স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে অব্যাহতি দিতে মঙ্গলবার ৭ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৌখিক নির্দেশনার পর সৈয়দ আশরাফকে দপ্তর বিহীন মন্ত্রী করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরবর্তীতে আবারও নমনীয় হয়েছে সরকার। চলমান রাজনৈতিক নানা বাস্তবতার কারণে এই মুহুর্তে এই ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করতে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের পক্ষ থেকে মতামত দেওয়ার পর সৈয়দ আশরাফকে অব্যাহতি থেকে সরে আসে সরকার। মঙ্গলবার বিকেল সরকারের একাধিক সূত্র এই তথ্য জানায়।
সৈয়দ আশরাফকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার খবরের সূত্রপাত হয় দুপুরে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত নির্বাহী পরিষদের সভা থেকে। সেখানেই মূলত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে অব্যাহতি দিয়ে অন্য কাউকে ওই মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী করার কথা বলেন। তিনি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে এ বিষয়ে সারসংক্ষেপ তৈরি করতেও নির্দেশনা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
পরে বিকেল সোয়া চারটার দিকে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ জানান, “সৈয়দ আশরাফকে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ে থেকে সরিয়ে ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে। দুপুরে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে।”
একনেক বৈঠক সূত্রের খবর, একনেক বৈঠকে এদিন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ৬ হাজার ৭৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প উত্থাপন করার কথা ছিল সৈয়দ আশরাফের। তবে তিনি বৈঠকে যাননি। এটির জন্য একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রায় আধাঘণ্টা সভাকক্ষে বসে থাকতে দেখা গেছে। পরে ‘অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২’ প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই প্রকল্পটি তদারকি করার জন্য আরো অ্যাকটিভ মন্ত্রী দরকার। উনি (সৈয়দ আশরাফ) প্রায় বৈঠকেই অনুপস্থিত থাকেন, তাকে দিয়ে মন্ত্রণালয়ের কাজ পুরোপুরি হচ্ছে না। এ কারণে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া যেতে পারে।’
যদিও কাকে এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হবে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কিছু জানাননি বলে বৈঠক সূত্রে জানা যায়।
সূত্র জানায়, এর আগে গত সোমবার ৬ জুলাই মন্ত্রিসভার বৈঠকে মন্ত্রিসভার রদবদল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৈয়দ আশরাফের মতবিরোধ দেখা দেয়। এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সৈয়দ আশরাফ অনুরোধও করেন তাকে স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিতে। এরপরই মঙ্গলবারে একনেকের এই ঘটনা ঘটে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জ্যেষ্ঠ এক মন্ত্রী নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কমকে বলেন, আজকের একনেক বৈঠকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফ না থাকায় প্রধানমন্ত্রী ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। এরপর তিনি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে এ বিষয়ে সারসংক্ষেপ তৈরি করতে বলেন। ওই মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হয়তো ক্ষোভের মুখে এ ধরনের কথা বলেছেন। চাইলে পরে তিনি তা প্রত্যাহার করে নিতে পারেন। তবে পুরো বিষয়টি এখন নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রীর ওপর।’
সৈয়দ আশরাফের অব্যহতি প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমার কাছে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। কিছু হলে আপনারা জানবেন। আপনাদের দেয়ার মতো কোনো ইনফরমেশন নেই।’
এই পরিস্থিততে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর (এলজিআরডি) দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া সংক্রান্ত বিষয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। তাকে ওই মন্ত্রণালয় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে বলে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে মঙ্গলবার দুপুরের পরই জানান।
এদিকে মন্ত্রিসভায় রদবদল ও দপ্তর বণ্টনের দাপ্তরিক কাজটি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি।
ধারণা করা হচ্ছে, বিষয়টিতে এখন আপাতত আর কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না সরকার।
বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


