বাংলাদেশে গরু পাচার বন্ধ করতে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপির নেতা রাজনাথ সিং তিন মাস আগে যে ঘোষণা দিয়েছিলেন তা বাস্তবায়ন করতে চলেছে ভারত।
বাংলাদেশে আর একটি গরুও যাতে না না ঢুকতে পারে সে জন্য ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অতিরিক্ত ৩০ হাজার বিএসএফ সদস্য মোতায়েন করছে ভারত। আগামী সোমবার থেকে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয় এই অতিরিক্ত বিএসএফ সদস্য মোতায়েন করবে।
শুক্রবার ভারতে বিএসএফের আদালতে ফেলানী হত্যার বিচারে অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে নির্দোষ প্রমাণের পর পরই এ ঘোষণা দিল ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় জানিয়েছে, নতুন এ ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশে গরু পাচার রুখতে চাইছে মোদি সরকার। এ কারনে বিএসএফে কয়েক হাজার ছেলেকে জওয়ান হিসাবে চাকরি দিয়েছে এবং গরু পাচার ঠেকানোর কাজে বিশেষ বাহিনী মোতায়েন করা করা হয়েছে।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের দাবি, গত কয়েক বছরে প্রায় ২০ লক্ষ গরু সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে পাচার হয়েছে। এ কারণে যে কোন মূল্যে গরু পাচার বন্ধ করতে চাইছে বিজেপি সরকার।
প্রসঙ্গত,গত ১ এপ্রিল তিনবিঘা করিডোর পরিদর্শন শেষে বিএসএফ জওয়ানদের উদ্দেশ্যে বক্তব্যে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, ভারত থেকে বাংলাদেশে গরু রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হবে যাতে বাংলাদেশের মানুষ গরুর মাংস খাওয়া বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।
এর দুদিন আগেই রাজনাথ সিং বলেছিলেন, মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানায় গরু জবাই নিষিদ্ধের পথ ধরে পুরো ভারতেই গরু জবাই নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করছে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রহরারত বিএসএফ জওয়ানদের উদ্দেশ্যে রাজনাথ বলেন, ‘আমাকে বলা হয়েছে যে বিএসএফের কড়া নজরদারিতে গরু পাচার বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশে সম্প্রতি গরুর মাংসের দাম ৩০ ভাগ বেড়ে গেছে।’
‘আপনারা নজরদারি আরো বাড়িয়ে দিন যাতে গরু পাচার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় এবং বাংলাদেশে গরুর মাংসের দাম আরো ৭০-৮০ শতাংশ বেড়ে যায় যাতে বাংলাদেশের মানুষ গরুর মাংস খাওয়া ছেড়ে দেয়,’ যোগ করেন রাজনাথ।
ভারতের সরকারি হিসেবে ২০১৪ সালে ভারত থেকে বাংলাদেশে ১৭ লাখ গরু এসেছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক,কলকাতা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম


