অষ্টম বেতন কাঠামো যেভাবে রয়েছে, সেইভাবে বাস্তবায়ন করা হলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অস্থির হয়ে ওঠার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন উপাচার্যরা। সচিবালয়ে বুধবার শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন। প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোর বিষয়ে উপাচার্যরা শিক্ষামন্ত্রীর কাছে তাদের বিভিন্ন আপত্তি তুলে ধরেন। একজন উপাচার্য বলেন, ‘কোনো কুচক্রী মহল শিক্ষকদের মূল স্বার্থ বেতনে আঘাত হানছে। তারা অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির পায়তারা করছে। এ সব চক্রান্ত নস্যাৎ করতে হবে। অস্থিরতা শুরু হলে কারো পক্ষে তা থামানো সম্ভব হবে না।’
উপাচার্যদের সংগঠন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলাউদ্দিন মন্ত্রীর কাছে প্রস্তাবিত অষ্টম বেতন স্কেল পুনর্বিবেচনা সংক্রান্ত একটি স্মারকলিপি দেন।
উপাচার্যরা জানান, সপ্তম বেতন স্কেলে অধ্যাপকদের সমান বেতন পাওয়া কর্মকর্তাদের বেতন প্রস্তাবিত অষ্টম স্কেলে যেভাবে বেড়েছে সে অনুযায়ী অধ্যাপকদের বেতন বাড়েনি। একই সঙ্গে সিলেকশন গ্রেড না থাকায় অধ্যাপকরা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
সভায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, ‘প্রস্তাবিত অষ্টম বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উত্তাল হবে। অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয় তা বিবেচনা করে আগেই ব্যবস্থা নিতে হবে।’
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম নূর-উন-নবী বলেন, ‘নতুন বেতন কাঠামোতে সচিব ও অধ্যাপকদের সমতা আনা দরকার। আমার মনে হয়, বেতন বৈষম্য এনে শিক্ষকদের অবদমিত করা হচ্ছে। এটা কি কোনো ষড়যন্ত্র? শিক্ষকদের তুচ্ছ করার জন্য এটা করা হচ্ছে।’
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. ফায়েকউজ্জামান বলেন, ‘প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোতে শিক্ষকদের বেতন নিয়ে চাতুরতা করা হয়েছে। মনে হয়েছে এটা শিক্ষকদের নিচে নামানোর একটা প্রায়াশ। এ বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন হলে বিশ্ববিদ্যালয় উত্তাল হবে। এটা দমানো কঠিন হবে।’
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘নিয়োগের সময় উপাচার্যদের কোনো সুবিধার কথা ডিফাইন (সুনির্দিষ্ট) করা থাকে না। সব কিছু চেয়ে নিতে হয়। আমাদের অসম্মান করা হচ্ছে।’
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামান বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘শিক্ষকদের আলাদা বেতন স্কেল হবে’, শিক্ষামন্ত্রীও এটা চান। কিন্তু বাধা কোথায়? সবাই না হলেও কিছু ব্যক্তি কর্তৃত্ব করতে চায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের তারা বাধা মনে করেন।’’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহীত উল আলম বলেন, ভিসিদের পদমর্যাদা বাড়ানো উচিত। কোনো অনুষ্ঠানে গেলে ভিসিদের বসতে জটিলতা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা সপ্তম বেতন স্কেলে যেভাবে বেতন পেতেন নতুন স্কেলে তারা আরও এগিয়ে যাওয়ার আশা করেন। কিন্তু এর থেকে পেছনে যাওয়া মেনে নেওয়া কষ্টকর।’
চারটি দাবি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের দাবিগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের পদমর্যাদা জাতীয় বেতন স্কেলের সর্বোচ্চ বিশেষ স্কেলের সমান করে অন্যান্য সুবিধাদি নিশ্চিত করা; বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তন করা; রাষ্ট্রীয় ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্ট (মর্যাদাক্রম) এ ভিসি ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের প্রত্যাশিত বেতন কাঠামো অনুযায়ী পদমর্যাদা নিশ্চিত করা।’
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলাউদ্দিন বলেন, তাদের (আমলা) বেতন বেড়ে যাবে। এটা হতে পারবে না। এটা আমরা মেনেও নেব না। পৃথিবীর কোথাও সুবিধা কমানোর ইতিহাস নেই।
নতুন বেতন কঠামোর বিষয়ে যা শোনা যাচ্ছে তার কোনো কিছুই চূড়ান্ত নয় জানিয়ে নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘রাস্তায় নেমে আপনাদের কষ্ট করার দরকার নেই। আমি চিঠি দিয়ে আপনাদের দাবিগুলো রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জনপ্রশাসন সচিবকেও ডিও লেটার দেওয়া হয়েছে।’
সবশেষে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষকদের সম্মান, মর্যাদা বৃদ্ধির বিষয়টি আমার একার ব্যাপার নয়, এটা পুরো শিক্ষা পরিবারের দাবি।’ শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে ব্যক্তিগতভাবেও আপনাদের বিষয়গুলো জানিয়েছি।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


