কিছুদিন বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশে আবারও কার্যক্রম শুরু করল এশিয়ার সর্ববৃহৎ বাজেট এয়ারলাইনস এয়ার এশিয়া। গত শুক্রবার ১০ জুলাই রাত ১২টা ২৫ মিনিটে ১৩৮ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে এয়ারলাইনসটির প্রথম ফ্লাইট একে-৭০ কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এর আগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে এয়ারলাইনসটির ফ্লাইট কার্যক্রম উদ্বোধন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার নরলিন বিন্তি ওথমান।
জানা গেছে, ঢাকা-কুয়ালালামপুর রুটে প্রতিদিন একটি করে ফ্লাইট চালাবে এয়ার এশিয়া। কুয়ালালামপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশে ফ্লাইট ছাড়বে প্রতিদিন রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে (স্থানীয় সময়), যা ঢাকায় পৌঁছবে রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে। আর ঢাকা থেকে প্রতিদিন রাত ১২টা ২৫ মিনিটে ফ্লাইট ছেড়ে কুয়ালালামপুরে পৌঁছবে ৬টা ২৫ মিনিটে (স্থানীয় সময়)। ঢাকা-কুয়ালালামপুর রুটে রিটার্ন টিকিটের মূল্য ধরা হয়েছে সব ধরনের ট্যাক্স ও চার্জসহ ২৪ হাজার ৪৯৯ টাকা। ১৮০ আসনবিশিষ্ট এয়ারবাস এ৩২০ উড়োজাহাজ দিয়ে এ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করবে এয়ার এশিয়া। উড়োজাহাজটির কার্গো পরিবহনক্ষমতা ছয় টন। বাংলাদেশে এয়ার এশিয়ার জেনারেল সেলস এজেন্ট (জিএসএ) হিসেবে নিযুক্ত হয়েছে টোটাল এয়ার সার্ভিসেস লিমিটেড।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ান হাইকমিশনার নরলিন বিন্তি ওথমান বলেন, এয়ার এশিয়ার ফ্লাইট চালুর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে কানেক্টিভিটি আরো বাড়ল। আর বাজেট ক্যারিয়ার হওয়া যাত্রীরা অনেক কম ভাড়ায় ভ্রমণ করতে পারবেন। এতে সাধারণ যাত্রীরা আরো বেশি ভ্রমণে উৎসাহী হবেন।
টোটাল এয়ার সার্ভিসেস লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ মামুন জানান, বাজেট ক্যারিয়ার হলেও এয়ার এশিয়া ঢাকা-কুয়ালালামপুর ও কুয়ালালামপুর-ঢাকা রুটের যাত্রীদের বিনামূল্যে ৩০ কেজি পর্যন্ত ব্যাগেজ বহনের সুযোগ দেয়ার পাশাপাশি খাবারও সরবরাহ করবে। তবে এ সুবিধা অন্য রুটে ভ্রমণকারী যাত্রীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। তিনি বলেন, এয়ার এশিয়া বাংলাদেশের মধ্যম আয়ের যাত্রীদের জন্য সাশ্রয়ী ভাড়ায় ভ্রমণের সুযোগ করে দিতে সচেষ্ট। মতিঝিল, বনানী, ধানমন্ডি, গুলশান ও উত্তরায় এয়ার এশিয়ার জিএসএ কাউন্টার থেকে সরাসরি টিকিট কিনলে ছাত্র, শ্রমিক, পারিবারিক ও করপোরেট গ্রুপ ভ্রমণের জন্য ১০ শতাংশ বিশেষ ছাড়ে ভ্রমণের সুযোগ থাকছে। পাশাপাশি দেশের সব ট্রাভেল এজেন্টদের সরাসরি টিকিট ইস্যুর জন্য বুকিং সিস্টেম চালু করা হয়েছে।
জানা গেছে, বর্তমানে ১২৯টিরও বেশি দেশে এয়ার এশিয়ার ফ্লাইট রয়েছে। কার্যক্রম চালুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১৩ বছরে প্রায় ২৫০ মিলিয়নের বেশি যাত্রী পরিবহন করেছে এয়ারলাইসটি। এয়ার এশিয়ার বহরে বর্তমানে ১৮০ আসনের ১৫০টি এয়ারবাস এ৩২০ উড়োজাহাজ রয়েছে; যেগুলো দিয়ে ছোট ও মাঝারি গন্তব্যের ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। আর ৫ ঘণ্টার অধিক যাত্রার জন্য এয়ারলাইনসটির বহরে ৩৭৭ আসনের ১৫টি এয়ারবাস এ৩৩০ উড়োজাহাজ রয়েছে। এছাড়া আরো ২০০টি বিভিন্ন মডেলের এয়ারবাস উড়োজাহাজ সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় রয়েছে; যা পর্যায়ক্রমে এয়ার এশিয়ার বহরে যুক্ত হবে।
টোটাল এয়ার সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাদি আবদুল্লাহ জানান, ঢাকা-সিঙ্গাপুর-ঢাকা রুটে রিটার্ন টিকিট ৩৫ হাজার ৯৯৯ টাকায় কিনতে পারবেন যাত্রীরা।
বাংলাদেশী যাত্রীরা মালয়েশিয়া থেকে কানেক্টিং ফ্লাইটে বিশ্বের ১২৯টিরও বেশি গন্তব্যে সাশ্রয়ী ভাড়ায় ভ্রমণ করতে পারবেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ঢাকা-সিডনি-ঢাকা রুটে রিটার্ন টিকিট ৬৫ হাজার টাকা। আর পার্থ ও গোলকোস্টে এ খরচ আরো কয়েক হাজার টাকা কম হবে। ঢাকা থেকে অস্ট্রেলিয়ায় সবচেয়ে কম খরচের ফ্লাইট এটি।
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


