ঈদ উপলক্ষ্যে খুলনায় গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া এক ব্লগারকে তার স্ত্রীসহ কুপিয়েছে দুবৃত্তরা। খুলনায় বাড়িতে ঢুকে ব্লগার ফরহাদ হোসেন ও তার স্ত্রী ফারজানা ইয়াসমিন লাকীকে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় ওই বাড়ি থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায় ঘাতকরা। মঙ্গলবার ১৪ জুলাই খুলনার আড়ংঘাটা থানার ওসি আমীর তৈমুর আলী তথ্যটি নিশ্চিত করেন।
ওসি জানান, গত সোমবার রাত তিনটার দিকে তেলিগাতি এলাকায় ফরহাদের বাড়িতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ফরহাদ ও লাকীকে কোপানোর পর হামলাকারীরা তাদের ঘর থেকে ৬০ হাজার টাকা, ১০ ভরি সোনার গয়না ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়।
ওসি বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি ডাকাতির ঘটনা বলে মনে হচ্ছে। তবে ফরহাদ একজন ব্লগার। তিনি ঢাকায় একটি এনজিওতে চাকরি করেন। ঈদ উপলক্ষে দুদিন আগে বাড়িতে আসেন।
এ ঘটনায় লাকীর ভাই হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে আড়ংঘাটা থানায় একটি দস্যুতার মামলা দায়ের করেছেন।
দুপুরে হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর ফেসবুকে এক পোস্টে ফরহাদও জানিয়েছেন, “মূলত ঘটনাটি ডাকাতি বলেই মনে হচ্ছে।”
মামলার এজাহারে বলা হয়, মুখোশধারী তিন ব্যক্তি রাতে গ্রিল ভেঙে ফরহাদের ঘরে ঢোকে এবং ভয় দেখিয়ে আলমারির চাবি চায়।
চাবি দিতে অস্বীকার করলে তারা ফরহাদ ও লাকীর হাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। পরে তারা টাকা ও গয়না নিয়ে চলে যায়।
ফরহাদ ‘মুক্তচিন্তা ব্লগ’ নামে একটি ব্লগের পাশাপাশি ফেসবুকে লেখালেখি করেন। হামলার ঘটনার পর সকালে ওই ব্লগে একটি পোস্টে লেখা হয়, কোরআনে হাফেজ এবং দাখিল পাস করে ফরহাদ ‘বাংলা লাইনে’ পড়ার জন্য আবার স্কুলে ক্লাস নাইনে ভর্তি হন এবং এসএসসি পাস করেন। খুলনা বিএল কলেজ থেকে এসএসসি পাসের পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোবিজ্ঞানে লেখাপড়া করেন।
পোস্টে আরও বলা হয়, তিনি ধর্মীয় সংস্কারের বিপরীতে বিজ্ঞানমনস্ক লেখালেখি করেন। বিশেষ করে তার আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস ‘নশ্বর জীবনের মিথ’ মাদ্রাসা ও ধর্মীয় শিক্ষার কুফলকে তুলে ধরেছে।
১৯৭১ সালের ১৪ অগাস্ট রাজাকারদের সহায়তায় পাকিস্তানি বাহিনী তার বাবাকে ধরে নিয়ে যায় বলেও জানানো হয় ফেসবুকে।
বিশেষ প্রতিনিধি, খুলনা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


