বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

জাপানের শীর্ষ মডেল রোলা’র বাবা বাংলাদেশি

Rola_Japanজাপানের ব্যস্ত শীর্ষ মডেলদের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় রোলা একজন বাংলাদেশি বাবার কন্যা। মা অবশ্য জাপানি-রাশিয়ান দম্পতির মেয়ে ছিলেন। রোলার বাবার বাড়ি বিক্রমপুরে। রোলার মায়ের সঙ্গে বাবার বিচ্ছেদ হয়ে গেছে বেশ কিছুদিন আগে। রোলার জনপ্রিয়তা জাপানে এমনই আকাশচুম্বী যে তাঁর কাছাকাছি পৌঁছানো সহজ নয়। বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হতে হলো। তার এজেন্সি কোনোভাবেই অনুমতি দিতে রাজি নয়। বেশ কয়েকটা সূত্রে চেষ্টা করেও শেষমেশ রোলার সাক্ষাৎ পাওয়া সম্ভব হয়নি।

রোলার বাবা বাংলাদেশি হওয়ায় এই তরুণীর নামের সঙ্গে বাংলাদেশের নামটিও প্রায় সার্বক্ষণিকভাবে যুক্ত হয়ে আছে, যদিও অন্য নেতৃস্থানীয় ফ্যাশন মডেলদের বেলায় তা হচ্ছে না।

এটা হয়তো জাপানি জীবনে ‘হাফু’, অর্থাৎ মিশ্র যুগলের সন্তানদের প্রায়ই মোকাবিলা করতে হওয়া একধরনের বিড়ম্বনা, যার চমৎকার উল্লেখ সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি সাক্ষাৎকারে করেছেন ইদানীংকার আরেক জাপানজয়ী ‘হাফু’ তরুণী আরিয়ানা মিয়ামোতো। আরিয়ানা কিছুদিন আগে জাপানের মিস ইউনিভার্স নির্বাচিত হয়েছেন এবং আগামী বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগিতায় জাপানের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য মনোনীত হয়েছেন।

রোলার মতো আরিয়ানাও মিশ্র যুগলের সন্তান। তবে রোলাকে যেসব বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে এখনকার পর্যায়ে যেতে হয়েছে, আরিয়ানার বেলায় তা ছিল অনেকাংশেই অনুপস্থিত। রোলা অর্ধেক বাংলাদেশি হলেও ওর অন্য অর্ধেক পুরোপুরি জাপানি নয়। রোলার মা জাপানি-রুশ মিশ্র যুগলের কন্যা। সেদিক থেকে সিকি ভাগ জাপানি পরিচয় নিয়ে জাপান জয়কে বিশাল জয় অবশ্যই আখ্যায়িত করতে হয়।

ফ্যাশন ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত হওয়ার পর বাবার স্খলনের কারণে জাপানের সংবাদমাধ্যমে রোলাকে প্রশ্নবিদ্ধ হতে হয়েছে। দুবছর আগের সেই ঘটনায় তরুণীর মডেল জীবনের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে অনেকে সংশয় প্রকাশ করতে শুরু করলেও রোলা কিন্তু তা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হন।

টোকিওর জেলা আদালত কিছুদিন আগে এক রায়ে রোলার বাবাকে অপরাধী চিহ্নিত করে আড়াই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। চার বছরের জন্য স্থগিত সেই দণ্ডাদেশ অপরাধী ওই সময়ের মধ্যে অন্য কোনো অপরাধে জড়িত না হলে কার্যকর হবে না। অনেকে মনে করছেন, পারিবারিক জীবনের সে রকম উত্থান-পতন বরং জাপানিদের মধ্যে ওকে নিয়ে একধরনের সহানুভূতির মনোভাব তৈরি করে দিয়েছে। তরুণী রোলার জনপ্রিয়তাকে তা আরও বাড়িয়ে দেয়।

ফলে জাপানের তারকা জগতের প্রতিষ্ঠিত এক ব্যক্তিত্ব এখন রোলা। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ ঘটে যাওয়ার পর বাল্যকালে বেশ কয়েক বছর বাংলাদেশে কাটানো এবং পরবর্তী সময়ে বাবার সঙ্গে মায়ের সান্নিধ্য ছাড়া বেড়ে ওঠা, এসব নানা রকম প্রতিকূলতা পার হয়ে আসতে পেরেছেন বলেই ‘হাফু’ হওয়া সত্ত্বেও জাপানিরা আজকাল রোলা নিজেদের খুবই কাছের একজন বলে গ্রহণ করে নিয়েছে। আর সেই গ্রহণযোগ্যতার সঙ্গে বাংলাদেশের নামটি উচ্চারিত হওয়ায় আমাদের মধ্যেও তা এনে দিচ্ছে একধরনের তৃপ্তির বোধ। দ্রুত পরিবর্তনশীল ফ্যাশন জগতে তাঁর গর্বিত পদচারণ আরও অনেক দিন বজায় থাকুক, সেই কামনা এখন প্রবাসীদের সবাই করছেন।
সূত্র: প্রথম আলো

নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন