গত ৪৮ ঘণ্টার বৃষ্টিতে বানভাসি হয়ে পড়ল কলকাতা। উত্তর থেকে দক্ষিণ যেদিকে তাকানো যায়, চারিদিকে শুধুই জলছবি। শুক্রবার ১০ জুলাই দুপুরেই কলকাতার পাশাপাশি সংলগ্ন উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ অঞ্চল জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।
কলকাতায় নিকাশি ব্যবস্থা সন্তোষজনক মন্তব্য করেছিলেন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। আর তার দু’দিনের মধ্যেই জলের তোড়ে ভেসে প্রাণ দিতে হল এক ছয় মাসের শিশুকন্যাকে। মুক্তারাম বাবু স্ট্রিটের ফুটপাথে রাতে পরিবারের সঙ্গে ঘুমিয়েছিল শিশুকন্যাটি। জানা গিয়েছে, রাতে নাগাড়ে বৃষ্টিতে ফুটপাতের উপর জল উঠে এসে ভাসিয়ে নিয়ে যায় শিশুটিকে। ঘুমের ঘোরে সেই ঘটনা টের পাননি শিশুটির পরিজনেরা।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার কয়েকঘণ্টা বাদে কিছুটা দূরে বিধান সরণির কাছে শিশুকন্যাটির দেহ উদ্ধার হয়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করে। বস্তুত, এর পরেও কি সদর্থক ব্যবস্থা নেবে কলকাতা পুরসভা, প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ইতিমধ্যেই।
কার্যত ঘরবন্দি শহরের মানুষ। উত্তর থেকে দক্ষিণ, অনেক জায়গায় জলমগ্ন রাস্তা। জায়গায় জায়গায় পড়ে রয়েছে গাছ। চলেনি অটো-রিকশাও। বিঘ্নিত হয়েছে রেল চলাচলও। রাস্তায় অমিল ছিল বাস, ট্যাক্সিও। সময় মত গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে বেগ পেতে হয়েছে যথেষ্ট। যদিও মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, শহরে জল নেমে গিয়েছে, বৃহত্তর কলকাতার কয়েকটি এলাকায় বিক্ষিপ্ত ভাবে জল জমে রয়েছে। মেয়র জানিয়েছেন, জমা জলও যাতে তাড়াতাড়ি নেমে যায় তার জন্য পুরসভা জোরকদমে কাজে নেমেছে। ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। জোয়ার থাকার কারণে খালগুলি স্বাভাবিক নিয়মে জল বের করে দিতে পারেনি। জমা জল বের করতে পাম্পগুলিকে কাজে লাগানো হয়েছে। তিনি নিজে বিষয়টি তদারকি করছেন বলে জানিয়েছেন শোভনবাবু।
নিজস্ব প্রতিবেদক, কলকাতা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


