বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ধান্দাবাজদের সামলান, টিউলিপকে প্রস্ফুটিত হতে দিন

Foisol-Choudhuryরেজা আহমদ ফয়সল চৌধুরী, লন্ডন॥

প্রধানমন্ত্রীর লন্ডন সফর নিয়ে এর আগেও একটি লেখা লিখেছিলাম, সেখানে বেশ কিছু প্রসংঙ্গের অবতারনা আমি করেছি। ভেবেছিলাম আর লিখব না। তিন দশকের সাংবাদিকতা জীবনে লিখে যা অর্জন করেছি, সেসবের প্রধানতম অর্জন হলো মানুষের শত্রুতা আর দুশমন সৃষ্টি। সমালোচনা কিংবা নিরেট সত্য কথাও যখন তিল পরিমান স্বার্থেও আঘাত দেয়,আমরা সেই সমালোচনাকে মনে করি শত্রুতা। আত্বসমালোচনা, আত্ম-উপলব্ধির বিষয়গুলো এখন আছে কেবল বাংলা অভিধানেই, আমাদের জীবনে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রবলভাবে অনুপস্থিত। অথচ, সমালোচনা না থাকলে কীভাবে আসবে শুদ্ধতা ?

আমরা জাতি হিসেবে বিভেদ আর কোন্দল পরায়ণ। ভারত ভেঙ্গে মুসলমানদের জন্য আলাদা রাষ্ট্রের জন্য অগ্রণী ভূমিকার ক্ষেত্রে পাকিস্তানীদের চেয়ে বাঙ্গালীই রেখেছিল অগ্রণী ভুমিকা। আবার পাকিস্তান ভেঙ্গে মহান মুক্তি সংগ্রামের পথ দিয়ে অভ্যুদয় হয়েছিল স্বাধীন দেশমাতৃকার। সেই স্বাধীন দেশে স্বাধীনতার নায়ককে আমরা স্বপরিবারে হত্যাকারীর জাতি, এটাতো অস্বীকার করার উপায় নেই। দেশ বলুন আর বিদেশ অথবা বিলেতের নিজেদের কমিউনিটি, সবখানেই আমরা নিজেরাই জ্বালাই বিভেদের আগুন, কোন্দলের অনল। সে যাক, এ নিয়ে আর আপনাদের ধৈর্যচ্যুতি ঘটাতে চাই না।

প্রিয় পাঠক, আপনারা জানেন যে এবারের ব্রিটেনের সংসদ নির্বাচনে তিন জন ব্রিটিশ বাঙালি এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। এটি আমাদের বাঙালিদের কষ্টের ফসল, আন্দোলনের ফসল। ব্রিটেনের বৃহৎ এথনিক মাইনোরিটি কমিউনিটি বাঙ্গালি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে শুরু করে ব্রিটেনের সাথে বাংলা আর বাঙ্গালির সম্পর্ক শত বছরের। তারপরও দুঃখজনকভাবে সত্য, ব্রিটেনের ক্ষমতার কেন্দ্রে বাঙ্গালির প্রতিনিধিত্ব অনেক কম। অন্তত ভারতীয় কিংবা নিদেনপক্ষে পাকিস্তানিদের তুলনায়ও। অবশ্য কারণ আছে যথেষ্ট, ১৯৯৭ সালে আমাদের এমপি হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু হয়নি, দলাদলির কারণে। সেই এমপি হলেন ২০০৬ সালের নির্বাচনে, প্রথম বাঙালি এমপি হলেন সিলেটের বিশ্বনাথের ভুরকি গ্রামের রুশনারা আলী।

এবারের নির্বাচন নিয়ে আমার তেমন কোনো মাথাব্যাথা ছিলনা। কে নমিনেশন পাচ্ছেন কে পাচ্ছেন না আমি কোনো খোজ খবর রাখিনি। চ্যানেল আই ইউরোপের স্থানীয় কমিউনিটি নিউজ সপ্তাহে তিনদিন, এ তিনদিনের খবরে আমি দেখে নিয়েছিলাম কে কোথায় নির্বাচন করছেন।

গত ২০১৪ সালের নভেম্বর অথবা ডিসেম্বর মাসে চ্যানেল আই’র এমডি ফরিদুর রেজা সাগর ভাইর ফোন বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলছিলাম। সাগর ভাই জানতে চান টিউলিপ যে নির্বাচন করছেন তিনি কি পাশ করবেন, সাগর ভাইকে বলি- সত্য কথা বলতে কি আমি জানিনা, সাগর ভাই বললেন, একটু খোঁজ খবর নাও। বাঙালি যে কজন এমপি দাড়িয়েছেন তাদের সবাইকে সর্বচ্চো কাভারেজ দাও, দেশেও নিউজ পাঠাও, ইত্যাদি। সাগর ভাইকে আশ্বস্ত করলাম। ওই দিনই আমি অফিসে এসে নিউজ এডিটর মুনজের চৌধুরীকে ডেকে সাগর ভাইর কথা বলি, মুনজের চৌধুরী যথাযথ ভাবে দায়িত্ব পালন করার প্রতিশ্রুতি দেন। টিউলিপ যে এলাকা থেকে নির্বাচন করেছেন সে এলাকা চ্যানেল আই লন্ডনের অফিস থেকে প্রায় ১০/১৫ কিলোমিটার দুরে। আমরা ইষ্ট লন্ডনে, টিউলিপ ওয়েষ্ট লন্ডনে হ্যামস্টেড ও কিলবার্ন আসনে।

সাগর ভাইর বলার পর খোঁজ খবর নেয়া শুরু করলাম টিউলিপের ব্যাপারে। এতদিন শুনছিলাম, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ নাকি টিউলিপের নির্বাচনে সব ধরনের সহযোগিতা করে আসছেন। সমমনা অন্য এলাকার ভোটারদের ঠিকানা ট্রান্সফার করে ভোটার বাড়াচ্ছেন- এমনতর আরো কত গুঞ্জনের মাছি যে স্বেচ্ছায় ছড়িয়েছেন কিছু ব্যাক্তি, ব্যাক্তিস্বার্থ সিদ্ধির আশায়। কিন্তু খবর নেয়ার পর দেখলাম ঘটনা সম্পূর্ণ উল্টো, টিউলিপের নির্বাচনী এলাকায় বসবাস করেন এবং লেবার পার্টির দীর্ঘদিনের নেতা ব্রিটিশ বাঙালি পারভেজ আহমদ। পারভেজ ভাই আমার অনেকদিনের পরিচিত, আমি জিজ্ঞাস করি পারভেজ ভাই টিউলিপের নির্বাচনে কে বা কারা প্রধানত সহযোগিতা করছেন? পারভেজ ভাই হাসেন, কিছু বলতে চান না পারভেজ ভাই। পরে শুনলাম এই পারভেজ ভাই-ই সেই মূল ব্যাক্তি যিনি টিউলিপকে সর্বপ্রকারেরর সহযোগিতা করেছেন পরম আন্তরিকতায়, কোনও ধরনের প্রাপ্তির গণ্ডির বাইরে থেকে। পরে একদিন পারভেজ ভাই বললেন টিউলিপের নির্বাচনে স্কটল্যান্ড থেকে শুরু করে পুরো ব্রিটেন থেকে লোকজন এসে সহযোগিতা করেছে, এখানে এককভাবে কারো কোনো কৃতিত্ব নেই। আওয়ামী লীগ যে কিছু করেনি তা বলছি না। বিভিন্ন সময় লিফলেটিং এর কাজ করেছে, ভোট কর্মীর কাজে নেমে ফটোসেশনের ফটো আর ফেসবুক রাজনীতি করেছে।

এর বিপরীতে এখানকার বিএনপি যে গর্হিত এবং ভাষায় প্রকাশের অযোগ্য কাজটি করেছে রাস্তায় নেমে, শোডাউন করে এমনকি ভোটের দিন টিউলিপবিরোধী ক্যাম্পেইন করে বিদেশের বুকে স্বদেশি নিজেদের কন্যাসম মেয়েটিকে পরাজিত করার জন্য নিজেদের অর্ধ-উলঙ্গ স্বরূপ সদর্পে উলঙ্গতার বিকারে বিপুল বিক্রমে প্রদর্শন করেছে।

আজ টিউলিপের জয়ের পেছনে এখানকার কিছুসংখ্যক আওয়ামী লীগের লোকেরা, ক্রেডিট আওয়ামী লীগের- একথা বলা হলে অর্ধ-সত্যকেও তা হার মানাবে। তা ছাড়া বাঙালি ভোটারের সংখ্যাও এ আসনে পুর্ব লন্ডনের বিচারে, একেবারে নগন্য, অত্যন্ত কম। টিউলিপ ছিলেন ক্যামডেন কাউন্সিলের কাউন্সিলার। নির্বাচনের বছর দেড়েক বাকি থাকতেই তিনি রুটিন ক্যাম্পেইন শুরু করেন, একেবারে নিরবে-নিভৃতে এবং বেশিরভাগ সময়ই একা হেটেছেন দুয়ার থেকে দুয়ারে, এভাবেই তিনি স্থান করে নিয়েছেন হ্যামষ্টেড-কিলবর্নের ভোটারদের হৃদয় দুয়ারে।

এদিকে টিউলিপের বিপরীতে যিনি প্রার্থী কনজারভেটিব পার্টির সায়মন মার্কাস একদিন চ্যানেল আই ইউরোপের লাইভ টক-শো পলিটিক্স এন্ড বিহাইন্ড এ গেষ্ট হিসেবে এলেন। সায়মনকে আমি চিনি অনেকদিন আগ থেকে। অনুষ্ঠান শেষে সায়মন আমার রুমে এসে নির্বাচনে তাকে সহযোগিতা করার জন্য একান্ত অনুরোধ করেন। আমি সায়মনকে বলি- আই উইল ট্রাই মাই লেভেল বেষ্ট। সায়মন বিদায় নেন। আমি হাফ ছেড়ে বাঁচি।

প্রিয় পাঠক এখানে শেষ নয়। গত মার্চ অথবা এপ্রিল মাসের এক শনিবার আমি ঘুম থেকে উঠছি দেরি করে, সকাল ১১টা , দেখি আমার স্ত্রী তৈরি হচ্ছেন, জিজ্ঞাস করি সাত সকালে কোথায় যাও, স্ত্রী বলে হ্যামষ্ট্যডে যাচ্ছি কনজারভেটিব পার্টি থেকে সায়মন দাড়িয়েছে তাকে সহযোগিতা করতে হবে। আমার তো আকাশ ভেঙ্গে মাথায় পড়ার অবস্থা। কথা বলে বুঝলাম, পেশায় ফুলটাইম চিকিৎসক ও সিনিয়র জিপি আমার স্ত্রী সম্ভবত খেয়াল করেনি যে, টিউলিপ লেবারের টিকিটে সায়মনের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দিতা করছে। কৌতুহলী পাঠককে এ তথ্যটি জানিয়ে নির্ভার করতে চাই, আমার স্ত্রী তাঁর ছাত্রজীবন থেকেই ব্রিটেনের মেইনস্ট্রিম পলিটিকসে সক্রিয়। টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাচিত কাউন্সিলার ছিলেন। কনজারভেটিভ পার্টি করেন দীর্ঘদিন থেকে। এখন যদিও একমাত্র সন্তান আর পেশাগত ব্যাস্ততায় রাজনীতিতে আগের মতো তিনি সক্রিয় হতে পারছেন না সময়ের অভাবে।

যাহোক, মূল প্রসঙ্গে আসি, স্ত্রীর ওই কথায় আমি ঠিক কি বলবো বুঝে উঠতে পারছিলাম না। কারণ বাংলাদেশে যারা বড় হয়েছেন তাদের চিন্তা চেতনার সাথে লন্ডনে বড় হওয়া একজন মানুষের চিন্তা চেতনার বিস্তর ফারাক, আমি যদি বলি টিউলিপ প্রতিদ্বন্দিতা করছে হ্যামস্টাড থেকে, তোমার সেখানে না যাওয়া ভালো, স্ত্রী সাথে সাথে বলবে সো হোয়াট? এরই মধ্যে আমার মা ফোন করে বসেন আমার স্ত্রীকে, মা অসুস্থ তাকে যেতে বলছেন, স্ত্রী সব কিছু বাদ দিয়ে মাকে দেখতে চলে যায়। আমি অনেকটা যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচি। টিউলিপের নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে আমার স্ত্রী সায়মনের পক্ষে কাজ করবে সেটা রাতকানার মত দলকানা ছাড়া কোনো বাঙালি মেনে নেবেনা। তা ছাড়া যুক্তরাজ্যে যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে শ্লোগানের বড় ব্যবসায়ি রয়েছেন তারাও তখন বিষয়টিকে মোক্ষম ইস্যু সৃষ্টি করতে বিলম্ব করবেন না। ঢাকায় সাগর ভাইকে বলা হবে আপনার চ্যানেল আই ইউরোপ তো টিউলিপের বিরুদ্ধে কাজ করছে। সপ্তাহখানেক পরে আমার স্ত্রী আমাকে বলে তুমি কি আমাকে একটু ড্রপ করতে পারবে? জিজ্ঞাস করি কোথায়? বলে থ্রোক। থ্রোক হচ্ছে লন্ডনের পাশে। স্ত্রীকে জিজ্ঞাস করি হ্যাম্পস্ট্যডে যাবেনা, স্ত্রী বলে পার্টি বলেছে থ্রোকে যাওয়ার জন্য, আমি স্বস্তির নিঃশাস ছাড়ি এবার পুরোদমে।

প্রিয় পাঠক, এভাবেই আমি বৃটেনের সাধারণ নির্বাচনের সময় পার করেছি। নির্বাচন হলো, টিউলিপ সহ তিন বাঙালী এমপি হলেন। আমরা বাঙালীরা দেশে বিদেশে আনন্দিত হলাম, উল্লসিত হলাম। টিউলিপ পাশ করার পর থেকেই আমি লক্ষ্য করছি টিউলিপকে আওয়ামীলীগ আর তাঁর বিজয়কে দলের কিছু নেতা দলীয় এবং নিজেদের কর্ম-কুশলতার বিজয় হিসেবে ক্রেডিট বানানোর একটি চেষ্টা চলছে। এবং ব্রিটেনে কিছু সংখ্যক আওয়ামী লীগার রয়েছেন তারা টিউলিপ কোথাও গেলে সেখানে আগে থেকে আগলে রাখার চেষ্টা করছে, চোখে পড়ার মতো উল্লেখযোগ্য কোনো কাজ বা কারণ ছাড়াই। অবশ্য যারা অতিমাত্রায় উৎসাহিত বোধ করেন তারা অনেকটা চামচা প্রকৃতির লোক, তারা ভাবেন টিউলিপের জন্য কিছু করতে পারলে (ছোট আপা) অর্থাৎ রেহানা আপা খুশী হবেন। এবং রেহানা আপা খুশী হওয়ার মানে হচ্ছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খুশী হওয়া।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ব্রিটিশ এস্টাবলিশমেন্ট বলতে যে কথাটি রয়েছে আপনি আপনার আওয়ামী লীগারদেরকে বুঝানোর চেষ্টা করুন। টিউলিপ ব্রিটিশ রাজনীতি করেন, সুযোগ আর স্বার্থ সন্ধানে মত্ত কিছু সংখ্যক আওয়ামী লীগারকে টিউলিপ থেকে দূরে রাখুন। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ আর টিউলিপের রাজনীতির গন্তব্য ভিন্ন। প্রকৃতিও। পৃথিবীতে এক সময় ব্রিটিশ পলিটিক্স, আমেরিকান পলিটিক্স এবং রাশিয়ান পলিটিক্স চলতো, এখন হয়তো রাশিয়ান পলিটিক্স অনেকটা অচল। কিন্তু ব্রিটিশ এবং আমেরিকান পলিটিক্স এখনো পৃথিবী ফলো করছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে জ্ঞান দান করার ক্ষমতা বা ধৃষ্টতা কোনটিই আমার নেই। একটি অনুরোধ করি, টিউলিপের আশে পাশে শুধু টিউলিপের পরিবার ছাড়া সবাইকে সরিয়ে দেন প্লিজ। কারন আশপাশে এখন যারা সদর্পে ঘুরঘুর করছেন দুধের মাছির মত, তাদের অতীতের ট্রাক-রেকর্ড তো আপনার একেবারেই যে অজানা নয়, এটুকু জানি। একজন বাংলাদেশী হিসেবে, তাদের অপ-কীর্তি উন্মোচিত হবার পর সে দায়ভারে টিউলিপের যাতে কোন ক্ষতি না হয়।

আপনি রাষ্টীয় সফরে গেলে টিউলিপকে সাথে না নেয়া উত্তম কি-না সেটি আপনি জানেন। আগের আর এখনকার টিউলিপের অবস্থানগত পার্থক্য আপনার চেয়ে বোধকরি আর কারো অবহিত থাকবার নয়। টিউলিপকে ব্রিটেনের বাঙ্গালীর কাছ থেকে ওই স্বার্থখোর মহলের নিরাপদ দুরত্বে আড়াল করে রাখবার গুঞ্জন এখন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। তারা নাকি ঠিক করে দেন,কারা এক্সেস পাবেন টিউলিপের কাছেৃ। আবার বেশি কাছে গেলে যদি নিজেদের ক্যারিশমা ধরা পড়ে যায় সে ভয়ে থাকেন পাহারায় এই বীর পুরুষ নেতারা !

ব্রিটিশ পলিটিক্স-এ ক্লিন থাকতে হয়। ক্লিনম্যানের ইমেজ এখানে বড়ো গুরুত্বপূর্ণ। টিউলিপ সবে মাত্র এমপি হয়েছেন, টিউলিপকে হাঁটতে হবে অনেক দুরের পথ, তাঁর আকাঙ্খিত গন্তব্যের অগ্রযাত্রার পথে। এখানে লেবার লিডার পদে রুশনারাকে টিউলিপ ভোট না দেয়ায় মাত্র ১ ভোটেই হেরেছেন রোশনারা। আপনার সম্মানে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সংবর্ধনায় না যাওয়ায় ক্ষুব্ধ টিউলিপ ভোট দেননি রোশনারাকে- এমন মিথ্যাচার যারা বাজারে ছেড়েছে, আমি নিঃসংকোচে বলি, তারাই টিউলিপের শত্রু। এগুলো ডাহা মিথ্যাচার। রুশনারা, রূপা হক, টিউলিপ এই তিন কন্যা বিলেতের বুকে বাঙ্গালীর আশাবাদের বাতিঘর। তাদের মধ্যে কে আওয়ামী লীগ,কতটা আওয়ামী লীগ, কতটা নন, এমন বিকৃত বিভাজনের কী খুব দরকার। যেখানে এ তিন ব্রিটিশ বাঙ্গালি এমপিই আপনার শুভাকাংখী, বাংলাদেশের শুভাকাংখী।

শ্রদ্বেয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার এবারের লন্ডন সফরে দেশে মার খেতে খেতে নিস্প্রভ অথচ এখানে সরব যুক্তরাজ্য বিএনপির মাঠ কর্মীদের সামনে এখানে আপনার সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতাদের যেভাবে করজোড়ে ক্ষমা চেয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করবার ভিডিওচিত্র ফেসবুকে দেখলাম, তাতে একটুও অবাক হইনি। এখানে আপনার সংগঠনেও বিএনপির মতো পদ-পদবি বিক্রির ঘটনায় শ্রদ্বেয় আব্দুল গাফফার চৌধুরী রাস্তায় নেমেও কাজ হয়নি, সেটি পত্র-পত্রিকার প্রকাশিত খবর। আর বিশ্বের ব্যায়বহুল শহরে যাদের কোনও পেশা নেই, তাদের আয়ের উৎস যে দল বেচে খাওয়া নয়, সেটি প্রমাণ করাও দুরূহ। আর দলই যাদের কাছে নিরাপদ নয়, আপনি লন্ডনে থাকার পরও আপনাকে পার্লামেন্টে রেখে যারা ক্ষমা চেয়ে বিএনপির ছাত্র-যুব কর্মীদের ভয়ে দৌড়ে পালান, তাদের ছায়ায় বা তারা টিউলিপের ছায়ায় থাকলে, তা কী নিরাপদ নাকি বিপদ টিউলিপের জন্য?

লেখক: চ্যানেল আই ইউরোপের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক ও আহবায়ক: ইউকে-বাংলা প্রেসক্লাব।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *