মন্ত্রিসভা ও ক্ষমতাসীন দল থেকে অপসারিত আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর জামিন বাতিল ও ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশসহ বিভিন্ন ইসলামী সংগঠন। শুক্রবার ৩ জুলাই জুমার নামাজ শেষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে তারা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি উত্তর গেট দিয়ে ঘুরে রাজধানীর পল্টন ও দৈনিক বাংলার মোড় ঘুরে যায়। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ছাড়াও বিক্ষোভ মিছিলে খেলাফত মজলিশ, সম্মিলিত ইসলামী দলগুলো, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ আরও কয়েকটি দল অংশ নেয়। বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে বায়তুল মোকাররম মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মন্ত্রিসভা ও আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর ফাঁসি না হওয়া পর্যন্ত ঘরে না ফেরার ঘোষণা দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম।
বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে শুক্রবার বাদ জুমা বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে হেফাজতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী এ ঘোষণা দেন।
মাওলানা কাসেমী বলেন, ‘মুরতাদ লতিফ সিদ্দিকীকে জামিনে মুক্তি দিয়ে সরকার মুসলমানদের অন্তরে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। এ আগুন নেভাতে অবিলম্বে পুনরায় তাকে গ্রেফতার করতে হবে।’
ধর্ম অবমাননাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আইন পাশের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ আইন পাশের মাধ্যমে লতিফ সিদ্দিকীসহ সকল নাস্তিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে। লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতার করে ফাঁসি না দেওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। হেফাজতে ইসলাম এ দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরে যাবে না।’
হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী সবার সঙ্গে আলোচনা করে শীঘ্রই এ ইস্যুতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলেও জানান নূর হোসাইন কাসেমী।
হেফাজতের সংক্ষিপ্ত এ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে হেফাজতভুক্ত দল— খেলাফত মজলিশের মহাসচিব অধ্যাপক ড. আহমদ আব্দুল কাদের, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মহিউদ্দিন ইকরাম, নেজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি এ্যাডভোকেট আব্দুর রকিব, খেলাফত আন্দোলনের ঢাকা মহানগর আমীর মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে হেফাজতে ইসলাম পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ মিছিল বের করে। বায়তুল মোকারম উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি পুরানা পল্টন মোড় ঘুড়ে,দৈনিক বাংলা হয়ে আবার উত্তর গেটে গিয়ে শেষ হয়। একই দাবিতে এর আগে পৃথকভাবে মিছিল বের করে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, খেলাফত মজলিশ, সম্মিলিত ইসলামী দলসমূহ এবং চরমোনাই পীরের সংগঠন ইসলামী আন্দোলনের ছাত্র সংগঠন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন। পরে খেলাফত আন্দোলন ও খেলাফত মজলিশের নেতাকর্মীরা হেফাজতের কর্মসূচিতেও শরিক হন। এ সময় তারা লতিফ সিদ্দিকীর কুশপুত্তলিকা দাহ করেন।
এদিকে একই দাবিতে রাজধানীর লালবাগ শাহী জামে মসজিদ থেকে বাদ জুমা মিছিল বের করে ইসলামী ঐক্যজোট। দলটির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ নেজামী ও মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ এতে নেতৃত্ব দেন।
২৯ জুন দীর্ঘ কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হন মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কৃত আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে একটি অনুষ্ঠানে হজ, মুহাম্মদ (সা.), তাবলীগ জামাত ও প্রধানমন্ত্রীপুত্র সজিব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে কটূক্তি করেন তিনি। এরপর সারাদেশে তার বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মামলা হতে থাকে। গত ১২ অক্টোবর তাকে মন্ত্রিসভা থেকে এবং ২৪ অক্টোবর আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীসহ প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। ২৩ নভেম্বর তিনি ভারত হয়ে দেশে ফেরার পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালত তাকে জামিন না দিয়ে জেল-হাজতে প্রেরণ করেন। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে করা একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী গত ২৯ জুন জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তিনি কারাবন্দী থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। মুক্তি পেয়ে তিনি হাসপাতাল ছাড়েন।
আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলামসহ বিভিন্ন ইসলামী দল ও সংগঠন তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। শুক্রবার এসব সংগঠনের সারাদেশে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি ছিল। এর অংশ হিসেবে শুক্রবার বাদ জুমা জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ধর্মভিত্তিক বিভিন্ন ইসলামী দল ও সংগঠন। যদিও বেলা সাড়ে তিনটায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


