বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

সঙ্কটের সময় গঠিত এশীয় অবকাঠামো ব্যাংক

loujiwei_640x360_xinhuaবেজিং: অর্থনৈতিক সময়  গঠিত এশীয় অবকাঠামো ব্যাংক৷ ইউরোপের ব্যাংকগুলির সঙ্কটের মাঝেই তড়িঘড়ি বেজিংয়ের গ্রেট হল অফ দ্য পিপল-এ তৈরি হল এশীয় অবকাঠামো ব্যাঙ্ক (এআইআইবি)৷ বিশ্বের ৫০টি দেশ মিলে তৈরি করল এই ব্যাংক৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ প্রভাবিত আন্তর্জাতিক অর্থলগ্নি সংস্থাগুলির প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেই চিহ্নিত হচ্ছে এই নতুন ব্যাঙ্ক৷ চিন, ভারতসহ ৫০টি দেশ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার নথিতে সই করলেও হাজির ছিল আরও ৭টি দেশ৷

যদিও, ২০১৩ সালে চিনের তরফেই এই ব্যাংক তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল৷ এক বছর বাদে ভারতসহ ২১টি দেশ ব্যাংক গঠনে সম্মত হয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করে৷ আরও দেশ যোগ দেওয়ার পরে সোমবারই তৈরি হল এই ব্যাংক৷ এশিয়ার অবকাঠামো প্রকল্পে বিনিয়োগ করাই হবে এই ব্যাংকের মুখ্য উদ্দেশ্য৷

তবে শুধু এশীয় দেশগুলিই নয় রয়েছে জার্মানি, ফ্রান্স, রাশিয়াও৷ মধ্য প্রাচ্য এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বেশ কিছু দেশও এই ব্যাংকে অংশ নিচ্ছে৷ তবে এতে আপত্তি জানিয়ে অংশ নেয়নি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান৷এই ব্যাংকের প্রাথমিক মূলধন হচ্ছে ১০০০০ কোটি ডলার৷ তার ৭৫ শতাংশই আসবে এশীয় দেশগুলির তরফ থেকে৷ চিন ২৯৭০ কোটি ডলার ও ভারত দেবে ৮৩০ কোটি ডলার৷পাশাপাশি, ৩০.৩৪ শতাংশ শেয়ার থাকবে চিনের হাতেই৷ ভারতের হাতে থাকবে ৮.৫২ শতাংশ৷ এই অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, বিশ্ব ব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের কোনও প্রতিনিধি৷

এশিয়ার অধিকাংশ দেশ, মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলো চীনের নেতৃত্বাধীন এ ব্যাংকে যোগ দিয়েছে। বিষয়টিকে কূটনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকে চীনের সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের মতো বড় বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চীনের প্রভাব নেই বললেই চলে। বিষয়টিকে মাথায় রেখে এআইআইবি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয় চীন।

প্রাথমিকভাবে ৫০ বিলিয়ন ডলার মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করবে এআইআইবি। তবে মূলধন ১০০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়ানো হবে। বিদ্যুৎ, অবকাঠামো ও পরিবহন খাতে বিনিয়োগ করা হবে এআইআইবির তহবিল।

চীনের অর্থমন্ত্রীর বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, এআইআইবির মূলধনের ৩০.৩৪ শতাংশ শেয়ারের মালিক থাকবে চীন। এর ফলে নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে ২৬.০৬ শতাংশ মতামতের মালিক হবে দেশটি। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, চীনের পর ভারত হবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শেয়ার মালিক। দেশটি ১০ থেকে ১৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক হতে পারে। তৃতীয় অবস্থানে থাকবে রাশিয়া এবং জার্মানি থাকবে চতুর্থ অবস্থানে। চীনের অর্থমন্ত্রী লোউ জিওয়েই সোমবার বলেছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ এআইআইবির কার্যক্রম শুরু হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক, কলকাতা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন