প্রিয় মানুষটির সঙ্গে বেশি সময় ধরে একান্ত গোপনীয় সময় কাটানো যেকোনো পুরুষ ও নারীরই আরাধ্য একটি বিষয়। পুরুষের ফ্যান্টাসি হলো অনেক সময় ধরে যৌন মিলন করা। আবার অনেক নারীর কাছেও সহবাসে বেশি সময় পরিতৃপ্তির প্রধান অনুষঙ্গ। অনেক ক্ষেত্রে পুরুষত্বের মূল যোগ্যতা হিসাবে বেশি সময় ধরে মিলনকে গণ্য করা হয়। যদিও ঠিক কত সময়কে স্টান্ডার্ড হিসেবে ধরা হয় তার কোনো মাপকাঠি নেই। বিষয়টি সময়ের চেয়ে যদিও সঙ্গীর তৃপ্তিতেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। লক্ষ্য রাখতে হবে আপনার সঙ্গী কখন তৃপ্ত হলেন। বেশি সময় ধরে যৌন মিলন নারীর জন্য সবসময়ই সুখকর হয় না। তবুও অনেক পুরুষ বা নারীই চান সময়টা যেন একটু বেশিই হয়। যদিও বয়স ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে সঙ্গে পুরুষ মিলনের নানা উপায় রপ্ত করে থাকে।
এখানে বলে রাখা ভালো, ২১ থেকে ত্রিশের মধ্যের পুরুষরা সাধারণত খুব বেশি সময় ধরে মিলন করতে পারে না। তবে, তারা খুব অল্প সময় ব্যবধানে পুনরায় উত্তেজিত/উত্তপ্ত হতে পারে। তবে ২৫-এর পর বয়স যত বাড়বে, মিলনে পুরুষ তত বেশি সময় নেয়। কিন্তু বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুনরায় জাগ্রত (ইরেকশান) হওয়ার ব্যবধানও বাড়তে থাকে।
একটি বিষয় লক্ষনীয়, একজন নারীর সঙ্গে বার বার ঘনিষ্ঠ হলে যৌন মিলনে প্রথমবারের চেয়ে বেশি সময় দেওয়া যায় এবং মিলনে বেশি তৃপ্তি পাওয়া যায়। কারণ, নিয়মিত মিলনে একে অপরের শরীর এবং ভাললাগা/মন্দলাগা, পছন্দসই আসনভঙ্গি, সুখ দেওয়া-নেওয়ার পদ্ধতি ইত্যাদি সম্পর্কে ভালভাবে অবহিত থাকে। এটি পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি করে; যা আসলে মিলনের সময়কেই বাড়িয়ে তোলে।
প্রিয় সঙ্গীর সঙ্গে মিলনের সুনির্দিষ্ট কোনো পদ্ধতি নেই। দেশ-সময় ভেদে এর পরিবর্তন হয়। তবে কিছু মৌলিক বিষয় রয়েছে, যা যৌন মিলনের সময় নজরে রাখলে কিছু সময় বেশি পাওয়া যায়।
চেপে বা টিপে (স্কুইজ): এই পদ্ধতিটি আবিষ্কার করেছেন মাস্টার অ্যান্ড জনসন নামের দুই ব্যক্তি। চেপে ধরা পদ্ধতি আসলে নাম থেকেই অনুমান করা যায় কীভাবে করতে হয়। যখন কোনও পুরুষ মনে করেন তার বীর্য প্রায় স্খলনের পর্যায়ে, তখন সে অথবা তার সঙ্গী লিঙ্গের ঠিক গোড়ার দিকে অণ্ডকোষের কাছাকাছি লিঙ্গের নিচের দিকে যে রাস্তা দিয়ে মূত্র/বীর্য বের হয় সে শিরা/মূত্রনালী কয়েক সেকেন্ডর জন্য চেপে ধরবেন। লিঙ্গের পাশ থেকে দুই আঙ্গুল দিয়ে ক্লিপের মত আটকে ধরতে হবে। চাপ ছেড়ে দেওয়ার পর ৩০ থেকে ৪৫ সেকেন্ডের মত সময় বিরতি নিন। এই সময় লিঙ্গ সঞ্চালন বা কোনও প্রকার চলমান যৌন ক্রিয়া থেকে বিরত থাকুন। এ পদ্ধতির ফলে হয়তো পুরুষ কিছুক্ষণের জন্য লিঙ্গের দৃঢ়তা হারাবেন। কিন্তু ৪৫ সেকেন্ড পর আবার কার্যক্রম চালু করলে লিঙ্গ আগের দৃঢ়তা ফিরে পাবে।
স্কুইজ পদ্ধতি এক মিলনে আপনি যতবার খুশি ততবার করতে পারেন। মনে রাখবেন সব পদ্ধতির কার্যকারিতা অভ্যাস বা প্র্যাকটিসের উপর নির্ভর করে। তাই প্রথমবারেই ফল পাওয়ার চিন্তা করা বোকামি হবে।
সংকোচন বা টেনসিং: এ পদ্ধতি সম্পর্কে বলার আগে বেসিক ধারণাটা দরকার৷ মূত্রত্যাগ করার সময় পুরোপুরি নিঃসরণের জন্য অণ্ডকোষের নিচ থেকে পায়ুপথ পর্যন্ত অঞ্চলে যে এক প্রকার খিঁচুনি দিয়ে পুনরায় তলপেট দিয়ে চাপ দিতে হয়৷ এখানে বর্ণিত সংকোচন বা টেনসিং পদ্ধতিটি অনেকটা সে রকম। তবে পার্থক্য হল এখানে খিঁচুনি প্রয়োগ করতে হবে, চাপ নয়।
সংকোচন বা টেনসিং কিভাবে করবেন? মিলনকালে যখন অনুমান করবেন বীর্য প্রায় স্খলনের পথে, তখন আপনার সকল যৌন কর্যক্রম বন্ধ রেখে অণ্ডকোষের তলা থেকে পায়ুপথ পর্যন্ত অঞ্চল কয়েক সেকেন্ডের জন্য প্রচণ্ড শক্তিতে খিঁচে ধরুন। তারপর ছেড়ে দিন। পুনরায় কয়েক সেকেন্ডের জন্য খিঁচুনি দিন। এভাবে ২/১ বার করার পর যখন দেখবেন বীর্য স্থলনেরে চাপ/অনুভব চলে গেছে তখন আবার আপনার যৌন কর্ম শুরু করুন। সংকোচন পদ্ধতি আপনার যৌন মিলনকে দীর্ঘায়িত করবে।
বিরতি বা পজ অ্যান্ড প্লে: এই পদ্ধতিটি বহুল ব্যবহৃত। সাধারণত সব যুগল এই পদ্ধতির সহায়তা নিয়ে থাকেন। এই পদ্ধতিতে মিলনকালে বীর্য স্খলনের অবস্থানে পৌঁছালে লিঙ্গকে বাহির করে ফেলুন অথবা ভিতরে থাকলেও কার্যকলাপে বিরাম দিন। এই সময় আপনি আপনাকে অন্যমনস্ক করে রাখতে পারেন। অর্থ্যাৎ সুখ অনুভুতি থেকে মনকে ঘুরিয়ে নিন। যখন অনুভব করবেন বীর্যের চাপ কমে গেছে তখন পুনরায় শুরু করতে পারেন।
পজ অ্যান্ড প্লে পদ্ধতির সফলতা সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনার অভ্যাসের উপর। প্রথমদিকে এই পদ্ধতির সফলতা না পাওয়া গেলেও, যারা যৌন কার্যে নিয়মিত তারা এই পদ্ধতির গুণাগুণ জানেন। মনে রাখবেন, সব পদ্ধতির কার্যকরিতা অভ্যাস বা প্র্যাকটিসের উপর নির্ভর করে। তাই প্রথমবারেই ফল পাওয়ার চিন্তা করবেন না।
একান্ত মিলনের এই পদ্ধতিগুলো আসলে আপনার সঙ্গীর তৃপ্তির উদ্দেশ্যেই। অনেকের ধারণা নারী এ ট্রিকস গুলো অনুমান বা জানতে পারলে নারীসঙ্গীটি আপনার পুরুষত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলবে। ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। আপনি আপনার সঙ্গীকে সময়-সুযোগমতো পদ্ধতিগুলো বুঝিয়ে বলুন। দেখবেন তিনি আপনাকে সাহায্যই করছে। কারণ তিনিও তো জানেন, আপনি বেশি সময় নেওয়া মানে তো তারও তৃপ্তি!
হেল্থ ডেস্ক
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম।


