বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

প্রাথমিকের শিক্ষকদের জেলার সদর উপজেলায় বদলিতে নিষেধাজ্ঞা

primery_educationউপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা নন- এমন শিক্ষকদের জেলা সদর ও পৌরসভায় অবস্থিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বদলি না করার একটি নির্দেশিকা জারি করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সন্তোষ কুমার অধিকারী সোমবার এই তথ্য জানান।

কয়েক মাস আগে শিক্ষক বদলির নীতিমালা সংশোধন করে জেলার সদর উপজেলা ও জেলার সদর পৌরসভায় শিক্ষকদের বদলির সুযোগ দেওয়া হয়। এরপর এসব এলাকায় বদলি ও সংযুক্তির জন্য অনেক শিক্ষকের আবেদন জমা পড়ে। সংসদ সদস্যরাও বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানান। সবকিছু বিবেচনা করে ওই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা নয় এমন সহকারী শিক্ষকদের বদলিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত সচিব।

অতিরিক্ত সচিব জানিয়েছেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের স্বল্পতা থাকায় জেলার সদর উপজেলা ও সদর পৌরসভায় প্রধান শিক্ষকরা বদলি হতে পারবেন।

এছাড়া আগের মতো সবগুলো সিটি করপোরেশনে প্রাথমিকের শিক্ষকদের বদলিতে নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে কেউ যদি জেলা সদর বা সদর পৌরসভা ছেড়ে বাইরে যেতে চান সে পথ উন্মুক্ত রয়েছে।

বর্তমানে দেশে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৩ হাজার।

১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে ৩৬ হাজার ৮৪৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়েছিল। এরপর এরশাদ সরকারের আমলে কিছু প্রতিষ্ঠান এবং বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে সরকারী হয় মাত্র ৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই অবস্থায় গেল মহাজোট সরকারের আমলে সরকারীকরণ হয় আরও ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারী রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়কে।

১৯৯০ সালে প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১৯৯২ সালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগ সৃষ্টি করা হয় এবং ২০০৩ সালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগকে ঘোষণা করা হয় একটি পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রণালয়।

১৯৯১ সালে মোট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (সব ধররনের প্রাথমিক প্রতিষ্ঠান) সংখ্যা ছিল ৪৯ হাজার ৫৩৯টি। এ সংখ্যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২ হাজার ২১৮টিতে (মাদ্রাসাসহ)।

কিন্তু বাস্তবতা হলো- দেশের প্রায় ২ হাজার ১০০ গ্রামে নেই কোনো ধরনের প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিভিন্ন মহল থেকে দীর্ঘদিন যাবত এসব এলাকায় বিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানানো হলেও সরকারীভাবে বিষয়টিকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে গেল মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরেই প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের জন্য বিদ্যালয়বিহীন এলাকায় ১ হাজার ৫০০ প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন