ধোনি-কোহলিদের অর্ধ-ন্যাড়া কার্টুনে সেদেশের মিডিয়া এবং সমর্থকদের তীব্র সমালোচনার মধ্যে প্রথম আলোর কার্টুনিস্টকে সৃষ্টিশীল হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন ভারতীয় এ্যাডগুরু খ্যাত প্রহ্লাদ কাক্কার। সম্প্রতি প্রথম আলোর ফান ম্যাগাজিন রসআলোতে ভারতীয় খেলোয়াড়দের নিয়ে ব্যাঙ্গাত্মক কার্টুন প্রকাশিত হয়। এ নিয়ে মঙ্গলবার ভারতীয় মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল আলোচনা-সমালোনা সৃষ্টি হয়। ভারতের প্রভাবশালী টিভি চ্যানেল এনডিটিভিতে এ বিষয়ে একটি বিশেষ টকশো প্রচার করে। টকশোটির উপস্থাপক ছিলেন নিখিল নাজ। ভারতীয় কয়েকজন ক্রীড়া সাংবাদিক ও বিশিষ্টজনদের নিয়ে করা অনুষ্ঠানটিতে অনেকে এর পক্ষে এবং বিপক্ষে মত দেন।
উপস্থাপক নিখিল নাজ অ্যাডগুরু প্রহ্লাদ কাক্কারের কাছে এই ব্যাপারে তার মত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এটা বেশ এনজয় করেছি।’ এই কার্টুন তৈরী করার কুশলীবকে ক্রিয়েটিভ হিসেবে আখ্যা দিয়ে কাক্কার আরো বলেন, যেহেতু ভারতও বাংলাদেশকে নিয়ে বাচ্চা পার্টি বলে এবং বিভিন্নভাবে বাংলাদেশের সাথে সৎ ভাই সুলভ আচরণ করে তো ভারতেরও উচিৎ এইসব ব্যাঙ্গত্মকমূলক কর্মকান্ড হজম করার মত স্পোর্টসম্যানশিপ দেখানো। তিনি আরো বলেন, ‘হ্যা, তারা(বাংলাদেশ ক্রিকেট) অনেক দূরূহ পথ অতিক্রম করে এই পর্যায়ে এসেছে তাই আমাদের এটা মনে রাখা উচিৎ।’
ভারতীয় ক্রিকেটারদের অর্ধ মাথা ন্যাড়া করার ব্যাপারে প্রশ্ন করলে এ্যাড গুরু বলেন, ‘হ্যা তারা আমাদেরকে সিরিজে ২-১ এ হারিয়ে এই ধরনের ফান কার্টুন দেখাচ্ছে, পরবর্তীতে আমরাও তাদেরকে হারানোর পর উল্লাসে মেতে উঠবো, এতে তো আমি সমস্যার কিছুদেখছি না।’
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ক্রীড়া সাংবাদিক দাক্স পানওয়ার যিনি এবারের বাংলাদেশ ট্যুর কাভার করেছেন, তার কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসলে আমাদের আগে ভালভাবে ব্যাপারটা পরিস্কার হওয়া দরকার। প্রথমত এটাকোন এ্যাড না, এটা বিদ্রুপাত্মক ফান কার্টুন। যারা শুরু থেকেই এমন বিদ্রুপাত্মক নানান ধরনের কার্টুন ছাপায়। শুধুমাত্র ভারতীয় খেলোয়াড়দেরই নয় তারা তাদের নিজেদেরদেশের খেলোয়াড়দের নিয়েও নানা সময়ে নানা ধরনের বিদ্রুপত্মক কার্টুন প্রকাশ করেছে। এমনকি ২০০৭ সালে তারা তাদের দেশের সরকার প্রধানকে নিয়েও এক বিদ্রুপাত্মক কার্টুন প্রকাশ করে বেশ আলোচিত হয়েছিল। এটা এমন কোন বড় ব্যাপার না।’
উপস্থাপক কার্টুনে ভারতীয় প্লেয়াড়দের মাথা অর্ধেক ন্যাড়া করার কথা উল্লেখ করে বলেন, এই ধরনের ছবি তো কোন দেশের সাংস্কৃতিক বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে। উত্তরে প্রহ্লাদ কাক্কার বলেন, ‘হ্যা পারে, কিন্তু এটা এতোটা বড় ব্যাপারও না। দেখেন তারা অর্ধেক মাথা ন্যাড়া দেখিয়েছে, ভারত একটা ম্যাচ জিততে পারায় পুরা মাথা ন্যাড়া করে নি, এটা কি মন্দের ভাল নয়!
কলকাতার সিনিয়র সাংবাদিক দেবাশিষ দত্ত এ বিষয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশ আসলে মনে করে যে ১৯ মার্চ বাংলাদেশ বনাম ভারতের সেই ম্যাচে কয়েকটা ডিসিশান তাদের বিপক্ষে না গেলে তারা সেই দিনের ম্যাচটা জিততে পারত এবং তারই ক্ষোভ হিসেবে তারা এখন এগুলি করছে যা এটাই প্রমাণ করে যে তারা এখনও মিনোজই রয়ে গেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তাদের এটা মনে রাখা দরকার যে, ক্রিকেট দুনিয়ায় বাংলাদেশের প্রত্যাবর্তনের পেছনে বিসিসিআই এর কতখানি অবদান ছিল।’
উপস্থাপক নিখিল নাজ যখন তাকে মনে করিয়ে দেন, বাংলাদেশ আসলে এখন অনেক পরিণত একটি দল এবং ভারতও কিন্তু তাদের বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে বাংলাদেশকে ছোট করার চেষ্টা করেছে, তাহলে বাংলাদেশ এটা করলে কি সমস্যা কোথায় ? এই বিষয়ে দেবাশিষ দত্ত বলেন, ‘ভারত বা বাংলাদেশ যেই এটা করুক না কেন এই ধরনের আচরণ কারও কাছ থেকেই প্রত্যাশিত নয়। কারণ এটি ক্রিকেটসূলভ কোন আচরণ নয়। আমাদের সকলের এই ধরনের আচরণ থেকে বের হয়ে আসা উচিৎ।’
ভারত ও পাকিস্তান যেমন সব সময়ের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তেমনিভাবে বাংলাদেশও কি ভবিষ্যতে ভারতের কাছে পাকিস্তানের মত বড় প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখা দিতে পারে? উপস্থাপকের এমন প্রশ্নের জবাবে ইন্ডিয়ান টাইমসের অভিজ্ঞ সাংবাদিক পানওয়ার বলেন ‘বর্তমান সময়ে পাকিস্তান আর ভারতের মধ্যে ম্যাচ সংখ্যা অনেক কমে এসেছে এবং বাংলাদেশ গত কয়েক বছরে অনেক উন্নতি করেছে। সাব কন্টিনেন্টে বাংলাদেশ এখন আসলেই এক শক্তিশালী প্রতিপক্ষ।’
বর্তমান সময়ে মোটামুটি সকল ক্রিকেট ক্ষমতার অধিকারী ভারত এবং তারা পুরো ক্রিকেট দুনিয়ার আধিপত্য বিস্তার করছে এজন্য কি অন্যান্য দেশগুলো ভারতের হারে বা ভারতীয় ক্রিকেটারদের অপমানে বেশি মজা পান? উপস্থাপকের এমন প্রশ্নের উত্তরে দেবাশিষ বলেন, ‘হতে পারে এমন একটা ব্যাপার কাজ করে, আবার অন্যদিকে দেখেন সাকিব আল হাসান ছাড়া বাংলাদেশের অন্য কোন ক্রিকেটার কিন্তু আইপিএলে’র মত টুর্নামেন্টে চান্স পায় না, এই ব্যাপারটাও অনেকটা প্রভাব বিস্তার করে বলে আমি মনে করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি বাংলাদেশ বনাম ভারতের মধ্যে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা বাংলাদেশের উদিয়মান বোলার মুস্তাফিজকে ধোনির কাছে আইপিএলে সুযোগ করে দেয়ার ব্যাপারে সুপারিশ করেছিলেন।’ তবে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের তরুণ সাংবাদিক পানওয়ার এই বিষয়ে একমত নন যে ওয়ার্ল্ড কাপের সেই ম্যাচ জিততে না পারার ক্ষোভ হিসেবে বাংলাদেশ এমন আচরণ করছে।
বাংলাদেশের এই কার্টুনিস্ট আপনার কাছে গিয়ে তার বায়োডাটা দিলে কি আপনি গুরুত্বপুর্ণ পোস্টে তাকে জব অফার করবেন? উপস্থাপকের এমন প্রশ্নের জবাবে এ্যাড গুরু পহ্লাদ কাক্কার বলেন, ‘অবশ্যই, সে অত্যন্ত সূক্ষ বুদ্ধির অধিকারী দেখেই এই ধরনের সৃষ্টিশীল হাস্যরসাত্মক কার্টুন বানাতে সক্ষম হয়েছে এবং আসলে এই কার্টুনটা যদি ভারতীয় প্লেয়ারদের না নিয়ে অস্ট্রেলিয়দের বা পাকিস্তানিদের নিয়ে করা হতো, তাহলে আমরা ভারতীয়রাও কিন্তু এই সৃষ্টিশীল ব্যঙ্গরসের মজাবেশ ভালভাবেই নিতাম।’
ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম


