দফরবিহীন মন্ত্রী হওয়ার প্রজ্ঞাপন জারির কয়েকঘণ্টা পর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম যুবলীগের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিলেও দপ্তর হারানোর বিষয়ে কিছু বলতে চাননি সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। সাংবাদিকদের বারবার প্রশ্নে সৈয়দ আশরাফের মুখে হাসি থাকলেও কোনো কথা ফোটেনি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলীয় কার্যালয়ে সহযোগী সংগঠনের ইফতার অনুষ্ঠানে যান আশরাফ।
আশরাফ অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হলে যুবলীগের নেতা-কর্মীরা তাকে স্বাগত জানিয়ে মঞ্চে নিয়ে বসান। অনুষ্ঠানে বক্তৃতার পর মঞ্চেই ইফতার করেন আশরাফ। এরপর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের ইফতার অনুষ্ঠানস্থল থেকে পাশের আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান তিনি।
সেখানে যাওয়ার সময় সাংবাদিকরা তাকে ছেঁকে ধরলে যুবলীগ নেতা-কর্মীরা এক রকম সাংবাদিকদের আড়াল করেই তাকে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দোতলায় সংগঠনের কার্যালয়ে নিয়ে যান।
যুবলীগ কার্যালয়ে আশরাফ অবস্থান নেওয়ার পর সাংবাদিকরাও সেখানে ঢোকার চেষ্টা করেন। কিন্তু ভেতর থেকে সাংবাদিকদের চলে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেন না।
যুবলীগ কার্যালয়ে প্রায় ২৫ মিনিট অবস্থানের পর বেরিয়ে এলে সাংবাদিকরা আবার ঘিরে ধরেন আশরাফকে। কিন্তু যুবলীগ নেতা-কর্মীরা তাকে ঘিরে এগিয়ে নিয়ে জাতীয় পতাকাশোভিত গাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেন তাকে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে আশরাফ প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দল বিএনপিতে ‘গণতন্ত্রহীনতা’র কথা তুলে ধরে বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হলে অশুভ শক্তির হাতে ক্ষমতা চলে যাবে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালদা জিয়াকে ‘মিথ্যাচার’ বন্ধ করার অনুরোধও জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে সহিংসতার পথ পরিহার করার জন্য খালেদা জিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “একদিন না একদিন বাংলার মানুষ প্রতিশোধ নেবে।”
মঙ্গলবার ৭ জুলাই একনেক সভার পর আশরাফকে তার মন্ত্রণালয় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও তিনি গুজবে কান না দিতে সাংবাদিকদের পরামর্শ দিয়েছিলেন।
দুদিনের মধ্যে সেই গুঞ্জনের ভিত্তি পাওয়ার পর যুবলীগের এই ইফতারই ছিল আশরাফের প্রথম প্রকাশ্য কোনো অনুষ্ঠান।
অব্যাহতির ঘোষণা আসার আগে আশরাফ দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যান এবং শেখ হাসিনার সঙ্গে ১৫ মিনিট একান্তে কথা বলেন তিনি।
গত সাত বছর ধরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সামলে আসা ৬৩ বছর বয়সী সৈয়দ আশরাফ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদেও রয়েছেন প্রায় একই সময় কাল।
২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারির পর শেখ হাসিনাসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের বন্দি হওয়ার প্রেক্ষাপটে দলে সাধারণ সম্পাদকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের ভার আসে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহকর্মী সৈয়দ নজরুলের ছেলে আশরাফের উপর।
আশরাফের সফলতার মধ্যে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল পরে মুক্তি পেলেও দায়িত্বে আর ফিরতে পারেননি। পরে ২০০৯ সালে কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন আশরাফ।
তার আগে ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে শেখ হাসিনার সরকারে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন আশরাফ। ২০১৪ সালে শেখ হাসিনা পুনরায় সরকার গঠন করলে দলের সাধারণ সম্পাদককে একই মন্ত্রণালয়ই দেন শেখ হাসিনা।
কিশোরগঞ্জের সংসদ সদস্য আশরাফ ছাত্রজীবনে ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর জেলখানায় সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পর লন্ডনে চলে যান আশরাফ। সেখানে আওয়ামী লীগে সক্রিয় ছিলেন তিনি।
১৯৯৬ সালে দেশে ফিরে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর শেখ হাসিনার ওই সরকারে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী হন আশরাফ।
১৯৯৬ সাল থেকে প্রতিটি সংসদ নির্বাচনেই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলো সরকার গঠনের ক্ষেত্রে সাধারণ সম্পাদককে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বটি দিতে স্বচ্ছন্দ। এর আগে শেখ হাসিনার সরকারে জিল্লুর রহমানও একইভাবে এই মন্ত্রণালয়ে ছিলেন। বিএনপির ক্ষেত্রেও একই বিষয় দেখা যায়।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


