ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলামকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। একই বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। মঙ্গলবার ৩০ জুন সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে এ সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. এএম আমজাদ বলেন, গত বছর ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনে বিভাগেরই এক ছাত্রী। তখন সাইফুল ইসলামকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সিন্ডিকেট সভায় ওই শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হল।
গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ৩য় বর্ষের এক ছাত্রী যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনে ড. মো. সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। পরের দিন সিন্ডিকেট সভায় তাকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেই সঙ্গে বিভাগের সকল প্রশাসনিক, পরীক্ষা ও শিক্ষা সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম থেকেও তাকে অব্যাহতি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
অভিযোগে যা বলেছিলেন ওই ছাত্রী: যৌন হয়রানির শিকার ওই ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন- আমি (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) ষষ্ঠ সেমিস্টার থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ছাত্রী। গত ২৬শে আগস্ট আমাদের ৩৫২ কোর্সের একটি মিডটার্ম পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ৮ই সেপ্টেম্বর আমাকে বিভাগ থেকে ফোন করে জানানো হয় চেয়ারম্যান স্যারকে ফোন দিতে। তাকে ফোন দিলে তিনি ব্যস্ত বলে কেটে দেন।
পরে ১০ই সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় আমাকে ফোন দিয়ে বলেন, তোমার পরীক্ষার খাতায় প্রশ্নের নম্বর কেটে দেয়া হয়েছে। তবে আমি তোমাকে একটি সুযোগ দিতে চাই। তিনি আমাকে রোববার রাতে ফোন করতে বলেন। আমি যেন কাউকে কিছু না বলি সে ব্যাপারে জানিয়ে দেন এবং বললে অসুবিধা হবে বলেও তিনি জানান।
পরে বিষয়টি আমি বিভাগের শিক্ষক ওয়াহিদা মল্লিককে জানাই। পরে গত ১৩ই সেপ্টেম্বর শনিবার বিকাল ৩টা ৫৩ মিনিটে ফোন করে ইন্টারন্যাশনাল হলের বাঁ দিকের রাস্তার একটি বিল্ডিংয়ের ৫ তলায় যেতে বলেন।
সাড়ে ৫টার দিকে সেখানে গেলে সাইফুল ইসলাম (চেয়ারম্যান) আমাকে ভেতরের ঘরে বসতে বলেন এবং আমার বিভিন্ন কুশলাদি জিজ্ঞাসা করেন। পরে আমি কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত কি-না সেটি জিজ্ঞাসা করেন। এক পর্যায়ে আমি খাতার প্রশ্নের নম্বর কেটে দেয়ার কারণ এবং এ বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি প্রসঙ্গ অন্যদিকে নিয়ে যান।
এক পর্যায়ে তিনি আমাকে একটি বাদামের টিন দেন এবং হঠাৎ মুখে তুলে খাইয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। তখন আমি সন্দেহ করে মোবাইলে রেকর্ড করতে থাকি। কিন্তু তিনি আমাকে টানতে চাইলে আমি ওনাকে বাধা দিতে গিয়ে মোবাইলটা হাত থেকে পড়ে যায়।
পরবর্তী সময়ে তিনি আমাকে হাত ধরে টেনে সোফা থেকে বিছানায় নেয়ার চেষ্টা করেন। আমি বাধা দিতে থাকি এবং বলতে থাকি আমি বাসায় যাব। তিনি ২-৩ মিনিট আমাকে টেনেহেঁচড়ে সোফায় নেয়ার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে তিনি আমার পরীক্ষার খাতাটা দেখিয়ে বলেন আমি এখানে কী নম্বর দেব। কত দেব তোমাকে। তখন আমি উনাকে আপনার যত ইচ্ছা ততই দেন বলে চিল্লাচিল্লি শুরু করি এবং কাঁদতে থাকি। পরে তিনি ঘরের দরজা খুলে দেন এবং আমি দৌড়ে পালিয়ে আসি।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


