ব্রাজিল থেকে আমদানি করা গম নিতে ‘বাধ্য না করার’ হাইকোর্টের দেওয়া পর্যবেক্ষণ ২৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করেছে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত। খাদ্য সচিব ও খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের এক আবেদনের শুনানি করে চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন।
একই সঙ্গে আবেদনটি ২৬ জুলাই আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানীর জন্য পাঠানো হয়েছে।
এর আগে বুধবার ব্রাজিল থেকে আমদানি করা গম কাউকে জোর করে দেওয়া যাবে না এবং কেউ ওই গম ফেরত দিতে চাইলে কর্তৃপক্ষকে তা ফেরত নিতে হবে— এমন পর্যবেক্ষণ আদেশ দেন হাইকোর্ট।
২৯ জুন ব্রাজিল থেকে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার নিম্নমানের গম আমদানিতে দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন পাভেল মিয়া নামে এক আইনজীবী। রিট আবেদনে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) দিয়ে তদন্তের নির্দেশনা চান।
রিট আবেদনে বলা হয়, সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। কিন্তু খাদ্যের অনুপযোগী গম সরবরাহ করা সংবিধান পরিপন্থী। পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রাজিল থেকে আমদানি করা ৪০০ কোটি টাকার দুই লাখ টন ‘নষ্ট ও পচা গম’ নিয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদফতর ‘লুকোচুরি করছে’। পচা ও নষ্ট গম আমদানির অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার পরও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। বরং সেগুলো বিভিন্ন কর্মসূচিতে এবং সরকারি সংস্থায় বিতরণ করা হচ্ছে।
ওই গম মানুষের খাবার উপযোগী কিনা, তা দেশের মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (বিএসটিআই) ও কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) মাধ্যমে পরীক্ষা করাতে আবেদনকারী আদালতের কাছে নির্দেশনা চেয়েছেন। এ ছাড়া নিম্নমানের গম আমদানি ও সরবরাহ করা কেন বেআইনী ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে আদালতের কাছে রুল চাওয়া হয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ও খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে আবেদনে বিবাদী করা হয়েছে।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একরামুল হক টুটুল আদেশের পর বলেন, “আদালত হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ স্থগিত করে ২৬ জুলাই আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে বিষয়টি শুনানির জন্য পাঠিয়েছেন।
ইতোমধ্যে পুলিশ, বিজিবি, আনসার, জেলখানা, বিভিন্ন ডিলার ও আটা কল ছাড়াও টিআর (টেস্ট রিলিফ) ও কাবিখাসহ (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) বিভিন্ন কর্মসূচিতে বিতরণ করা ওই গম (ব্রাজিলের) ‘শনাক্ত করা সাপক্ষে’ কেউ ফেরত দিতে চাইলে তাও ফেরত নিতে বলে হাই কোর্ট।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


