ফ্রান্সে কর্মরত অবস্থায় প্রয়াত রাষ্ট্রদূত রুহুল আমিনের স্ত্রী আনিসা আমিনকে ফ্রান্স দূতাবাসের প্রথম সচিবের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার বদলে ওই দূতাবাসের অপর একজন প্রথম সচিব ফারহানা চৌধুরীকে কনস্যুলার শাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আনিসা আমিন দূতাবাসেই কর্মরত থাকবেন তবে, নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম. শহীদুল ইসলাম রবিবার ২৮ জুন বিকেলে প্যারিস থেকে টেলিফোনে নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কমকে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
বিষয়টি সম্পর্ক জানতে যোগাযোগ করা হলে রাষ্ট্রদূত শহীদুল নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কমকে বলেন, ‘প্রবাসী বাংলাদেশিরা কিছু বিষয় নিয়ে অভিযোগ তোলায় আনিসা আমিনকে কনস্যুলার শাখার দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে।’
২০০৮ সালে ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কর্মরত অবস্থায় ৪৮ বছর বয়সী রুহুল আমিনের মৃত্যু হয়। সেই সময় বাংলাদেশ থেকে ফ্রান্সে প্রতœসম্পদ প্রদর্শনীর জন্য নিয়ে যাওয়ার পর জটিলতা তৈরি হয়। বলা হয়ে থাকে, রুহুল আমিন প্রত্নসম্পদগুলো বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে জোরালো অবস্থান নেন বলে ফ্রান্স সরকারের বিরাগভাজন হয়েছিলেন। এই বিষয়টি মাথায় রেখে মানবিক বিবেচনায় রুহুল আমিনের সন্তানদের লেখাপড়ার সুবিধার্থে ২০০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তার স্ত্রী আনিসা আমিনকে সেখানে চুক্তিভিত্তিক প্রথম সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রতিবছর এ চুক্তির মেয়াদ এক বছর করে বাড়ছে। সবশেষ ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে আনিসা আমিনের চুক্তি ২০১৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়।
বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলো নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অলিখিত রীতি অনুযায়ী, বাইরের অন্য ক্যাডার বা কোনো কর্মকর্তা দূতাবাসে যোগ দিলে তাকে কনস্যুলারের মতো জনসেবার কাজ দেওয়া হয়। যেখানে আসলে কাজের চাপও বেশি থাকে। একজন রাষ্ট্রদূতের স্ত্রী হিসেবে এসব কাজ সম্পর্কে তার কিছুটা ধারণা থাকলেও ফ্রান্সের মতো দেশে ‘অবৈধ বাংলাদেশিদের’ নিয়ে তার কাজে কিছু জটিলতা তৈরি হয়।
বিশেষত, ফ্রান্স কর্তৃপক্ষ যখন কোনো অবৈধ বাংলাদেশি সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে যায়, তখন আনিসা আমিন তাকে বাংলাদেশি বলেই সত্যায়ন করে দিতেন। এটি নিয়েই মূলত প্রবাসীদের একটি অংশ তার ওপর ক্ষুব্ধ হতে থাকে। প্রবাসীদের দাবি, ওই বাংলাদেশিকে ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পর তাকে নিজ দেশে ফেরানোর আর কোনো বাধা থাকে না। কিন্তু যদি কনস্যুলার শাখা থেকে বাংলাদেশি হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া হয়, তবে ‘স্টেটলেস’ (দেশহীন) মানুষ হিসেবে তাকে ফ্রান্সেই রেখে দেয় ফ্রান্স সরকার। এরপর আইনি নানা প্রক্রিয়ায় ওই ব্যক্তি ফ্রান্সে আশ্রয় পাওয়াসহ পরে ফরাসি নাগরিক হয়ে যান।
প্রকৃতপক্ষে, এটি বাংলাদেশের জন্য একটি বৈদেশিক আয়েরও পথ খুলে যায় বলে প্রবাসীদের দাবি। গত ২৪ জুন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্যারিস সফরের সময় ফ্রান্স আওয়ামী লীগের নেতাদের একটি অংশ এসব বিষয় নিয়েই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সূত্রের খবর, এরপর আনিসা আমিনকে আপাতত কনস্যুলার শাখার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
ইউরোপ ব্যুরো, প্যারিস
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।
আনিসা আমিনকে নিয়ে পড়ুন: মানবিক কারণে দূতাবাসে চাকরি এবং মানবতা




Leave a Reply