বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ভারতকে ফ্রি ট্রানজিট দেবে না বাংলাদেশ, যাচ্ছে নয়া প্রস্তাব

Transit-feeপণ্য পরিবহন সহজ করা, পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সমুদ্রপথে বাণিজ্য খরচ কমানোর মতো কারণে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে নৌ ও সমুদ্রপথে ট্রানজিট পাচ্ছে ভারত। এই ট্রানজিটের জন্য ফি না নেওয়ার একটি কথা থাকলেও এখন ওই অবস্থান থেকে সরে যাচ্ছে হাসিনা সরকার। নৌ প্রটোকলের আওতায় ফি নির্ধারণের জন্য বাংলাদশের পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাব ভারতের কাছে দেওয়া হচ্ছে। এতে মূলত ফ্রি ট্রানজিটের বদলে যৌক্তিক ফি আদায়ের কথা বলা হয়েছে।

বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এ প্রস্তাবের মাধ্যমে দুই দেশের সরকারের প্রতিনিধিদের নিয়ে জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিটি (জেটিসি) গঠন করা হবে, কমিটি ট্রানজিট-সংক্রান্ত ফি, সার্ভিস চার্জ, লেভিসহ নৌ প্রটোকলের বিভিন্ন প্রস্তাব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দুই দেশের সরকারের কাছে সুপারিশমালা জমা দেবে।

জানা গেছে, বাণিজ্য চুক্তির আওতায় অভ্যন্তরীণ নৌপথে ভারতীয় পণ্য ট্রানজিটের যে প্রচলিত প্রটোকল (পিআইডব্লিউটিটি) ছিল তা সংশোধন করা হয়েছে। ৬ জুন ঢাকায় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এ-সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই ও হস্তান্তর করা হয়। সেখানে সংশোধিত প্রটোকলের বিভিন্ন বিষয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য এ ধরনের জেটিসি গঠনের কথা বলা হয়েছে।

সূত্র জানায়, ঢাকায় নৌ ট্রানজিটের প্রটোকল সই হওয়ার আগে দিল্লিতে এ নিয়ে দুই দেশের নৌ-সচিবের মধ্যে বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথে ভারতের পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে টনপ্রতি যে শুল্কহার তা হ্রাস করার পাশাপাশি ট্রানজিট কার্গোর কাছ থেকে বাংলাদেশের নেওয়া ব্যাংক গ্যারান্টি প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে ভারত। নয়াদিল্লি বলেছে, এ ধরনের ব্যাংক গ্যারান্টি পরিবহন ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। এ ছাড়া আগের প্রটোকলে আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে ট্রানজিটের পণ্য ভারতের শেরপুর (আসাম) সীমান্ত পর্যন্ত বাংলাদেশি ট্রাক ও ট্রাক্টরে পরিবহনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি থাকলেও এবার ভারত তা সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে।

ভারত চায় আসামের শেরপুর সীমানার বদলে আশুগঞ্জ বন্দরে আনা ট্রানজিটের পণ্য যেন আখাউড়া থেকে আগরতলা পর্যন্ত ট্রাক ও ট্রাক্টরে পরিবহনের সুযোগ দেওয়া হয়। দিল্লির বৈঠকে ভারতের দেওয়া এ ধরনের সংশোধনীর প্রস্তাবগুলো দুই দেশের মধ্যে গঠিত জেটিসির বৈঠকে চূড়ান্ত করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয় বাংলাদেশ। এখন ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জেটিসি গঠনের প্রস্তাব যাচ্ছে ভারতে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব শফিক আলম মেহেদী এই প্রসঙ্গে বলেছেন, সংশোধিত নৌ প্রটোকলের ট্রানজিট-সংক্রান্ত মাশুল নির্ধারণ ছাড়াও ওই প্রটোকলের ব্যাপারে দুই দেশের পক্ষ থেকে সংশোধনীর যেসব প্রস্তাব রয়েছে সেগুলোও পর্যালোচনা করবে দুই দেশের এ জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিটি।

তিনি আরও জানান, ‘আমাদের পক্ষ থেকে জেটিসি সম্প্রসারণের প্রস্তাব রয়েছে। জেটিসিতে আগে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং বিআইডব্লিউটিএ’এর প্রতিনিধি থাকলেও এবার তা সম্প্রসারণ করে উভয় দেশের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সমুদ্র পরিবহন অধিদফতরের দুই প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।’

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির আওতায় ১৯৭২ সাল থেকে প্রটোকল অন ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রেডের মাধ্যমে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথে পণ্য পরিবহন সুবিধা পেয়ে আসছে ভারত। এ জন্য নৌপথের নাব্য ধরে রাখতে বিআইডব্লিউটিএকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দেয় ভারত। বাণিজ্য চুক্তির সঙ্গে মিল রেখে এ প্রটোকলের মেয়াদও ছিল তিন বছর। ঢাকায় দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এবার প্রটোকলের মেয়াদ পাঁচ বছর বৃদ্ধি করে এমওইউ সই হয়েছে, যা কার্যকর ধরা হয়েছে গত মার্চ থেকে। ২০২০ সাল পর্যন্ত এই চুক্তি কার্যকর থাকবে।

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন