বরিশালে পুলিশের ঘুষ তহবিলের ৭৭ লাখ টাকা সংশ্লিস্টদের মধ্যে ফেরত দেয়ার জন্য কমিটি গঠিত হয়েছে। মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) আবু রায়হান মো. সালেহকে প্রধান করে ৩ সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আগামী রোব কিংবা সোমবার সাময়িক বরখাস্ত হওয়া উপ-কমিশনার (উত্তর) মো. জিল্লুর রহমানের ফেরত দেয়া ৫০ লাখ টাকার চেক এই কমিটির কাছে বুঝিয়ে দেবে মেট্রোপলিটন পুলিশ। এরপর ওই কমিটি ব্যাংক থেকে টাকা তুলে তালিকা ধরে ২৩০ কনস্টেবলের টাকা ফেরত দেবে।
শুক্রবার বিকেলে যোগাযোগ করা হলে ঘুষ কেলেঙ্কারি তদন্তে বিএমপি গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান উপ-কমিশনার (সদর) শোয়েব আহাম্মদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন,গত বৃহস্পতিবার নিজ হেফাজতে গচ্ছিত রাখা ঘুষের ৫০ লাখ টাকা দু’টি চেকের মাধ্যমে ফেরত দিয়েছেন সাময়িক বরখাস্ত হওয়া উপ-কমিশনার মো. জিল্লুর রহমান। সোনালী ব্যাংকের একটি হিসাব নম্বরে ১৫ লাখ এবং ব্র্যাক ব্যাংকের একটি হিসাব নম্বরের বিপরীতে ৩৫ লাখ টাকার চেক দেন তিনি। ওই চেক ভাঙিয়ে টাকা উত্তোলন করে তারপর যাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়েছে তাদের মধ্যে ফেরত দিবে ওই কমিটি।
পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, পুলিশ সদর দফতরের তদন্ত প্রতিবেদনে বিএমপি কমিশনার শৈবাল কান্তিকে প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে। তাই শাস্তিমূলক বদলির শিকার না হয়ে সন্মানজনক বদলির জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তদবির করছেন তিনি।
পুলিশের আরেকটি সূত্র জানায়, ঘুষ তহবিলের পুরো বিষয়টি শুরু থেকে জেনেও কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে বরং প্রশ্রয় দেয়ায় শাস্তির মুখে পড়তে পারেন পুলিশ কমিশনার। তাই সম্ভাব্য শাস্তির খড়গ কাটানোর জন্য রাজনৈতিক তদবির শুরু করেছেন তিনি।
অপরদিকে, গত কয়েক দিন ধরে গণমাধ্যমে বরিশাল মেট্রো পুলিশের ঘুষ তহবিল গঠন এবং ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজন উপ-কমিশনার (পুলিশ সুপার পদ মর্যদা) এবং ৩ জন সহকারী উপ-পরিদর্শকসহ (এএসআই) মোট ১১ জন সাময়িক বরখাস্তের ঘটনায় ইমেজ সংকটে পড়েছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ। নগরী এবং শহরতলীতে সবার মুখে মুখে এখন বরিশাল পুলিশের ঘুষ কেলেঙ্কারির কথা।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


