মানুষের জন্য ক্ষতিকর সীসা পাওয়া যাওয়ায় জনপ্রিয় নুডলস ম্যাগি আতঙ্কের পর আবার পুরনো দিনে ফিরছে কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের মানুষেরা৷ ২ মিনিটের জাদু ভুলে গৃহিণীরা ফিরছেন অতীতের সাধারণ নুডলস বা ‘চাউমিন’-এ৷ চলতি মাসের গোড়ায় দেশ জুড়ে ম্যাগি বিতর্ক শুরু হওয়ার পর আতঙ্ক চেপে বসে দেশবাসীর মনে৷
মাত্রাতিরিক্ত মনোসোডিয়াম গ্লুটাসেট (এম এস জি) বা আজিনামোটো ও সিসা মেলায় দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ামক সংস্হা ‘ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া’ (এফ এস এস এ আই) দেশের বাজারে ৮ ধরনের ম্যাগি বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে৷ এর পরই বাজার থেকে সব ধরনের ম্যাগি নুডল্স তুলে নেয় নেসলস৷ মামলা করেও নিষ্কৃতি না মেলায় কয়েকশো কোটি টাকার ম্যাগি নষ্ট করে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয় বহুজাতিক সংস্হাটি৷
জেটগতির জীবনে সময় সাশ্রয়ে একসময় অতিপ্রিয় খাদ্যসামগ্রীর স্হান দখল করেছিল ম্যাগি৷ তাদের ২ মিনিটের জাদুতে মোহিত হয়ে পড়েছিলেন মায়েরা৷
শিশুদের স্কুলের টিফিনে একটা বড় খাদ্য উপাদানের স্হান দখল করেছিল ম্যাগি৷ কম সময়ে পেট ভরাতে কলেজ পড়ুয়া, অফিস যাত্রীসহ আধুনিক জীবনে অভ্যস্ত মানুষের পছন্দের এই খাদ্যবস্তুর জুড়ি মেলা ভার হয়ে পড়েছিল৷ পশ্চিমবঙ্গ সরকার ম্যাগি বিক্রির ওপর কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি না করলেও, ম্যাগি-আতঙ্ক থেকে যুক্ত হতে পারেনি এই রাজ্যের মানুষ৷ ম্যাগি-আতঙ্কের এই ঢেউ এসে পড়েছে বাজারে৷
ম্যাগির উপযোগী হিসেবে বাজারে চালু থাকা অন্য নামী-অনামী কোম্পানির প্যাকেটবন্দী নুডল্সের বিক্রি কমেছে বলে জানালেন শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম, শহরতলির বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীরা৷ তাঁরা জানান, গত সপ্তাহের মধ্যে দোকানগুলো থেকে ম্যাগি নুডল্স ফিরিয়ে নিয়ে গেছে কোম্পানির লোকজন৷
বিনিময়ে মিলেছে নেসলস কোম্পানির অন্য খাদ্যসামগ্রী, চাইলে পাওয়া গেছে নগদ ফেরতও৷ বাজার থেকে ম্যাগি উধাও হলেও এই ধরনের বিকল্প চটজলদি নুডল্সের অর্ডার দেওয়া অনেকটা কমিয়েছেন ব্যবসায়ীরা৷
তাঁদের কথায়, প্যাকেট বন্দী এরকম সব ধরনের নুডল্সেরই এখন চাহিদা অনেকটা কমেছে৷ পক্ষান্তরে বিক্রি বেড়েছে পুরনো দিনের স্হানীয় ছোট ছোট কোম্পানির তৈরি সাদামাটা নুডল্সের৷ কোথাও তা বিক্রি হচ্ছে নুডল্স নামে, কোথাও আবার চাউ নামে৷ আর আগের মতো একটু বেশি সময় খরচ করে পুরনো পদ্ধতিতে চাউ বানাচ্ছেন গৃহিণীরা৷
নিজস্ব প্রতিবেদক, কলকাতা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


