বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত ১৮৫ জেলে পরিবার

imagesপটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নে জেলেরে মাঝে ভিজিএফ’র চাল বিতরনে ওজনে কম দেয়ার অভিযোগে চাল বিতরন বন্ধ করে চালের স্টোর সিলগালা করে দিয়েছে প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার দেউলী ইউনিয়ন পরিষদে ৪০ কেজি করে দুই মাসের চাল একত্রে জেলেদের মধ্যে ৮০ কেজি করে চাল বিতরনের কথা থাকলেও বিতরন করা হয়েছে ৫৫ থেকে ৬০ কেজি করে। চাল বিতরনের সময় ট্যাক অফিসার উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা,ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। ট্যাক অফিসার নিজেই জানেন না যে জেলেদের মধ্যে গতকাল চাল বিতরন করা হবে। এমনকি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে চাল বিতরনের ব্যাপারে অবহিত করেননি ইউপি চেয়ারম্যান। চেয়ারম্যান তার নিজ ক্ষমতাবলে চাল বিতরন করেন।

জানা যায়, দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওই ইউনিয়নে দ্বায়িত্বরত ট্যাক অফিসারকে দায়সারা ভাবে অবহিত করেন। কিন্তু তাকে বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে নিয়োজিত থাকতে হয়। এ সময় চাল বিতরন করেন মেম্বারগন ,মৎস্য জেলে সমিতির ইউনুচ, সাধারন সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর মৃধা এবং চেয়ারম্যানের চাচাতো ভাই পরিষদের অতিরিক্ত সচিব। তারা তাদের ইচ্ছামতো চাল বিতরন করেন বলে জানান জেলেরা।

দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নে ১৮৫ জেলেদের মধ্যে প্রায় ১৫ টন চাল বরাদ্ধ দেয়া হয়। চাল নিতে আসা জেলে মিজানুর রহামন, কামাল হাওরাদার, জাহাঙ্গীর খান, কবিরসহ আরো অনেকে বলেন, সরকার জেলেদের পূর্নবাসনের জন্য এবং মাছ জাটকা ইলিশ সহ মাছ ধরা বিরত থাকায় জেলেদের মধ্যে চাল বরাদ্ধ করেছেন সরকার। কিন্তু চেয়ারম্যার ও মৎস্য সমিতির লোকজন মিলে আমাদের চাল ওজনে কম দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদ করলে চেয়ারম্যানের লোকজন ও সমিতর লোক বলেন যা চাল পেয়েছে ওটাই নিয়ে যায়। না হলে নাম কেটে অন্য জেলের নাম দেওয়া হবে। এই ভয়ে আমরা কিছু বলতে স্হাস পাই না। ৮০ কেজি চালরে পরিবর্তে ৫৫ থেকে ৬০ কেজি চাল পেয়েছি। চেয়ারম্যান মেম্বারদের সব লাগে আমাদের দিবে কি করে। এরকম আরো অনেকে চাল বিতরনে কম দেয়ার অভিযোগ করেন।

জানতে চাইলে দেউলী সুবিদখালী ইউপি চেয়ারম্যান আবদুস সালাম মৃধা চাল বিতরনে কম দেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, জেলেদরে মাঝে চাল বিতরনে ওজনে কম দেওয়া হয়েছে। তবে ৮০ কেজি চালের পরবির্তে জেলে সমিতির সিদ্ধান্ত মতে বাড়তি ১৩ জন জেলেকে চাল দেওয়া হবে বিধায় ৭০ থেকে ৭২ কেজি করে চাল বিতরন করা হয়। ট্যাক অফিসার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, ভাই আমি পটুয়াখালী ট্রেনিং-এ আছি। আমাকে চেয়ারম্যান চাল বিতরনের ব্যাপারে অবহিত করেনি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, জেলেদের মাঝে চাল বিতরনে ওজনে কম দেয়ার কথা শুনে তাৎক্ষনিক ভাবে চাল বিতরন বন্ধ করে দিয়েছি এবং পরিষদের ষ্টোররুম সিলগালা করা হয়েছে। ঈদের পরে বাকী জেলেদের মাঝে চাল বিতরন করা হবে।

সংবাদদাতা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন