একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের ফোরকান মল্লিকের বিরুদ্ধে মামলার রায় ঘোষণার জন্য তাকে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় হাজির করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে তাকে হাজির করা হয়। গত মঙ্গলবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ রায়ের জন্য এইদিন ধার্য করেছিলেন।
এর আগে গত ১৪ জুন ফোরকানের মামলায় উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণা অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখে ট্রাইব্যুনাল। মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচারে গঠিত দুই ট্রাইব্যুনালে এখন পর্যন্ত ১৯ মামলায় ২১ আসামির বিরুদ্ধে রায় হয়েছে। ফোরকান মল্লিকের রায় হবে ট্রাইব্যুনালের ২০তম ও ট্রাইব্যুনাল-২ এর ১১তম রায়।
প্রসঙ্গত, ফোরকান মল্লিকের বিরুদ্ধে গতবছরের ১৮ ডিসেম্বর হত্যা-গণহত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, ধর্মান্তরকরণ ও দেশান্তরের মতো পাঁচটি অভিযোগ গঠন করা হয়। গত ২৫ জুন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার একটি দল বরিশালের রুপাতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। ৩ জুলাই তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।
গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে ফোরকান মল্লিকের বিচার শুরু হয়। ২০০৯ সালে ২১ জুলাই পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ থানায় আবদুল হামিদ নামের এক ব্যক্তি ফোরকানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর ২০১৪ সালের ২৫ জুন ফোরকানকে বরিশালের রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে গ্রেফতার করে পটুয়াখালীর গোয়েন্দা পুলিশ। ৩ জুলাই ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার গ্রেফতার দেখিয়ে ফোরকান মল্লিককে কারাগারে পাঠান। তার বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত করেন প্রসিকিউশনের তদন্ত কর্মকর্তা সত্যরঞ্জন রায়। ২ ডিসেম্বর ফোরকান মল্লিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২।
প্রসিকিউশনের প্রারম্ভিক বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ১৯ জানুয়ারি শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। প্রসিকিউশনের পক্ষে মোট ১৪ জন সাক্ষ্য দেন। অন্যদিকে ফোরকান মল্লিকের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন চারজন। পরে আসামিপক্ষে আবদুস সালাম খান ও প্রসিকিউটর মোখলেসুর রহমান বাদল আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। বিচারিক কার্যক্রম শেষে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে আসে।
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম


