বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ট্রেনের অগ্রিম টিকিটের জন্য লড়াই চলছে

Ticket_Eid_Kamlapurঈদে ট্রেনের আগাম টিকেট কিনতে রাজধানী ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে চলছে সেই চিরচেনা সংগ্রাম। অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার ৯ জুলাই সকাল ৯টায়। কিন্তু বরাবরের মতোই বুধবার রাতে এসে কাউন্টারের সামনে অবস্থান নেন অনেকে। সকালে যখন কাউন্টার খোলা হল, টিকেটের আশায় তখন লাইনে দাঁড়িয়ে কয়েক হাজারো মানুষ। ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও সিলেটেও এদিন রেলের আগাম টিকেট বিক্রি শুরু হয়েছে।

প্রথম দিন দেওয়া হচ্ছে ১৩ জুলাইয়ের টিকেট। আর শুক্রবার পাওয়া যাবে ১৪ জুলাইয়ের। এছাড়া ১১ জুলাই ১৫ তারিখের, ১২ জুলাই ১৬ তারিখের এবং ১৩ জুলাই ১৭ তারিখের টিকিট পাওয়া যাবে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলবে টিকেট বিক্রি। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এবার ১৮ জুলাই রোজার ঈদ হতে পারে।

সকাল ৯টায় কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, কোনো কাউন্টারের সামনেই তিলধারণের যায়গা নেই। চট্টগ্রামের টিকেট কিনতে আসা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নুরন্নবী সোহাগ জানান, তিনি লাইনে জায়গা নিয়েছেন রাতেই। সেহরি খেয়েই এখানে চলে এসেছি। আমি এসেও অনেককে লাইনে পেয়েছি।

দিনাজপুরের টিকেট নিতে আসা মকসুদুল ইসলামও ভোররাতে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। সকালে টিকেট পাওয়ার পর রাতের কষ্ট ভুলেছেন তিনি। বছরে দুইবার মাত্র বাড়ি যাওয়া হয়। সবাই মিলে ঈদ করব, সুতরাং একটু কষ্ট হলেও সেটা মেনে নিই।

কমলাপুর রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক সীতাংশু চক্রবর্তী বলেন, যে কোনো ধরনের বিশৃক্সখলা ও অনিয়ম ঠেকাতে আইনশৃক্সখলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

ঈদের পর ফিরতি টিকেট বিক্রি শুরু হবে ১৬ জুলাই। ওইদিন পাওয়া যাবে ২০ জুলাইয়ের আগাম টিকেট। এছাড়া ১৭ জুলাই ২১ তারিখের, ১৯ জুলাই ২২ ও ২৩ তারিখের এবং ২০ জুলাই ২৪ তারিখের আগাম টিকেট মিলবে।

ঈদের পরে রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, দিনাজপুর, লালমনিরহাট স্টেশন থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় টিকিট বিক্রি হবে।

রেল মন্ত্রণালয় এবার ঈদেও পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালানোর ঘোষণা দিয়েছে।

ঈদের আগে ১৫-১৭ জুলাই এবং পরে ২০-২৬ জুলাই দেওয়ানগঞ্জ স্পেশাল, চাঁদপুর স্পেশাল, পার্বতীপুর স্পেশাল এবং খুলনা স্পেশাল নামে এসব বিশেষ ট্রেন চলবে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের আন্তনগর, মেইল ও লোকাল ট্রেনের আসনসংখ্যা প্রায় ৩৮ হাজার। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বিশেষ ট্রেন। সব মিলিয়ে ঢাকা থেকে প্রায় ৫০ হাজার যাত্রী প্রতিদিন ট্রেনে চড়ে বাড়ি যেতে পারবেন। একইভাবে চট্টগ্রাম থেকে আন্তনগর, মেইল ও লোকাল ট্রেনের আসনসংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। কিন্তু ঈদ উপলক্ষে ১২-১৩ হাজার যাত্রী ট্রেনে চড়ে গন্তব্যে যেতে পারবেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন