বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ঈদে বাড়ি যাননি ৫ ক্রিকেটার

imagesবাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের ঈদের জন্য দু’দিনের ছুটি দেওয়া হয়েছে। তবুও বাংলাদেশ দলের ৫জন ক্রিকেটার রয়ে গেছেন চট্টগ্রামে। এরা হলেন টেস্ট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম, অলরাউন্ডার মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, পেসার রুবেল হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান এবং স্পিনার তাইজুল ইসলাম।

ওয়ানডে সিরিজের পর টেস্ট সিরিজের অপেক্ষা। মাঝে আবার খুশির ঈদ-উল ফিতর। বাধ্য হয়েই তাই টেস্ট দলে থাকা ক্রিকেটারদের পরিবার-পরিজন ছেড়ে ঈদ করতে হচ্ছে চট্টগ্রামে। শুধু তাই নয়, দক্ষিণ আফ্রিকা দলের তিন মুসলিম ক্রিকেটারও এবার চট্টগ্রামে বসে ঈদের আনন্দ উদযাপর করবেন।

বাড়ি না যা্ওয়া পাঁচ ক্রিকেটার ঈদের নামাজ পড়বেন নগরির দামপাড়া পুলিশ লাইন মাঠে। সেখানে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে ঈদের নামাজ পড়বেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক হাশিম আমলা, স্পিনার ইমরান তাহির এবং অলরাউন্ডার ফারহান বেহার্ডিয়েন।

এছাড়া বাংলদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকা দলের কর্মকর্তাদেরও দামপাড়া পুলিশ লাইন মাঠে ঈদের নামাজ পড়ার কথা রয়েছে।

মুশফিক এবং মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ দু’জনই ভায়রা ভাই। দু’জনেরই পরিবার রয়েছে চট্টগ্রামের হোটেল র‌্যাডিসন ব্লুতে। সুতরাং হোটেলে বসেও তারা পরিবারের আমেজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন না। এছাড়া চট্টগ্রামেই বাড়ি দলের ওপেনার তামিম ইকবালের। ঈদের নামাজ শেষে কাজির দেউড়িস্থ তামিম ইকবালের বাসায় মুশফিকদের দাওয়াত।

নামাজ শেষেই তাই ক্রিকেটাররা বেরিয়ে পড়বেন তামিমের বাসার উদ্দেশ্যে। তাদের সঙ্গে যোগ দিতে পারেন দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটাররাও।

তামিমের বাসা থেকে মুশফিক-মাহমুদুল্লাহ-মুস্তাফিজদের যাওয়ার কথা রয়েছে বিসিবির সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাসিরের বাসায়।

মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ-মুস্তাফিজদের ঈদ কাটছে হোটেলে, চার দেয়ালের মাঝে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পা দিয়েই হইচই ফেলে দিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। ৬ ওয়ানডেতে ১৮ উইকেট নেওয়া মুস্তাফিজের স্বপ্নের সীমানা এখন বিস্তৃত। পুরস্কার হিসেবে ডাক পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট স্কোয়াডেও। এ কারণে ছুটি মেলেনি মুস্তাফিজের। ঈদ কাটাচ্ছেন চট্টগ্রামেই। দেশে আছেন, অথচ গ্রামের বাড়িতে ঈদ করা হচ্ছে না, মুস্তাফিজের জীবনে এমনটা ঘটল এই প্রথম। বাবা-মা, ভাই-বোন, আত্মীয়-পরিজন ছেড়ে ঈদ করতে একটু খারাপই লাগছে মুস্তাফিজের। বললেন, ‘খেলতে গিয়ে বিদেশে ঈদ করা হয়েছে। দেশের ভেতরে আছি কিন্তু গ্রামের বাড়ির বাইরে এই প্রথম ঈদ করতে হচ্ছে। খারাপ তো লাগারই কথা। কিন্তু কী আর করা!’

জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার পর প্রথম ঈদ। ঈদের আনন্দটা ভিন্ন ভাবেই ধরা দেওয়া কথা। কিন্তু সেটা আর হচ্ছে কোথায়! কেমন কাটছে সময়, জিজ্ঞেস করতেই উচ্ছ্বাসহীন কণ্ঠে মুস্তাফিজের উত্তর, ‘ঈদ আর কীভাবে কাটবে? ওটা না শোনাই ভালো। এই কাটছে আর কী! হোটেলেই সময় কাটছে। বাইরে কোথাও বের হয়নি। কোথায় যাওয়ার পরিকল্পনাও নেই।’

বয়সের কারণে হয়তো আবেগের দুয়ারে বাঁধ দেওয়াটা কঠিনই হচ্ছে মুস্তাফিজের। তবে ক্রিকেটীয় ভাবনায় বেশ পরিণতের ছাপ। বললেন, ‘সামনে টেস্ট, নতুন চ্যালেঞ্জ। আপাতত টেস্টেই মনোযোগ। দেখা যাক কী হয়।’ টেস্টে মুস্তাফিজের অভিষেক যদি হয়েই যায়, আর ক্রিকেটের বড় সংস্করণেও যদি নিজেকে ওয়ানডের মতো মেলে ধরতে পারেন, নিশ্চয় ঈদের অপূর্ণ আনন্দটা শতভাগ পুষিয়ে নিতে পারবেন।

টেস্ট স্কোয়াডে থাকা কয়েকজন দুদিনের ঈদ ছুটি কাটাচ্ছেন নিজেদের মতো করে। অাবার কেউ কেউ মুস্তাফিজের মতো ঈদ কাটাচ্ছেন হোটেলের চার দেয়ালের মাঝে। তবে সময়টা যে পরিপূর্ণ উপভোগ্য হচ্ছে না, বিশ্বকাপে বাংলাদেশের নায়ক মাহমুদউল্লাহর জবাবে বোঝা গেল, ‘এই তো সময় কাটছে মোটামুটি। নামাজ পড়ে রুমেই আটকা। কোথাও বের হইনি। বিকেলে বা সন্ধ্যায় কোথাও ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা নেই।’

ওয়ানডে স্কোয়াডে ছিলেন কিন্তু টেস্টে নেই এমন কয়েকজন খেলোয়াড় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচ খেলেই চলে গিয়েছেন নিজ নিজ বাড়িতে। এ দলে রয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা-সাব্বির রহমান-আরাফাত সানিরা। বাংলাদেশ দলের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাশরাফি ঈদ করেছেন নড়াইলে নিজ বাড়িতে। তবে বৃষ্টির কারণে কেউ কেউ ঘরবন্দী থেকেই ঈদ করছেন। স্পিনার আরাফাত সানি বললেন, ‘বৃষ্টির মধ্যে ঘরে আটকা ভাই। এ বৃষ্টিতে কোথাও বেরোনোর পরিকল্পনা করিনি এখনো। দেখা যাক কী হয়। টেস্টের দলে যারা আছে, ওরাও হোটেলে আটকা। কিছু করার নেই। সবাই দেশের হয়ে খেলছে। সবার আগে দেশ, তাই না?’

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন