বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

সরকারি চাকরির বাছাই হওয়া ১৪ হিজড়ার ১২ জনই পুরুষ

hijra-JOBহিজড়াদের পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে সমাজসেবা অধিদপ্তরে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২৪ জন আবেদন করলে বাছাই করে ১৪ জনকে চূড়ান্ত নিয়োগের জন্য মনোনীত করা হয়। তবে ডাক্তারি পরীক্ষার পর জানা গেছে, এরা আসলে হিজড়া নয়, পুরুষ, এতোদিন এরা হিজড়ার অভিনয় করে কাটিয়েছে। স্বভাবতই, মেডিকেল বোর্ড থেকে এদের হিজড়া হিসেবে সনদ না দেওয়ায় চাকরিও হচ্ছে না। এদের নিয়োগ স্থগিত করা হয়েছে।

ঢাকার সিভিল সার্জনের দপ্তর তাদের পরীক্ষার রিপোর্টে বলেছে, ওই ১২ জন পূর্ণাঙ্গ পুরুষ বলে প্রতীয়মান হয়। দু’দিন আগে এই মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়ার পর, সমাজসেবা অধিদপ্তর নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক পারভীন মেহতাব জানান, মেডিকেল রিপোর্টের তীব্র প্রতিবাদ করছেন কথিত ওই হিজড়ারা। আমার কাছে এসে তাদের কজন প্রতিবাদ করে বলেছেন আমরা হিজড়া। প্রতারণা করতে চাইলে আমরা কি ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য যেতাম…কিন্তু ডাক্তারি পরীক্ষা বিশ্বাস করা ছাড়া অধিদপ্তরের আর কি করার আছে বলুন।

মহাপরিচালক মেহতাব জানান, লিঙ্গ নির্ধারণে ওই ১২ জনকে আরও পরীক্ষা করা হবে কিনা সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য উচ্চতর কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন তিনি।

পারভীন মেহতাব জানান, কল্যাণ এবং পুনর্বাসনের অংশ হিসাবে ঢাকা ও চট্টগ্রামে কিছু হিজড়াকে সমাজসেবা দপ্তরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ২০১৪ সালে। এরপর মৌখিক পরীক্ষার পর ঢাকায় ১২ জন এবং চট্টগ্রামে দুই জনকে মনোনীত করা হয়। হিজড়া পরিচয়ে অনেক সময় বিভিন্ন প্রতারণার ঘটনা ঘটে। এ কারণে নিয়োগ দেওয়ার আগে আমরা তাদের লিঙ্গ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আর তাতেই এই বিপত্তি আর বিভ্রান্তির সৃষ্টি।

ঢাকার ১২ জন পুরুষ হিসেবে চিহ্নত হলেও চট্টগ্রামের পরীক্ষায় দুই জনকে পুরুষ জাতীয় হিজড়া হিসাবে রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। ফলে, চট্টগ্রামে মনোনীত দুই জনকে নিয়ে সমাজসেবা দপ্তর কি করবে সে সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

সমাজসেবা অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় তাদের অফিস সহায়ক, দারোয়ান ও সমমানের পদে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। চূড়ান্ত ভাবে নিয়োগ পেলে এরা সমাজসেবা অধিদফতরের ৭টি প্রতিষ্ঠানে তারা যোগদান করবেন।

সূত্র জানায়, হিজড়াদের ডাক্তারি সনদের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ফরেনসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. হাবিবুজ্জামান চৌধুরীকে সভাপতি করে চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডের অপর তিন সদস্যরা হলেন, ঢামেক গাইনী বিভাগের অধ্যাপক ডা. ফেরদৌসি ইসলাম, এনাটমি বিভাগের অধ্যাপক ডা. শামীম আরা ও ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক ডা. মমতাজ আরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হিজড়া জনগোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির পরিচালক পারভীন মেহতাব গত এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহে ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ডা. ইসমাইল হোসেনের কাছে তাদের (হিজড়া) চাকরিতে নিয়োগের বিষয়টি জানিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য চিঠি দেন। ওই চিঠির প্রেক্ষিতেই চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।

 

ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের একাধিক ডাক্তার জানান, হিজড়াদের কার লিঙ্গ (পুরুষ নাকি মহিলা) কী তা জানতে কেরোটাইপিং নামের একটি পরীক্ষা অত্যাবশ্যক। রক্তের নমুনা থেকে এ পরীক্ষা করা হয়। রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে এ পরীক্ষাটি করা হয়। প্রতিটি নমুনা পরীক্ষায় তিন হাজার টাকা খরচ হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *