লাস

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *