বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

গুজবে কান দেবেন না, সময় হয়েছে দোয়া পড়ুন: আশরাফ

ashraf1_Newsworldbdস্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে অপসারন করা হচ্ছে- এমন খবরের প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি মঙ্গলবার ৭ জুলাই সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জ শহরের বাড়িতে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

এ প্রসঙ্গে সৈয়দ আশরাফ আরও বলেন, দপ্তর হারানোর বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদে কোনো রদবদল হচ্ছে কিনা, এমন খবরও তাঁর জানা নেই।

এর পর মন্ত্রী স্থানীয় সমবায় কমিউনিটি সেন্টারে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত ইফতার মাহফিলে যোগ দেন। এ সময় সাংবাদিকেরা তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চান। তবে তিনি এড়িয়ে যান। সৈয়দ আশরাফ ইফতারের আগে কিংবা পরেও তেমন কোনো কথা বলেননি। মন্ত্রী ইফতারের কয়েক মিনিট আগে মঞ্চে উপস্থিত হয়ে মোনাজাতে অংশ নেন। এসময় তিনি মাইক হাতে নিয়ে বলেন, ‘আপনারা ইফতার করতে এসেছেন ইফতার করুন। সকলে দোয়ায় অংশ নেন। সময় হয়ে গেছে, দোয়া পড়ুন।’ এই বলে তিনি মাইক ছেড়ে দেন। ইফতারের পর দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে সার্কিট হাউসে চলে যান তিনি। পরে তিনি শহরের খরমপট্টির বাসভবনে যান। সেখানেই তিনি রাত্রিযাপন করবেন বলে জানা গেছে।

সৈয়দ আশরাফ বুধবার সকালে গ্রামের বাড়ি সদর উপজেলার যশোদলে পারিবারিক কবরস্থান জিয়ারত করবেন। দুপুরে তিনি সার্কিট হাউসে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় যোগ দেবেন। বিকেলে তার নির্বাচনী এলাকা জেলার হোসেনপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত ইফতার মাহফিলে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। ইফতার অনুষ্ঠান শেষে ওইদিন রাতেই তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে সৈয়দ আশরাফ দপ্তর হারাচ্ছেন—দুপুরের পর থেকে তাঁর নিজ শহর কিশোরগঞ্জে এটিই ছিল প্রধান আলোচ্য বিষয়। তিনি আজ নিজ জেলায় আসছেন, এমন খবরে দলীয় অনেক নেতা-কর্মী ও স্থানীয় লোকজন তাঁর বাসভবনের সামনে জড়ো হন।
উল্লেখ্য মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে সৈয়দ আশরাফকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জ্যেষ্ঠ এক মন্ত্রী মঙ্গলবার দুপুরেরর পর বলেন, আজকের একনেক বৈঠকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফ না থাকায় প্রধানমন্ত্রী ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। এরপর তিনি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে এ বিষয়ে সারসংক্ষেপ তৈরি করতে বলেন। ওই মন্ত্রীর ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী হয়তো ক্ষোভের মুখে এ ধরনের কথা বলেছেন। চাইলে পরে তিনি তা প্রত্যাহার করে নিতে পারেন।

সৈয়দ আশরাফকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার খবরের সূত্রপাত হয় দুপুরে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত নির্বাহী পরিষদের সভা থেকে। সেখানেই মূলত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে অব্যাহতি দিয়ে অন্য কাউকে ওই মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী করার কথা বলেন। তিনি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে এ বিষয়ে সারসংক্ষেপ তৈরি করতেও নির্দেশনা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

পরে বিকেল সোয়া চারটার দিকে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ জানান, “সৈয়দ আশরাফকে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ে থেকে সরিয়ে ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে। দুপুরে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে।”

একনেক বৈঠক সূত্রের খবর, একনেক বৈঠকে এদিন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ৬ হাজার ৭৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প উত্থাপন করার কথা ছিল সৈয়দ আশরাফের। তবে তিনি বৈঠকে যাননি। এটির জন্য একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রায় আধাঘণ্টা সভাকক্ষে বসে থাকতে দেখা গেছে। পরে ‘অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২’ প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই প্রকল্পটি তদারকি করার জন্য আরো অ্যাকটিভ মন্ত্রী দরকার। উনি (সৈয়দ আশরাফ) প্রায় বৈঠকেই অনুপস্থিত থাকেন, তাকে দিয়ে মন্ত্রণালয়ের কাজ পুরোপুরি হচ্ছে না। এ কারণে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া যেতে পারে।’

সূত্র জানায়, এর আগে গত সোমবার ৬ জুলাই মন্ত্রিসভার বৈঠকে মন্ত্রিসভার রদবদল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৈয়দ আশরাফের মতবিরোধ দেখা দেয়। এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সৈয়দ আশরাফ অনুরোধও করেন তাকে স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিতে। এরপরই মঙ্গলবারে একনেকের এই ঘটনা ঘটে।

সংবাদদাতা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন