বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ছাত্রলীগের ৪ নেতাকে বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই চাকরিতে নিয়োগ

Jahangir_nagarছাত্রলীগের বিতর্কিত চার নেতাকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বিভিন্ন পদে নিয়োগ দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বিধি উপেক্ষা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই কর্মকর্তার দুই স্বজন এবং ছাত্রলীগের ওই চার নেতাসহ ছয়জনকে এডহক ভিত্তিতে সোমবার ১৩ জুলাই নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রসঙ্গত, প্রশাসন মঙ্গলবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হলের ১০ দিনের জন্য ঈদের ছুটি ঘোষণা করেছে। এর আগের দিন এই নিয়োগ দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রাজিব চক্রবর্তীকে শিক্ষা শাখার প্রশাসনিক কর্মকর্তা, শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আবু সৈয়দ জিন্নাহকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা, সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল হোসেন ওরফে দীপুকে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সোহেল রানাকে প্রক্টর কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা।

এছাড়া উপাচার্যের কার্যালয়ের সিনিয়র সর্টার মো. সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে মো. আবু হানিফকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং উপাচার্যের একান্ত সচিব মো. ছানোয়ার হোসেনের স্ত্রী তাসনিমা খন্দকারকে ছাত্রকল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের ক্যারিয়ার গাইডেন্স পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করে নানা অভিযোগে অভিযুক্ত ও বিভিন্ন মামলার আসামি ছাত্রলীগের ওই চার নেতার নিয়োগকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। তারা এটাকে উপাচার্যের স্বেচ্ছাচারী আচরণ বলে অভিহিত করেছেন।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রাজিব চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ২০১৩ সালে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ইতিহাস বিভাগে ভর্তি হতে আসা এক শিক্ষার্থীর কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ রয়েছে।

শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আবু সৈয়দ জিন্নাহর বিরুদ্ধে নানা সময়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং ছাত্রলীগের অপর গ্রুপের ওপর হামলার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।

শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল হোসেন দীপুর বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ৯ অক্টোবর সাবেক উপাচার্য আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে।

গত বছরের ২ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রলীগ থেকে তিনি সাময়িক বহিষ্কৃত হন।

গত রবিবার রাতে প্রায় ৩৫ জন শিক্ষক উপাচার্যের বাসভবনে গিয়ে শিক্ষকদের ওপর হামলাকারী এ নেতাকে নিয়োগ না দিতে উপাচার্যকে অনুরোধ করেন। উপাচার্য তাদের কথায় কর্ণপাত করেননি। এ নিয়েও শিক্ষকদের সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।

শাখা ছাত্রলীগের গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সোহেল রানা গত বছর ২৩ নভেম্বর মওলানা ভাসানী হলে ছাত্রলীগের এক পক্ষের ওপর অপর পক্ষের হামলা হয়। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের ১৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মামলা করেন আহত এক ছাত্রলীগকর্মীর বাবা। ছাত্রলীগ নেতা সোহেল রানা এ মামলারও অন্যতম আসামি। মামলাটি এখনো চলছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রভাবশালী শিক্ষক বলেন, ‘উপাচার্য বিজ্ঞপ্তি দিয়েই এ নিয়োগ দিতে পারতেন। ঈদের পর উপাচার্যের এ সব কর্মকাণ্ড নিয়ে কথা বলা হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের বামপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘শিক্ষক মঞ্চ’র মুখপাত্র রায়হান রাইন বলেন, ‘উপাচার্য যা করলেন তা বিশ্ববিদ্যালয় এমনকি তার নিজের জন্যও ভাল হল না। আগে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ঠিক আগের দিন গাছ কাটা হতো। এবার বিতর্কিত নিয়োগ দেওয়া হল। আমরা এর প্রতিবাদ জানাই।’

বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা নিয়োগ কমিটির সভাপতি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. আবুল হোসেন নিয়োগের বিষয়ে বলেন, ‘স্বয়ং উপাচার্য তাদের এডহক ভিত্তিতে নিয়োগ দিয়েছেন। আমি কিছু করিনি।’

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন কল রিসিভ করেননি।

নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন