বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

সৈয়দ আশরাফের জন্য উপ-প্রধানমন্ত্রী পদ!

AshraFআওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদ্য দপ্তর হারানো মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে উপ-প্রধানমন্ত্রী করার একটি প্রস্তাব নিয়ে হঠাৎ করেই জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে অব্যাহতি দেওয়া নিয়ে সৃষ্ট সমালোচনা এবং আশরাফের মনোক্ষুন্ন হয়ে লন্ডন চলে যাওয়া ঠেকাতে এই বিষয়টি আলোচনায় এসেছে বলে আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানায়।

বাংলাদেশের সংবিধানে উপ-প্রধানমন্ত্রী পদ নেই। তবে সরকার চাইলে নিশ্চয়ই সেটা করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। সেক্ষেত্রে সংবিধান সংশোধন করতে হবে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সৈয়দ আশরাফকে ডেকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কথা বলেছেন। ওই বৈঠকের বিষয়ে সরকার বা আওয়ামী লীগের কেউ কিছু না বললেও সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম তার লন্ডনযাত্রা আপাতত পিছিয়েছেন। গত ৯ জুলাই দপ্তর হারানো আশরাফের বুধবার ১৫ জুলাই লন্ডন যাওয়ার কথা ছিলো। ১৪ জুলাই তিনি নতুন মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠানে বঙ্গভবনে যাননি। এরপর রাতে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় গণভবনে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দীর্ঘ সময় একান্তে কথা হয়। এরপরই আশরাফ লন্ডন না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানান।

সরকার এবং আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র বলছে, দু’টি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের যে কোনো একটি বেছে নিতে বলার পাশাপাশি সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে দলের মতো সরকারেও এমন অবস্থানের কথা বলা হয়েছে। যেখানে প্রধানমন্ত্রীর পরেই হবে তার অবস্থান। এই অবস্থান থেকেই ধারণা করা হচ্ছে উপ-প্রধানমন্ত্রী পদ তৈরি করা হতে পারে।

উপপ্রধানমন্ত্রী নামে কোনো পদ সংবিধানে নেই। এমন কোনো মন্ত্রিত্বের উল্লেখও নেই সংবিধানে। তবে সরকার চাইলে নিশ্চয়ই সেটা করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। সেক্ষেত্রে সংবিধান সংশোধন করতে হবে।

সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে এমন ইঙ্গিতে উপপ্রধানমন্ত্রী পদ সৃষ্টি নিয়ে যে আলোচনা তাতে বিশ্লেষকরা ইতিবাচক এবং নেতিবাচক দু’ ধরনের কথাই বলেছেন। এর ফলে দেশ লাভবান হবে এমনটা যেমন অনেকে বলছেন, তেমন অপব্যয়ের আশঙ্কাও করছেন অন্যরা।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের মতে, “প্রধানমন্ত্রী অভিপ্রায় জানালে সেটা হতে আর কতো সময় লাগবে। নতুন পদ তৈরি করতে বা সংবিধান সংশোধনে বেশি সময় হয়তো লাগবে না, কিন্তু কাজটি অনেক বুঝেশুনে করা উচিৎ। আমাদের সংবিধানে অনেকবার পরিবর্তন হয়েছে। সেটা অনেকসময় ব্যক্তিস্বার্থকেই পৃষ্ঠপোষকতা করেছে। তবে আমার মনে হয় সংবিধানে সংশোধন আনতে হলে অনেক ভেবে-চিন্তে তবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিৎ। অলঙ্কারিক একটি পদ দেশের জন্য লাভজনক নয়, বরং ক্ষতিকরই হয়ে উঠবে।”

সুজন সম্পাদক বলেন, “আমাদের প্রধানমন্ত্রীর উপর অনেক দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রীর পদটাতে যিনিই অধিষ্ঠিত থাকুন না কেনো, তিনি একসঙ্গে সরকার প্রধান, অন্যদিকে দলীয় প্রধান আবার একইসঙ্গে সংসদ প্রধানও। এতোসব দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করা নিশ্চয়ই কষ্টকর। দায়িত্ব বণ্টন করলে প্রধানমন্ত্রী কাজের আরো সুযোগ পাবেন। সেটাতো অবশ্যই দেশের জন্য ভালো কিছু হওয়ার কথা”

বিশ্লেষকরা মনে করেন, যেহেতু দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র তাই সেখানে আর এমন পদের দরকার নেই। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থায় যেমন উপ-রাষ্ট্রপতির কোনো আলাদা কাজ ছিলো না, এক্ষেত্রেও সেটাই হবে।

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন