বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

প্রেমিকার বাড়িতে প্রেমিক খুন, প্রেমিকাসহ আটক ৪

indexনবম শ্রেণির কিশোরী মেয়ের কিশোর প্রেমিককে বাড়িতে ডেকে এনে হত্যা করেছে মেয়ের বাবা। ঘটনার পরে পুলিশ প্রেমিকাসহ চারজনকে আটক করেছে। তবে পালিয়ে গেছে প্রেমিকার অভিযুক্ত বাবা। বুধবার ৮ জুলাই মধ্যরাতে গাজীপুর শহরের উপকণ্ঠের হাতিমারা এলাকায় বাসিন্দা হামিদুল ইসলামের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক আব্দুস সালাম সরকার নিশ্চিত করেন, তারেককে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল।

হাতিমারা এলাকার বাসিন্দা বাদশা মিয়ার ছেলে ও হাতিমারা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র নিহত ১৬ বছরের কিশোর তারেক রহমান। তার প্রেমিকার নাম পারভীন আক্তার। সে একই এলাকার হামিদুল ইসলামের মেয়ে ও হাতিমারা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী।

জয়দেবপুর থানার চক্রবর্তী ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাকির হোসেন জানান, একই স্কুলে লেখাপড়ার সুবাধে পারভীন আক্তারের সঙ্গে সম্প্রতি তারেক রহমানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে গত জুন মাসের প্রথম সপ্তায় তারা দুজন বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর মেয়ের বাবা হামিদুল ইসলাম জয়দেবপুর থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ তারেকের বড় ভাইকে গ্রেপ্তার করে। এ খবর পেয়ে তারেক ওই ছাত্রীকে তার বাবার কাছে পৌঁছে দেন।

এ ঘটনার পরে স্থানীয় ভাবে একটি আপোষ মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক মা মেনে নিলেও বাবা মেনে নেননি। এরই মধ্যে বুধবার রাত ১২টার দিকে হামিদুল তার মেয়েকে দিয়ে মোবাইল ফোনে তারেককে ডেকে আনতে বলেন। মেয়ে রাজি না হলে তাকে বিদ্যুতের শক দিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হয়।

পরে পারভিন বাধ্য হয়ে মোবাইল ফোন করে তারেককে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাদের বাড়িতে ডেকে আনে। রাতে তারেক প্রেমিকার বাড়িতে আসার পর পারভিন ও তার মা শিরিন আক্তারকে পাশের একটি রুমে আটকে রাখে হামিদুল ইসলাম। পরে পারভিনের বাবা ও তার সহযোগীরা তারেককে বেধড়ক লাঠিপেটা ও লাথি কিলঘুষিতে মারাত্মক আহত করে। এক পর্যায়ে তারেকের মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে মুর্মূষু অবস্থায় তাকে হাতিমারা এলাকার একটি মসজিদের পাশের রাস্তায় ফেলে রাখে আসেন।

স্থানীয়রা টের পেয়ে তারেকের বাবাকে খবর দেয়। খবর পেয়ে তারেকের স্বজনরা বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে তাকে উদ্ধার করে গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মো. জাকির হোসেন আরো জানান, হত্যার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছাত্রী ও তার বাবার সহযোগী মমিনুল ইসলাম (৩২), প্রত্যক্ষদর্শী সুমন (৯) ও বেলাল হোসেনকে (৭) আটক করে বৃহস্পতিবার বিকালে জয়দেবপুর থানায় আনা হয়েছে।

সংবাদদাতা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন