বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ব্রাজিলের সেই গম জোর করে দেওয়া যাবে না: হাইকোর্ট

Wheat_Brazil.2ব্রাজিল থেকে আমদানি করা চারশ কোটি টাকার বির্তকিত গম ‘মানুষের খাওয়ার উপযোগী’ বলে খাদ্য অধিদপ্তর প্রতিবেদন দিলেও ওই গম নিতে কাউকে বাধ্য না করার নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। সেইসঙ্গে এরই মধ্যে বণ্টন হয়ে যাওয়া গম যদি কেউ ফেরত দিতে চায় তবে তাও ফেরত নিতে হবে সরকারকে।

বুধবার ৮ জুলাই দুপুরের পর বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও আবু তাহের মোহাম্মদ সাইফুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ এ রিটটির নিষ্পত্তি করেন। এর আগে গত ৫ জুলাই রিটটির ওপর শুনানি শেষে আজ আদেশের দিন ধার্য করা হয়।

আমদানি করা দুই লাখ পাঁচ হাজার ১২৮ মেট্রিক টন গমের মধ্যে এক লাখ ৭৪ হাজার ৯২৬ মেট্রিক টন ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়।

আদালতের পর্যবেক্ষণ দিয়ে গম সংক্রান্ত রিটের নিষ্পত্তি করেছেন হাইকোর্ট। পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ব্রাজিল থেকে আমদানি করা গমের মধ্যে যা বিতরণ হয়ে গেছে, কেউ তা ফেরত দিতে চাইলে সরকারকে তা ফেরত নিতে হবে। আর কেউ ওই গম নিতে না চাইলে তাকে তা জোর করে দেওয়া যাবে না।

ইতোমধ্যে পুলিশ, বিজিবি, আনসার, জেলখানা, বিভিন্ন ডিলার ও আটা কল ছাড়াও টিআর (টেস্ট রিলিফ) ও কাবিখাসহ (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) বিভিন্ন কর্মসূচিতে বিতরণ করা ওই গম কেউ ফেরত দিতে চাইলে তা ফেরত নিতেও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

এই পর্যবেক্ষণ দিয়ে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের বেঞ্চ মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের নিষ্পত্তি করে দিয়েছে।

আদেশের পর ডেপুটি অ্যার্টনি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস বলেন, “খাদ্য অধিদপ্তরের জমা দেওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত বলেছেন, গম, খাওয়ার উপযোগী নয়- এ কথা কোথাও বলা হয়নি। অর্থাৎ, ওই গম খাওয়ার উপযোগী্।”

ব্রাজিল থেকে আমদানি করা ওই গম ‘নষ্ট ও পচা’বলে পুলিশের পক্ষ থেকে আপত্তি তোলার খবর গণমাধ্যমে এলে আলোচনা শুরু হয়। ‘পচা গম’ আমদানির অভিযোগে বিএনপির পক্ষ থেকে খাদ্যমন্ত্রীর পদত্যাগও দাবি করা হয়।

তবে ওই গম ‘পচা নয়’ দাবি করে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম সংসদে বলেন, এ গম সম্পূর্ণ খাবার উপযোগী; মান নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট।

এরপর ‘নিম্নমানের’ গম আমদানি ও সরবরাহের অভিযোগ দুদককে দিয়ে তদন্তের আদেশ চেয়ে পাভেল মিয়া নামের এক আইনজীবী গত ২৮ জুন এই রিট আবেদন করেন।

এ বিষয়ে প্রাথমিক শুনানি করে ৩০ জুন হাই কোর্ট রুলসহ আদেশ দেয়। ওই গম মানুষের খাওয়ার উপযোগী কি-না, সে বিষয়ে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

সে অনুযায়ী, খাদ্য অধিদপ্তরের মহা পরিচালকের পাঠানো প্রতিবদন গত ৫ জুলাই আদালতে জমা দেয় রাষ্ট্রপক্ষ।

বাংলাদেশ শিল্প বিজ্ঞান গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর), কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার কথা উল্লেখ করে মহাপরিচালকের প্রতিবেদনে বলা হয়, আমদানি করা গমের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠায় খাদ্য মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে বিভিন্ন জেলার খাদ্য গুদাম মজুদ ওই গমের ৫৭টি নমুনা নির্বাহী ম্যজিস্ট্রেটের মাধ্যমে সংগ্রহ করে খাদ্য অধিদপ্তরের পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হয়।

তাদের সত্যায়নে বলা হয়: ব্রাজিল থেকে আমদানি করা গম চুক্তিপত্রের নির্দেশ অনুসারে গ্রহণীয় সীমার মধ্যে থাকায় মানুষের খাওয়ার উপযুক্ত বলে খাদ্য অধিদপ্তর হতে প্রত্যয়ণ করা হল।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন