বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

বকেয়া না নিয়েই ইউনাইটেড এয়ারের লাইসেন্স নবায়ন

Unitedবেসরকারি এয়ারলাইনস সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের কাছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) ১০৪ কোটি টাকা পাওনা আছে। কয়েক দফা তাগিদ দিয়েও পাওনা আদায় করতে পারেনি বেবিচক। নিয়ম অনুযায়ী এয়ারলাইনসটির এয়ার অপারেটর সার্টিফিকেট (এওসি) বা লাইসেন্স বাতিল করার বিধান থাকলেও সে পদক্ষেপ না নিয়ে আরো পাঁচ মাসের জন্য তা নবায়ন করা হয়েছে।

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জুন (সোমবার) শেষ হয় ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের এওসির মেয়াদ। তবে নিয়মিত পাওনা পরিশোধ না করায় বেবিচকের কাছে প্রতিষ্ঠানটির বকেয়া দাঁড়িয়েছে ১০৪ কোটি টাকা। যদিও গত ২২ জুনের মধ্যে তাদের সব বকেয়া পরিশোধ করার কথা ছিল। আর এ সময়ের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ না করলে প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নেয় বেবিচক। তবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মধ্যস্থতায় কোনো বকেয়া পরিশোধ ছাড়াই আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এওসি নবায়ন করেছে বেবিচক।

এর আগে গত বছর ৩১ মার্চ ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়। পাওনা অর্থ পরিশোধ করতে না পারায় এয়ারলাইনসটির লাইসেন্স নবায়নে অস্বীকৃতি জানায় বেবিচক। অবশ্য ওই বছরের ১৫ জুনের মধ্যে মোট ৫ কোটি টাকা পরিশোধের শর্তে ২৯ জুন ২০১৪ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স নবায়ন করা হয়। পরবর্তীতে গত বছর ২৭ আগস্ট শর্তসাপেক্ষে আরো ১০ মাসের জন্য ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের লাইসেন্স নবায়ন করে বেবিচক।

বেবিচকের নিয়ম অনুযায়ী, বিমানবন্দর ব্যবহার বাবদ অ্যারোনটিক্যাল ও নন-অ্যারোনটিক্যাল চার্জের বিল সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসকে পাঠানোর ১৫ দিনের মধ্যে তা পরিশোধ করতে হয়। এক মাস পার হয়ে গেলে এর ওপর ৬ শতাংশ সারচার্জ আরোপ করা হয়। এর পরও অর্থ পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসটির এওসি বাতিল করার বিধান রয়েছে। আর এওসি বাতিল হওয়ার অর্থই হলো এয়ারলাইনসটির সব ধরনের ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষমতা রহিত করা।

এ প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের এওসি নবায়ন ও বকেয়া পরিশোধের বিষয়ে গত সোমবার জাতীয় সংসদে মন্ত্রীর কক্ষে বৈঠক হয়। বৈঠকে বেবিচক ও ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।

উল্লেখ্য, বর্তমানে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের বহরে উড়োজাহাজ রয়েছে ১১টি। এর মধ্যে পাঁচটিই উড্ডয়ন অনুপযোগী। অবশিষ্ট ছয়টি উড়োজাহাজ দিয়েই ফ্লাইট চালু রেখেছে বেসরকারি খাতের এয়ারলাইনসটি। চারটি উড়োজাহাজ সি-চেকে রয়েছে। বর্তমানে তিনটি আন্তর্জাতিক রুটে এয়ারলাইনসটির ফ্লাইট রয়েছে।

এদিকে উদ্যোক্তা পরিচালকদের ন্যূনতম শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতার কারণে সম্প্রতি বিকল্প পথে মূলধন সংগ্রহের ঘোষণা দিয়েছে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ। কোম্পানিটির উদ্যোক্তা অংশের শেয়ার ধারণের পরিমাণ কম থাকায় রাইট বা আরপিওর (রিপিট পাবলিক অফার) মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহে বিধিনিষেধ রয়েছে। এ অবস্থায় বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের বাইরে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৬২৪ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহ করবে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।

আরও পড়ুন