জীবনে চলার পথে এমন কিছু সমস্যা এসে জড়ো হয়, যার থেকে আপনি দূরে থাকতে পারেন না । বিশেষ করে, এমন কিছু বিষয় থেকেই যায়, যেখানে আপনি আপনার জীবনের বেশিরভাগ সময় অতিবাহিত করেন । সেরকমই হল বৈবাহিক জীবন । একসঙ্গে জীবনে চলার শুরুতে প্রত্যেক স্বামী-স্ত্রী সুন্দর জীবনের আশায় অঙ্গীকারবদ্ধ হন ।
কিন্তু কয়েকদিন কেটে যাওয়ার পর কেমন যেন পালটে যেতে থাকে সবকিছু । নানা কারণে সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে । কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়াটাকে একদম সহ্য করা যায় না । মনে হয়, যা হয় হবে, সম্পর্ক থেকে মুক্তির দরকার এখন । কিন্তু ঈশ্বরকে সাক্ষী রেখে যে প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন, তাকে একঝটকায় শেষ করে দেবেন ? আপনার অশান্ত বৈবাহিক জীবনকে রক্ষা করুন । কীভাবে করবেন ? তারই সুলুকসন্ধান রইল এখানে –
কী থেকে সমস্যার সূত্রপাত, তা সবার আগে খুঁজে বের করুন । এর জন্য হয়তো আপনাকে কিছু ফ্ল্যাশব্যাকে যেতে হতে পারে । আপনার জীবনে যদি সামান্য চিড় ধরে, তা নিয়ে সবার সঙ্গে আলোচনা করবেন না । যেকোনও সম্পর্কে তৃতীয় ব্যক্তির প্রবেশ ঘটলে সমস্যা আরও বেড়ে যাবে । নিজে নিজেই সমস্যার উৎস খুঁজে বের করুন । আপনার কাজের দিকগুলি নিয়ে চিন্তাভাবনা করুন । পারিবারিক সমস্যা, মানসিক চাপ, অর্থনৈতিক সমস্যাসহ বিভিন্ন দিকগুলি নিয়ে চিন্তা করুন । বিশ্বাসঘাতকতা সম্পর্কের অবনতির প্রধান কারণ । এমনকী, যোগাযোগের অভাবেও সম্পর্কে চিড় ধরে ।
আপনার বৈবাহিক সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখার মূল কান্ডারি আপনিই । এটা মনে করে বসবেন না, যে সব দায় আপনারই । আপনিই সব । একটা ডুবন্ত জাহাজের সকল যাত্রীকে রক্ষা করা যেমন ক্যাপ্টেনের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে । ঠিক তেমনটাই আপনার ডুবতে থাকা বৈবাহিক সম্পর্ককে পুনরায় সহজ, সরল, সুন্দর করে তোলার দায়িত্বও আপনার উপরই বর্তায় ।
একে অপরের দিকে অভিযোগের তির না ছুঁড়ে, অন্যের দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে স্বামী-স্ত্রী উভয়েই মুখোমুখি আলোচনায় বসুন । আপনার পার্টনার কী বলছেন, তাঁর যুক্তিটা ঠিক কী, তা মন দিয়ে শুনুন । কথার মাঝে কথা বলবেন না । এতে সমস্যা ক্রমশ বাড়বে বই কমবে না । মনে রাখবেন, আপনার মূল উদ্দেশ, চিড় ধরা বৈবাহিক সম্পর্ককে পুনরায় ঠিক করা । আলোচনার সময় মনকে শান্ত রাখুন ।
এই সামান্য কয়েকটা দিক মেনে চলুন । দেখবেন, আপানার চিড় ধরা বৈবাহিক সম্পর্ক পুনরায় স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে এসেছে । স্ত্রী, সন্তান নিয়ে সুখে জীবন অতিবাহিত করছেন আপনি ।


