বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

এইসটিসির স্মার্টফোন বিক্রি কমছে, লোকসান বাড়ছেই

htc_desire_eyeতাইওয়ানের স্মার্টফোন নির্মাতা তাইওয়ানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এইচটিসি বাজার ধরতে ব্যর্থ হচ্ছে। লস বাড়ছেই। চলতি ২০১৫ বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) তারা ২৬ কোটি ১০ লাখ ডলার লোকসানের কথা জানায়। আবার লোকসানের ধারায় ফিরে আসার ঘটনা এইচটিসির জন্য অশুভ সংকেত বলেই মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। খবর ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

চার প্রান্তিক ধরে মুনাফার পথেই ছিল তাইওয়ানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি। তবে গত প্রান্তিকে এসে এ ধারায় ছেদ পড়ে। উদীয়মান বাজারে দামি ডিভাইসের পরিবর্তে তুলনামূলক কম দামের ডিভাইস বিক্রিতে প্রাধান্য, ব্যয় হ্রাসের বিভিন্ন উদ্যোগ তাদের অল্প সময়ের জন্য মুনাফার ধারায় নিয়ে এসেছিল। কিন্তু গত প্রান্তিকে এইচটিসির ডিভাইস বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়।

গত প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটি রাজস্ব আয় করে ৩ হাজার ৩০১ কোটি নিউ তাইওয়ানিজ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। গত বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির রাজস্বের পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৫০৬ কোটি নিউ তাইওয়ানিজ ডলার। বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির অনিরীক্ষিত লোকসানের পরিমাণ দাঁড়ায় ৮০৩ কোটি নিউ তাইয়ানিজ ডলার (২৬ কোটি ১০ লাখ ডলার)।

প্রতিষ্ঠানটি এ সময়ে সরবরাহকৃত ডিভাইসের সংখ্যা প্রকাশ করেনি। তবে এক বিবৃতিতে জানায়, ডিভাইস বিক্রি কমে যাওয়ার কারণে তারা বেশ কয়েকটি উত্পাদন কারখানা বন্ধ রেখেছে। অন্যদের দিয়ে ডিভাইস উত্পাদনের চেষ্টা চলছে বলেও জানানো হয়। বন্ধ থাকা উত্পাদন কারখানার কারণে তাদের লোকসানের পরিমাণ এখনো জানা যায়নি।

কয়েক বছর আগেও অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস বাজারের শীর্ষস্থানীয় পর্যায়েই ছিল এইচটিসি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। স্মার্টফোনের বিক্রি বৃদ্ধির সময় দামি ডিভাইসের চেয়ে তুলনামূলক কম দামি ডিভাইসের চাহিদাই বেশি ছিল। এতে করে শাওমির মতো চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে ভালো অবস্থান করে নিতে সক্ষম হয়। কিন্তু এইচটিসির মতো দামি ডিভাইস সরবরাহকারীরা কিছুটা সমস্যায় পড়ে।

অ্যাপলের মতো প্রতিষ্ঠান একাই দামি ডিভাইস বাজারের অধিকাংশ দখল করে রেখেছে। আর কম দামের শ্রেণীতে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী বাজারে নেই। এ কারণে ব্ল্যাকবেরি ও স্যামসাংয়ের পাশাপাশি এইচটিসির মতো প্রতিষ্ঠানের আয়ও এ বাজার থেকে কমছে।

বাজার ধরনের সঙ্গে তাল মেলাতে চেষ্টা করলেও খুব বেশি সুবিধা করে উঠতে পারছে না তাইওয়ানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি। কম দামের ডিভাইসের চাহিদা লক্ষ করে তারা দামি ডিভাইসের পরিবর্তে কম দামেরগুলোতেই প্রাধান্য দিতে শুরু করে। কিন্তু তাও এইচটিসির জন্য খুব ফলপ্রসূ হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না।

টেকনোলজি ডেস্ক
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন