বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

জমি দখলে কাজী ফার্মস, গিলছে হিন্দুদের জমিও

Kazi-Farmsবাংলাদেশের পোল্ট্রি খাতের অন্যতম প্রধান নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠা কাজী ফার্মস পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ে জমি দখল করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যমুনা টেলিভিশনে প্রচারিত অপরাধ অনুসন্ধানমূলক অনুষ্ঠান ‘৩৬০ ডিগ্রি’র অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে কাজী ফার্মস গ্রুপের অবৈধভাবে ভূমি ডাকাতির বিষয়গুলো।

ঠাকুরগাঁও শহরের গোলচত্বর এলাকা। এখানে হোটেল ব্যবসা করেন পরিতোষ দে। জেলা শহরে খাবার ব্যবসায় সফল ব্যক্তিদের মধ্যে তিনি একজন। তিনি তার ব্যবসার টাকায় শহরের শালুন্দর এলাকায় ২৫ কাঠা জমি কিনেছিলেন। পরিতোষ দে বলেন, তার জমির পাশে কাজী ফিলিংস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক কাজী ফার্মস। প্রতিষ্ঠানটি তার চার শতক জমি দেয়াল দিয়ে নিজেদের দখলে নিয়েছে।

বিচার শালিশের বিষয় নিয়ে স্থানীয় এক নেতার সঙ্গে কথা বললে তখন কাজী ফার্মস গ্রুপের পক্ষ নিলেন আর একজন। তখনই সন্দেহ হল, হঠাৎ করে কোন কারণ ছাড়াই এই লোক কেন তর্কে জড়াচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজী ফার্মস এলাকায় একটি চক্রকে সক্রিয় রেখেছে। আর এই চক্রের পেছনে প্রশাসনের লোকজন আছে বলেও খবর আসে টিম ৩৬০ ডিগ্রির কাছে।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কর্মকর্তাদের যোগসাজসে পরিতোষের জমিটি দখল হয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। তবে সড়ক ও জনপথের কর্মকর্তারা বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যান। এ নিয়ে কথা হয় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সাথেও।

১২ নম্বর সালন্দর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ফজলে এলাহি মুকুট চৌধুরী বলেন, পরিতোষের চার শতক জমি তাদের ফিলিং স্টেশনের ভিতরে ঢুকে আছে। এটা যেহেতু হাইওয়ের পাশে তাই জমিটি বের করতে ম্যাপের প্রয়োজন। কিন্তু হাইওয়ের ম্যাপটা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

অদ্ভুত এ ম্যাপ জটিলতায় এ দেশে প্রতিবছর কত শত পরিতোষ দিনের পর দিন ভুগছেন তার কোনো হিসেব নেই। বলা হয়ে থাকে, উত্তর বঙ্গের মানুষ কিছুটা সহজ সরল। তাই বলে তারা এতটা সহজ সরল নয় যে কেউ তার জমি দখলে নিলে সে চুপচাপ বসে থাকবে।

টিম ৩৬০ ডিগ্রিকে পরিতোষ বলেছেন, তিনি মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে জানিয়েও তার জমি থেকে কাজী ফার্মসকে এক চুলও নড়াতে পারেননি। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন এই প্রতিষ্ঠানের খুটির জোর কোথায় ?

উত্তরবঙ্গের দুই জেলা, ঠাকুরগাঁও এবং পঞ্চগড় থেকে ৩৬০ ডিগ্রি টিমের কাছে অনেক অভিযোগ আসতে থাকে। এ সব অভিযোগ সরকারি খাস জমি এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি দখলের পাশাপাশি দখলদারিত্ব টিকিয়ে রাখতে জমির মালিকের নামে মামলা প্রসঙ্গে।

এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ৩৬০ ডিগ্রি টিমের যাত্রা উত্তর বঙ্গে।
ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ থানা। গ্রামের নাম হাবিবপুর। এটি কাজী ফার্মসের আবাসিক এলাকা। পাশেই বিশাল এলাকা জুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে কাজী ফার্মস গ্রুপের আরেকটি প্রতিষ্ঠান। এলাকার কিছু লোক সাথে করে খানিকটা পথ যেতেই কাটাতারের বেড়া দিয়ে ঘেরা বিশাল আম বাগান চোখে পড়ে। এটাও কাজী ফার্মসের বাগান। কিন্তু আম বাগান ও আশেপাশের খাস জমি নিয়েও রয়েছে অনেক কথা। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, বিভিন্নভাবে খাস জমি দখল করে নিচ্ছে কাজী ফার্মস। আরেকটু এগুতেই চেখে পড়ে বিস্তীর্ণ খোলা বিল। সুশীল কুমার ও তার পরিবার এই বিলের জমির দাবিদার। তাদের অভিযোগ কাজী ফার্মস এই জমি দখল করে নেয়। মামলা করেও দখল ফিরে পায়নি সুশীল কুমার।

ঠাকুরগাঁও এবং পঞ্চগড় জেলায় এভাবেই চলছে কাজী ফার্মসের ভূমি ডাকাতি আর একের পর এক দখলদারিত্ব। পরবর্তীতে খবর আসে ঠাকুরগাঁও এবং পঞ্চগড় জেলার পর এবার কাজী ফার্মসের চোখ পড়েছে চট্টগ্রামের বনবিভাগের জমির ওপর।

মিডিয়া ডেস্ক
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন