বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

পরকীয়ার জের: নারী সাংবাদিকের মামলায় সাংবাদিক স্বামী আটক

Mukul-Meherun_Newsworldbdসাংবাদিক নাজনীন আখতার তন্বীর করা নারী নির্যাতন মামলায় স্বামী সাংবাদিক রকিবুল ইসলাম মুকুলকে আটক করে পুলিশ একদিনের রিমান্ডে নিয়েছে। গাজী টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক রকিবুল ইসলাম ওরফে মুকুলকে (৩৭) শুক্রবার ২৬ জুন রাত আড়াইটার দিকে রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকায় মুকুলের কর্মস্থল থেকে মিরপুর থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

পাঁচবছর বয়সী শিশু কণ্যার হঠাৎ মৃত্যুর পর নাজনীন আখতার বাসার পাঁচতলা থেকে লাফিয়ে আলোচনায় আসেন। এরপর দীর্ঘ চিকিৎসায় তিনি সুস্থ হন এবং চিকিৎসকের পরামর্শে এই দম্পতি আর একটি সন্তান গ্রহণ করেন। তবে এই সময়ের মধ্যে রকিবুল ইসলাম মুকুল অন্য এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। যার স্বামী একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন। এটি নিয়েই মূলত ওই দম্পতির মধ্যে মতদ্বৈততা হতে থাকে।

একটি সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ১৬ সেপ্টেম্বরের ৫ তলা থেকে লাফিয়ে আহত হওয়ার পর নাজনীনের চিকিৎসাকালীন স্বামী রকিবুল ইসলাম মুকুল একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তার স্ত্রী ও ওয়ারির ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ড স্কুল শাখার তৎকালীন শিক্ষিকার মেহেরুন বিনতে ফেরদৌস সিঁথি’র সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। তার সঙ্গে প্রায় এক বছর ধরে লিভ টুগেদার করছেন মুকুল। তারা বনশ্রী এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে তারা একসঙ্গে থাকতেন বলেও প্রত্যক্ষদর্শী অনেকে বলেছেন।

মিরপুর থানা পুলিশের মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ পারভেজ শনিবার ২৭ জুন মুকুলকে আদালতে হাজির করে মামলা সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম অমিত কুমার দের আদালত একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিকে মামলার অপর আসামী মেহেরুন বিনতে ফেরদৌসকে আটকের জন্য পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে বলে মিরপুর থানা সূত্র জানায়।

মিরপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ পারভেজ বলেন, বাদী দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক নাজনীন আখতারের দায়ের করা নারী নির্যাতন ও যৌতুকের মামলায় রকিবুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার নাজনীন তাঁর স্বামী রকিবুল ও আরেকজন নারীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার আরেক আসামি হলেন মেহেরুন বিনতে ফেরদৌস।

এ ব্যাপারে নাজনীন আখতার বলেছেন, ২০১৩ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর একমাত্র মেয়ে চন্দ্রমুখী মারা যাওয়ার পর শোকে তিনি পাঁচতলা থেকে লাফ দিয়ে পড়ে গুরুতর আহত হন। এরপর দীর্ঘদিন হাসপাতালে ছিলেন। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে আবার তাঁরা দু’জন সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু এর মধ্যে রকিবুল মেহেরুন বিনতে ফেরদৌসের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে কথা বললে স্বামী রকিবুল বিভিন্ন সময়ে নাজনীনকে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। নির্যাতিত অবস্থায় তাকে হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয়েছিল। এর কিছুদিন পর তাঁর দ্বিতীয় কন্যার জন্ম হয়। কিন্তু সন্তানের জন্মের পর থেকে কখনোই খোঁজ নিতেন না মুকুল। এর মধ্যে নাজনীন খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তার স্বামী মেহেরুনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। মেহেরুনের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময়ও স্ত্রীকে কয়েকবার নির্যাতন করেছেন বলে অভিযোগ করেন নাজনীন।

নাজনীন অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময়ে রকিবুল তার কাছ থেকে টাকাও নিয়েছেন। সর্বশেষ রাজউকে পূর্বাচলে বরাদ্দ পাওয়া একটি প্লটের কিস্তির জন্য তিনি ১৪ লাখ টাকা দেন রকিবুলকে। কিন্তু রকিবুল ওই প্লটটি নিজের নামে লিখে নেন এবং সম্প্রতি সেটা বিক্রিও করে দেন। এসবের প্রতিবাদ করায় নাজনীনকে বিভিন্ন সময়ে রকিবুল নির্যাতন করেন।

নাজনীন আখতার বলেন, পরিবারের পরামর্শে ও সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তিনি এত দিন মামলা করেননি। কিন্তু এখন বাধ্য হয়েই মামলা করলেন। তিনি তাঁর সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছে, এর ন্যায়বিচার দাবি করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন