ডায়াবেটিস রোগীদের জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ইনসুলিনের নকল হচ্ছে বাছবিছারহীনভাবে। কোনটা আসল কোনটা নকল তা বিক্রেতা ছাড়া বোঝার কোনো উপায়ই, অনেকসময় চিকিৎসরাও ধরতে পারেন না। দেশের অনেক ডায়াবেটিস রোগী নকল ইনসুলিন ব্যবহার করে প্রতারিত হচ্ছেন। দেখতে একই রকম হওয়ায় তারা নকল ওষুধ চিহ্নিত করতে পারছেন না। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে: অনেকেই এই ইনসুলিন গ্রহণের কারণে ডায়াবেটিসন নিয়ন্ত্রণ না করতে পেরে অন্য জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর দিকে চলেছেন। ওষুধ প্রশাসনও এক্ষেত্রে নীরব ভূমিকা পালন করছে।
চিকিৎসা খাতের বিশেষজ্ঞরা জানান, বাংলাদেশে ৭০-৮০ লাখ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। এদের মধ্যে টাইপ-১ ও টাইপ-২ রোগী রয়েছে। টাইপ-১ রোগীদের ইনসুলিন ব্যবহার ছাড়া উপায় নেই। আর টাইপ-২ রোগীরা কায়িক পরিশ্রম, ব্যায়াম, ওজন ও সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশের ইনসুলিন বাজারের বড় অংশ দখল করে আছে ডেনমার্কের নভো নরডিস্ক ও মার্কিন কোম্পানি ইলি লিলি। এ দুই কোম্পানির অ্যাকট্রাপিভ, মিক্সটার্ড, ইনসুলেটার্ড ও ফ্লেক্সিপ্লেক্স ব্র্যান্ডের ইনসুলিন রোগীরা বেশি ব্যবহার করেন। ৪০ মিলিলিটার ইনসুলিন ৫০০ টাকা ও ১০০ মিলিলিটার ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে দাম বেশি হলেও এগুলোর ওপর রোগীদের আস্থা বেশি।
ওষুধ বিক্রেতারা জানান, দেশের বাজারে ইনসুলিন চাহিদার শীর্ষে নভো নরডিস্ক। মোট ইনসুলিন বাজারের ৪৫-৫০ শতাংশ তাদের দখলে। ১৫-২০ শতাংশ রয়েছে মার্কিন কোম্পানি ইলি লিলির কাছে। বাকি ৪০-৩০ শতাংশ দেশী চার কোম্পানির দখলে। এর মধ্যে স্কয়ার ফার্মার রয়েছে এনসুলন, ইনসেপ্টার ম্যাক্সুলিন, পপুলারের ইনসুল ও অ্যারিস্টোফার্মার ইনসুলেট। এসব ইনসুলিন বাজারে ৪০ মিলিলিটার ১৯৫ টাকা ও ১০০ মিলিলিটার ৪১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রাজধানীর ওষুধের সবচেয়ে বড় পাইকারী বাজার পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় খোঁঁজ নিয়ে জানা যায়, বাজারে যেসব ইনসুলিন বেশি বিক্রি হয় ও দাম তুলনামূলক বেশি, সেগুলোই নকল হচ্ছে। বেশি লাভের আশায় দেশী বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ইনসুলিন বিদেশী মোড়কে ভরে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। আবার মেয়াদোত্তীর্ণ ইনসুলিন নতুন প্যাকেটজাত হয়ে বাজারে আসছে।
অভিযোগ রয়েছে, কয়েকজন চিহ্নিত আমদানিকারক মধ্যপ্রাচ্য থেকে স্বল্প মূল্যে ইনসুলিন আমদানি করে দামি কোম্পানির মোড়ক লাগিয়ে বাজারজাত করছেন। ইনসুলিন নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় রাখার নিয়ম রয়েছে। একশ্রেণীর ব্যবসায়ী লাগেজের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য থেকে যেসব ইনসুলিন আমদানি করছেন, তা বেশি তাপমাত্রায় রাখা থাকে। এসব ইনসুলিন ব্যবহারে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি।
রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে গেলে ইনসুলিন ব্যবহার করা হয়। তবে নকল ইনসুলিন ব্যবহার করা হলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, কিডনি ক্ষতিগ্রস্তসহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দেশে ওষুধের সংখ্যা যে হারে বাড়ছে, সে অনুযায়ী সব ওষুধ পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে না। ওষুধ প্রশাসনও এক্ষেত্রে নীরব ভূমিকা পালন করছে।
বাজারে ইনসুলিন নকল হলেও ওষুধ প্রশাসনের নীরব ভূমিকা পালনের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের পরিচালক গোলাম কিবরিয়া বলেন, ইনসুলিন নকল হচ্ছে কিনা, তা মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ভালো বলতে পারবেন। এ বিষয়ে নজর রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply