লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের জন্য বাংলাদেশ সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা। বৃহস্পতিবার ২ জুলাই লন্ডনে বিবিসি বাংলার সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন অভিজিৎ রায়ের হত্যাকাণ্ডের পর থেকে এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে কেউ তার সাথে যোগাযোগ করেনি। তিনি বলেন, আমি জানি না বাংলাদেশ সরকার কতটা আন্তরিক। আমার ধারনা তারা (সরকার) অনেক কিছুই জানে। না জানার কথা না তো।
অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের সাথে একটি বড় আন্তর্জাতিক চক্র জড়িত বলে তার ধারনা। তিনি মনে করেন শুধু কয়েকজন ব্যক্তি অভিজিৎ হত্যাকা-ের সাথে জড়িত নয়।
এখানে বড় একটি নেটওয়ার্ক জড়িত বলে মনে করেন রাফিদা আহমেদ বন্যা। কিন্তু এই বিষয়গুলোর গভীরে সরকার তদন্ত করতে চায় কিনা সেটি নিয়ে রাফিদা বন্যার যথেষ্ট সন্দেহ আছে। অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের পর তদন্ত যেভাবে হচ্ছে তাতে হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।
রাফিদা বন্যা বলেন, তদন্তে আমি সন্তুষ্ট না। আমি এতে অবাক হই না । কারণ এটাই হওয়ার কথা ছিল। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় ফিরে যাবার পর মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবি আই তার সাথে যোগাযোগ রাখছে। তবে বাংলাদেশের তদন্তের ক্ষেত্রে এফবি আই-এর কিছু করার নেই বলে তারা মিস বন্যাকে জানিয়েছে। তদন্তের ক্ষেত্রে এফবিআই শুধু বাংলাদেশকে সহযোগিতা করছে।
বাংলাদেশে গত ফেব্রুয়ারি মাসে বইমেলা থেকে ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আততায়ীরা ব্লগার অভিজিত রায়কে কুপিয়ে হত্যা করে। তখন ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিলেন অভিজিৎ রায়ের স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা।
কয়েকদিন ঢাকায় চিকিৎসা দেবার পর আহত অবস্থায় রাফিদা আহমেদ বন্যাকে যুক্তরাষ্ট্রে নেয়া হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।
অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের পর সন্দেহভাজন হিসেবে একজনকে আটক করা হলেও এখনো পর্যন্ত তদন্তে দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি হয়নি। যাকে আটক করা হয়েছিল সেই ব্যক্তি হত্যাকা-ের সাথে কতটা জড়িত সে বিষয়ে পুলিশ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


