সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকেও সরানো হচ্ছে এমনটি মনে করছেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী একটি অংশ। দলের লোভনীয় ওই পদটি পেতে নিজেদের মতো করে দেনদরবার ও যোগাযোগ এরই মধ্যে তারা শুরুও করেছেন। আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র এমন ইঙ্গিতই দিয়েছে।
আওয়ামী লীগের পরবর্তী সাধারণ পদে এরই মধ্যে যাদের নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে তারা হলেন, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, ওবায়দুল কাদের, কাজী জাফরউল্লাহ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ এবং সদ্য এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেয়াই ইঞ্জিয়ার খন্দকার মোশারফ হোসেন।
আওয়ামী লীগের অনেক কেন্দ্রীয় নেতা মনে করছেন, শেখ হাসিনার আস্থাভাজন, পরিশ্রমী, দুর্নীতির অভিযোগ নেই সব কিছু মিলিয়ে মতিয়া চৌধুরীকে পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে তার ‘বাম রাজনীতির অভিজ্ঞতা’ এক্ষেত্রে কাল হয়ে দেখা দিতে পারে। ২০০৯ ও ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত দু’টি কাউন্সিলেই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় ছিলেন ওবায়দুল কাদের ও কাজী জাফরউল্লাহ। এ দু’নেতার আগেই সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচিত হয়ে উঠেছিলেন মোহাম্মদ নাসিম।
২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর নাসিমকে সাংগঠনিক পদ থেকে সরিয়ে সদস্য করা হয়। দীর্ঘদিন পর আবারও লাইম লাইটে এসেছেন নাসিম। দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক পদে রয়েছেন তিনি। ১৯৭৫ সালে কারাগারে নির্মম হত্যাকাণ্ডেরর শিকার শহীদ ক্যাপ্টেন এম মুনসুর আলীর ছেলে তিনি। সব কিছু মিলিয়ে দলের পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নাসিমের বেশ সম্ভবনা রয়েছে বলে মনে করছেন কেউ কেউ।
এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছেন খন্দকার মোশারফ হোসেন। দায়িত্ব পাওয়ার পরদিন ১০ জুলাই নিজ নির্বাচনি এলাকা ফরিদপুরে যান তিনি। রাজনীতিতে তিনি নতুন নয়, ৩৬ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, কর্মজীবনে সততা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা এসব বিষয়ে বক্তব্য রেখেছেন মোশাররফ। ফলে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মোশারফ এখন বেশ আলোচনায় রয়েছেন।
ঘনিষ্ঠ আত্মীয় এবং শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত হিসেবে খন্দকার মোশারফ, কাজী জাফরউল্লাহ ও মাহাবুব উল আলম হানিফ আর দুঃসময়ে জীবনবাজি রেখে রাজপথে লড়াই করা অগ্নিকণ্যা খ্যাত মতিয়া চৌধুরীর মধ্যে কে হবেন আওয়ামী লীগের পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক এই কৌতুহল থাকবে আগামী ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই তারিখেই ক্ষমতাসীন দলের ত্রি-বার্ষিক জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। তবে তার আগেই প্রত্যাশীরা নিজেদের মতো লবিং গ্রুপ তৈরি করে নেত্রীর আস্থাভাজনের চেষ্টা শুরু করবেন বলে সূত্রের খবর।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


