ক্যালিফোর্নিয়া: সবচেয়ে বেশি জোরে দৌড়ে পৃথিবীর “দ্রুততম মানুষ”-এর তকমা পেয়েছেন জামাইকার উসেইন বোল্ট । দুটো পা নেই, তবুও স্টিলের তৈরি কৃত্রিম পা নিয়ে দৌড়ন বলে “ব্লেড রানার” ডাকা হয় অস্কার পিস্তোরিয়াসকে । সেই সব স্প্রিন্টারদের তালিকায় যুক্ত হল আরও একটি নাম – অ্যামেরিকার মহিলা স্প্রিন্টার অ্যালেসিয়া মনট্যানিও । ৮ মাসের সন্তান গর্ভে নিয়ে সদ্য সমাপ্ত ইউএস আউটডোর ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড চ্যাম্পিয়নশিপে ৮০০ মিটার দৌড়েছেন তিনি । প্রমাণ করেছেন, মেয়েরা কোমল হতে পারে, কিন্তু কমজোর নয় ।
প্রেগনেন্সি এলে অনেক মেয়েকেই চাকরিবাকরি ছেড়ে বাড়িতে বসে থাকতে দেখা যায় । নিজের ও সন্তানের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে অনেকে কাজকর্ম শিকেয় তুলে দেন । সন্তান হলে সব অ্যাম্বিশন শেষ হয়ে যাবে, এমনটা ভেবে মা-ই হতে চান না আজকালকার অনেক মহিলা । আবার ক্যারিয়ার গুছিয়ে প্রায় মধ্য বয়সে এসে মা হওয়ার দিকে এগিয়ে আসেন অনেকে, কিন্তু ততদিনে অনেক দেরি হয়ে যায় ।
আর পাঁচজন নারীর মতো অ্যালেসিয়াও বাড়িতে বসে থাকতে পারতেন । কিন্তু ব্যতিক্রমী বলেই হয়তো সে পথে হাঁটেননি । গর্ভবতী অবস্থায় রোজ কয়েকশো মিটার দৌড়তেন । ডাক্তারের সম্পূর্ণ সায় ছিল তাতে । গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাস যেখানে ঠিকমতো চলাফেরা করাও কষ্টকর মেয়েদের, সেখানে ৮০০ মিটার দৌড়ে নারীশক্তিকে ফের এবার জাগিয়ে তুলেছেন অ্যালেসিয়া । ৩৫ সেকেন্ডে ৮০০ মিটারের রেস শেষ করেছেন ২৯ বছরের এই স্প্রিন্টার । গ্যালারি ভরা দর্শকের নজর কেড়েছেন । দৌড়ের সময় গ্যালারিতে তখন পিন-পড়া স্তব্ধতা । ফিনিশ লাইন যত এগিয়ে আসছে, চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে পড়ছেন দর্শকরা । স্বতঃস্ফূর্ত স্ট্যান্ডিং ওভেশন । সে এক দেখার মতো দৃশ্য । গ্যালারি ভরে তখন শুধু একটাই নাম “অ্যালেসিয়া, অ্যালেসিয়া” ।
২০১২ সালে লন্ডন অলিম্পিকে অংশ নিয়েছিলেন অ্যালেসিয়া । ৫ বার US আউটডোর চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছেন । অ্যালেসিয়াকে চেনা খুব সহজ । মাথায় খোপা করে তাতে একটি ফুল গোঁজেন। সেটাই তাঁর স্টাইল স্টেটমেন্ট । আবার সেটাই হল নারীত্বের পরিচয় ।
মাথায় ফুল গোঁজারও একটা গল্প আছে। সেই কোন ছোটোবেলায় ছেলেরা তাঁকে খুব খেপাত । খেলায় নিত না । বলত, “তুই তো মেয়ে, আমাদের সঙ্গে খেলতে পারবি না । যা, পুতুল নিয়ে রান্নাবাটি খেল ।” মেয়ে বলে যে ছেলেদের খেলায় অংশ নিতে নেই, অনেক ছোটো বয়সেই জেনেছিলেন অ্যালেসিয়া । কিন্তু, ধন্যি মেয়ে। মনে মনে স্থির করেন, “আমিও খেলব, দেখি কী করে আটকাস !” সেই শুরু । বাকিটা ইতিহাস।
ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম


