আজ পবিত্র জুমাতুল বিদা, মাহে রমজানের শেষ শুক্রবার। জুমাতুল বিদার মধ্য দিয়ে মূলত মাহে রমজানকে বিদায় জানানো হয়। মাসজুড়ে রোজা পালন আর ইবাদত-বন্দেগির পর আজ দেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা এই পবিত্র মাসকে বিদায় জানাতে জুমার নামাজে শামিল হবেন। মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত পুণ্যবহ দিন হওয়ায় মসজিদগুলোতে আজ থাকবে মুসল্লির ভিড়। এই দিনের খুতবায় উচ্চারিত হয় ‘আল বিদা, আল বিদা, ইয়া শাহরু রামাদান’। অর্থাৎ বিদায়, বিদায় হে মাহে রমজান। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে জুমাতুল বিদা পালন করেন।ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্র জানায়, আজ জুমাতুল বিদা উপলক্ষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও
শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হবে।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিকভাবে আল-কুদস দিবস পালিত হবে আজ। মুসলমানদের প্রথম কিবলা বায়তুল মুকাদ্দাস দীর্ঘদিন যাবত যায়নবাদী ইয়াহুদিদের দখলে, তা পুনরুদ্ধারের দাবিতে প্রতি বছর রমজানের শেষ শুক্রবার বিশ্বব্যাপী পালিত হয় ‘আন্তর্জাতিক আল-কুদস দিবস’। বায়তুল মুকাদ্দাস হচ্ছে ইসলামের প্রথম কিবলা এবং মক্কা মুআয্যামাহ ও মদিনা মুনাওয়ারার পরে তৃতীয় পবিত্রস্থান।
হযরত রাসূলে করীম (সা.) মক্কার মসজিদুল হারাম, মদিনার মসজিদুন্নবী ও বায়তুল মুকাদ্দাস মসজিদের উদ্দেশ্যে সফরকে বিশেষভাবে সওয়াবের কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বায়তুল মুকাদ্দাস দুনিয়ার জন্য অসংখ্যা ভূখ-ের মত কোনো সাধারণ ভূখ- নয়। এ পবিত্র ঘর থেকেই খাতামুন্নাবীয়ীন হযরত মুহাম্মদ (সা.) মিরাজে গমন করেছিলেন।
বায়তুল মুকাদ্দাস মসজিদ এবং তার আশপাশের এলাকা নবীগণের স্মৃতিবিজড়িত এই পবিত্র নাম শুধু একটি স্থানের সাথে জড়িত নয় বরং এই নাম সকল মুসলমানের ইমান ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এখানে রয়েছে অসংখ্য নবী-রাসূলের মাজার এবং ওহী ও ইসলামের অবতরণস্থল এ নগরী নবীগণের দ্বীন প্রচারের কেন্দ্রভূমি। তাই এ পবিত্র নগরীর প্রতি ভালোবাসা প্রতিটি মুমিনের হৃদয়ের গভীরে গ্রোথিত। পবিত্র মক্কা থেকে পবিত্র মদিনায় রাসূল (সা:) এর হিজরতের পর ১৬ মাসব্যাপী বায়তুল মোকাদ্দাসকে কিবলা করে রাসূল (সা.) নামাজ আদায় করতেন।
রাসূল (সা.)-এর গোপন বাসনা হয় হযরত আদম (আ.) এবং হযরত ইব্রাহিম (আ.) এর তৈরি কাবা শরীফকে কিবলা করা। রাসূল (সা.) একদিন জোহরের নামাজ আদায় করা অবস্থায় এমন ইচ্ছা পোষণ করলে সাথে সাথে কোরআনের আয়াত নাজেল হয় এবং রাসূল (সা.)কে নির্দেশ করা হয় পবিত্র কাবা শরীফকে কিবলা করে নামাজ আদায় করার জন্য।
ফলে রাসূল (সা.) নামাজরত অবস্থায় কিবলা পরিবর্তন করে কাবামুখী হয়ে জোহরের অবশিষ্ট দুই রাকাত নামাজ আদায় করেন। যে মসজিদে রাসূল (সা.) নামাজরত অবস্থায় মহান আল্লাহ তায়ালা কিবলা পরিবর্তন করলেন সে মসজিদের নাম মসজিদে কিবলা তাইন (দুই কিবলা) দুই মিম্বরের সে মসজিদ এখনও বিদ্যমান। সে আমলে মদিনা ছিল ইহুদিদের আদি বাসস্থান। কিবলা পরিবর্তনের কারণে ইহুদিগণ বায়তুল মোকাদ্দাস তৈরিকারী তাদের নবীদের প্রতি অসম্মান করা হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে ইহুদিরা আবু সুফিয়ানের সাথে মিলে রাসূল (সা.) ও ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।
পরবর্তীতে মিশরের স্বৈরশাসক আনোয়ার সাদাত ইহুদিদের সাথে কিং ডেবিড” প্রটৌকল স্বাক্ষর করেন। এ চুক্তি স্বাক্ষরের পর ব্রিটিশ ও আমেরিকার প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপের মধ্যে চলে যায় আল-আকসা অথবা বায়তুল মোকাদ্দাস মসজিদ। তাই ইহুদি ব্রিটিশ ও আমেরিকার প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপের আওতা থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে নিয়ে প্রতিবছর রমজানের শেষ শুক্রবার আল-কুদস দিবস পালিত হয়ে আসছে।
সোয়ালেহীন মিশনসোয়ালেহীন হিউম্যানেটিরিয়ান ওয়েলফেয়ার মিশনের প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারি গতকাল প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বলেন, আল-কুদস বিদসের নামে বছরে একবার কেবল দিবস পালনের মাধ্যমে আল-আকসা মসজিদ তিন পরাশক্তির নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করা যাবে না। আল-আকসা মুক্ত করতে বিশ্ব মুসলিমকে ঐক্যবদ্ধভাবে আরো কঠোর ভূমিকা দ্বারা পরাশক্তিসমূহকে বাধ্য করতে হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম



Leave a Reply