বিরোধীদলবিহীন নির্বাচন করতে না দিতে চেয়ে ভোটকেন্দ্রে আগুন দেওয়া রাজশাহীর চারঘাটের এক বিএনপি নেতা ফুলের মালা গলায় দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করলেন। রাজশাহীর চারঘাটে ভোটকেন্দ্রে হামলা ও পোড়ানোর মামলার আসামি জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের ওই নেতাকে ফুলের তোড়া দিয়ে আওয়ামী লীগে বরণ করে নেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। একই অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর একজন কর্মীও সরকারি দলে যোগ দেন।
পরে মোখলেছুর রহমান স্বীকার করেন, তাঁর নামে ভোটকেন্দ্র পোড়ানো, ভোটের দিনে হামলা, ২০১২ সালে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের মামলা রয়েছে। এসব মামলা তুলে নেওয়ার শর্তে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দিলেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি তাঁরা দেখবেন বলে জানিয়েছেন।
গত ২ জুলাই সন্ধ্যায় চারঘাট উপজেলার শলুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শলুয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে এই যোগদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শলুয়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেছুর রহমান ও জামায়াতকর্মী শলুয়া ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক হুমায়ূন কবির এবং তাঁদের নেতৃত্বে প্রায় দুই শতাধিক নেতা-কর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেন।
মোখলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগের দিন রাতে শলুয়া ডিগ্রি কলেজ ভোটকেন্দ্র পোড়ানো, ভোটের দিনে হামলা ও ২০১২ সালে শলুয়া ডিগ্রি কলেজের মাঠে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলের অনুষ্ঠানে জারি করা ১৪৪ ধারা ভঙ্গের মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ভোটকেন্দ্র পোড়ানো মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। এরপর আদালত তাঁর নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। যোগদান অনুষ্ঠানে মোখলেছুরকে রাজশাহী-৪ (চারঘাট-বাঘা) আসনের সাংসদ প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের পাশে বসে আলাপচারিতায় ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শলুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মফিজ উদ্দিন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন চারঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ফকরুল ইসলাম, শলুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল হক, চারঘাট পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে মোখলেছুর রহমান বলেন, যে দলের নেত্রী দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি ও ভোট বানচাল করার জন্য নেতা-কর্মীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়ার নির্দেশ দেন, তার রাজনীতি আর করবেন না।
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশ যখন উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন বিএনপি দেশ ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছে। তাদের মুখোশ খুলে গেছে। তাই বিএনপির নেতা-কর্মীরা সারা দেশে দল ছাড়ছেন। দেশের উন্নয়নের অংশীদার হতে বিএনপির নেতা-কর্মীরা এখন আওয়ামী লীগে আসছেন।
সংবাদদাতা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


