পুলিশের সঙ্গে কথা কাটাকাটির জের ধরে এক যুবকে নির্যাতনের দায়ে ১৪ পুলিশকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। হবিগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে যে যুবককে নির্যাতন করা হয়েছে, আসলে সেই যুবক কথা কাটাকাটি করা যুবকের ভাই। বৃহস্পতিবারের কথা কাটাকাটি ঘটনার পর শনিবার পুলিশ ওই যুবকের ভাইকে নির্যাতন করে, পরে বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠলে এই ১৪ জনকে প্রত্যাহার করা হয়।
হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলাম জানান, প্রত্যাহার করা ১৪ জনের মধ্যে পরিদর্শক জামাল উদ্দিনকে সিলেট জেলা পুলিশে সংযুক্ত করা হয়েছে।
ওই ঘটনার একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, গত বৃহস্পতিবার কয়েক জন তরুণ হবিগঞ্জ পুলিশ লাইন এলাকার একটি দোকানে বাংলাদেশ-ভারতের ক্রিকেট খেলা দেখছিলেন। এ সময় গোপায়া গ্রামের আক্তার মিয়ার সঙ্গে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনের কনস্টেবল সোহাগের তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর শুক্রবার শরিফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি বিষয়টি মীমাংসা করে দেন।
কিন্তু ওই মীমাংসা মেনে নিতে পারেননি কনস্টেবল সোহাগ। তিনি ওই দিন রাত সাড়ে ৭টার দিকে পুলিশ লাইনের পরিদর্শক জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে ৮-১০ জন পুলিশ সদস্যকে নিয়ে শরিফুল ইসলামের দোকানে তাঁকে খোঁজ করেন। কিন্তু তাঁরা তাঁকে না পেয়ে তাঁর ছোট ভাই আরিফুল ইসলামকে মারধর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা হবিগঞ্জ-ধুলিয়াখাল সড়ক অবরোধ করেন। তারা প্রায় তিন ঘণ্টা সড়কটি অবরোধ করে রাখেন। খবর পেয়ে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার সাজ্জাদ ইবনে রায়হান ও হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজিমুদ্দিন ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা পুলিশ লাইনে ধরে নিয়ে যাওয়া আরিফুলকে উদ্ধার করেন। পাশাপাশি ওই ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে এলাকাবাসী অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় আজ শনিবার অভিযোগ ওঠা পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
তবে গোপায়া গ্রামের বাসিন্দারা এতে সন্তুষ্ট নন। ওই গ্রামের ফিরোজ মিয়া বলেন, পুলিশ বিনা অপরাধে আরিফকে মারধর এবং নির্যাতন করেছে।
সংবাদদাতা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


